ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার ‘বিদ্যাসাগর শিক্ষাসম্মান’ অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “মোবাইল স্কুলপড়ুয়াদের মধ্যে ভয়ঙ্কর প্রভাব ফেলছে। গুজরাতে দেখুন প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত মোবাইল ফোন হাত দিতে দেওয়া হয় না।” যদিও পরে তিনি জানান, পরিবারের দায়িত্ব এক্ষেত্রে বেশি এবং সব বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ উচিত নয়।
ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। শিক্ষকমহলের একাংশের মতে, বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়। কারণ শিক্ষা থেকে শুরু করে সরকারের বিভিন্ন পরিষেবা ও প্রকল্প এখন ক্রমশ অ্যাপনির্ভর এবং ডিজিটাল হয়ে উঠছে। ফলে প্রয়োজনীয় কাজের জন্য মোবাইল ফোনের ব্যবহার অনেক ক্ষেত্রেই অপরিহার্য। পাশাপশি পড়াশোনা যে ভাবে 'স্মার্ট' হচ্ছে সেখানে মোবাইলের ব্যবহার বন্ধ করা সম্ভব নয়।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমরা দাবি করেছিলাম, ট্যাব দেয়াটা বন্ধ করা হোক। এতে মোবাইল-আসক্তি বাড়ছে বলে আমরা মনে করি। সরকারের এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ করা উচিত।”
অল পোস্ট গ্রাজুয়েট টিচার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন-এর চন্দন গড়াই বলেন, “পড়ুয়াদের এই ট্যাব দেওয়া বন্ধ করা উচিত। বক্তব্যকে স্বাগত জানাই।”
যদিও শিক্ষামহলের একাংশের দাবি, মোবাইল ফোনের প্রয়োজনীয় ব্যবহার এবং অতিরিক্ত ব্যবহারের মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমারেখা তৈরি করা জরুরি। বিশেষ করে পড়ুয়াদের ক্ষেত্রে কী ভাবে মোবাইল ব্যবহারের সময় নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণের পাশাপাশি তার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ছাত্রছাত্রীদের দূরে রাখা যায়, সেই প্রশ্নই এখন সামনে আসছে।
বিভিন্ন গবেষণাতেও দেখা গিয়েছে, অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার পড়াশোনা ও শিক্ষাগত সাফল্যের সঙ্গে নেতিবাচক সম্পর্ক তৈরি করতে পারে। তবে প্রযুক্তির শিক্ষামূলক ব্যবহার এবং অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মধ্যে পার্থক্য করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের মোবাইল ব্যবহারের সময় ও পদ্ধতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বা শিক্ষা দফতরের কোনও নির্দিষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে কি না, তা নিয়েও আগ্রহ বাড়ছে।