Advertisement
E-Paper

বিজ্ঞানে আগ্রহ থাকলেই চিকিৎসক বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে! পেশাজীবনে অন্য অনেক দিকেই সফল হতে পারে পড়ুয়া

জীববিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন বা গণিত নিয়ে পড়ার পরেও এমন অনেক পেশার সুযোগ রয়েছে, যেখানে গবেষণা, প্রযুক্তি, পরিবেশ, তথ্য বিশ্লেষণ, মনস্তত্ত্ব বা সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যায়। প্রয়োজন নিজের আগ্রহ, দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী সঠিক বিষয় বেছে নেওয়া।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৩৬
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

দ্বাদশ শ্রেণিতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করলেই যে চিকিৎসক বা ইঞ্জিনিয়ার হতে হবে, এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। জীববিজ্ঞান, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন বা গণিত নিয়ে পড়ার পরেও এমন অনেক পেশার সুযোগ রয়েছে, যেখানে গবেষণা, প্রযুক্তি, পরিবেশ, তথ্য বিশ্লেষণ, মনস্তত্ত্ব বা সৃজনশীল কাজের সঙ্গে যুক্ত হওয়া যায়। প্রয়োজন নিজের আগ্রহ, দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা অনুযায়ী সঠিক বিষয় বেছে নেওয়া।

কোন কোন বিকল্প কেরিয়ার বেছে নিতে পারেন বিজ্ঞান বিভাগের পড়ুয়ারা?

১। গবেষণা ও মৌলিক বিজ্ঞান

পদার্থবিদ্যা, রসায়ন, গণিত বা জীববিজ্ঞানে আগ্রহ থাকলে মৌলিক বিজ্ঞানে স্নাতক স্তরের কোর্স করতে পারেন পড়ুয়ারা। পরবর্তী সময়ে স্নাতকোত্তর ও গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানী, গবেষক বা শিক্ষাকর্মী হওয়ার পথ খুলতে পারে। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে এই বিষয়ে পড়াশোনা এবং গবেষণার সুযোগ রয়েছে। গবেষণার ক্ষেত্রে ধৈর্য, বিশ্লেষণী ক্ষমতা এবং নিয়মিত পড়াশোনার অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ।

২। বায়োটেকনোলজি ও মাইক্রোবায়োলজি

জীববিজ্ঞান নিয়ে আগ্রহী পড়ুয়ারা বায়োটেকনোলজি, মাইক্রোবায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি বা জেনেটিক্সের মতো বিষয় বেছে নিতে পারেন। এই ক্ষেত্রগুলিতে জীবের গঠন ও কার্যকলাপ, অণুজীব, জিন এবং বিভিন্ন জৈবপ্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে পড়ানো হয়। ওষুধ ও খাদ্যশিল্প, গবেষণাগার, কৃষি প্রযুক্তি এবং জৈবপ্রযুক্তি সংস্থায় কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে অনেক গবেষণামূলক পদের জন্য স্নাতকোত্তর যোগ্যতার প্রয়োজন হয়।

৩। পরিবেশবিজ্ঞান ও ভূবিজ্ঞান

পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রাকৃতিক সম্পদ বা পৃথিবীর গঠন নিয়ে আগ্রহ থাকলে পরিবেশবিজ্ঞান, ভূবিজ্ঞান, ভূগোল কিংবা সমুদ্রবিজ্ঞানের মতো বিষয় পড়া যায়। পরিবেশ সংক্রান্ত প্রকল্প, দূষণ পর্যবেক্ষণ, প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং গবেষণার ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে। সরকারি বিভাগ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পরামর্শদাতা সংস্থা ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থায় এই ধরনের পেশার সুযোগ তৈরি হতে পারে। কোন পদে কী যোগ্যতা প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট সংস্থার বিজ্ঞপ্তি থেকে জানা যায়।

৪। ডেটা সায়েন্স ও পরিসংখ্যান

গণিত ও যুক্তি দিয়ে সমস্যা সমাধান করতে ভাল লাগলে পরিসংখ্যান, ডেটা সায়েন্স বা কম্পিউটিং সংক্রান্ত বিষয় বিবেচনা করতে পারেন পড়ুয়ারা। বিভিন্ন সংস্থা বিপুল পরিমাণ তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য বা প্রযুক্তি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেয়। এই কাজে ডেটা অ্যানালিস্ট, পরিসংখ্যানবিদ কিংবা ডেটা সায়েন্সের সঙ্গে যুক্ত পেশার সুযোগ রয়েছে। তবে কোর্স অনুযায়ী গণিত, পরিসংখ্যান ও কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ের দক্ষতা প্রয়োজন হতে পারে।

৫। মনস্তত্ত্ব ও কগনিটিভ সায়েন্স

মানুষের আচরণ, চিন্তাভাবনা ও শেখার প্রক্রিয়া সম্পর্কে আগ্রহ থাকলে মনস্তত্ত্ব নিয়ে পড়ার কথা ভাবা যায়। স্নাতক স্তরে মনস্তত্ত্ব পড়ে পরে উচ্চশিক্ষার মাধ্যমে গবেষণা, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা বা কাউন্সেলিংয়ের মতো ক্ষেত্রে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির মতো নিয়ন্ত্রিত পেশায় কাজ করতে হলে নির্দিষ্ট স্বীকৃত যোগ্যতা ও নথিভুক্তির নিয়ম মানতে হয়।

৬। ফরেনসিক সায়েন্স

অপরাধ তদন্তে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগ নিয়ে আগ্রহ থাকলে ফরেনসিক সায়েন্স একটি বিকল্প হতে পারে। এই বিষয়ে অপরাধস্থল থেকে পাওয়া নমুনা, আঙুলের ছাপ, নথি, রাসায়নিক উপাদান বা অন্যান্য প্রমাণ পরীক্ষা করার পদ্ধতি শেখানো হয়। ফরেনসিক পরীক্ষাগার, তদন্তে সহায়তাকারী সংস্থা এবং গবেষণার ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ রয়েছে। তবে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ডিগ্রি, বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ ও অন্যান্য শর্ত থাকতে পারে।

৭। ডিজ়াইন, বিজ্ঞান যোগাযোগ ও অন্যান্য ক্ষেত্র

বিজ্ঞান নিয়ে পড়লেও সৃজনশীল পেশায় যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। বিজ্ঞান বিষয়ক সাংবাদিকতা, বিজ্ঞান যোগাযোগ, শিক্ষামূলক কনটেন্ট তৈরি, বৈজ্ঞানিক চিত্রাঙ্কন বা প্রযুক্তিভিত্তিক ডিজ়াইনের মতো ক্ষেত্রে কাজ করা যায়। এ ছাড়া ফুড সায়েন্স, পুষ্টিবিজ্ঞান, অ্যাকচুয়ারিয়াল সায়েন্স এবং বিভিন্ন প্রয়োগমূলক বিজ্ঞানের বিষয়ও বিবেচনা করতে পারে পড়ুয়ারা। তবে প্রতিটি কোর্সের যোগ্যতা ও ভর্তি পদ্ধতি আলাদা।

কোর্স বাছবেন কী ভাবে?

কোনও বিষয় বেছে নেওয়ার আগে নিজের পছন্দ, প্রয়োজনীয় বিষয়ভিত্তিক যোগ্যতা, কোর্সের মেয়াদ, খরচ, উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং ভবিষ্যৎ কর্মক্ষেত্র সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া জরুরি। শুধু চাকরির সম্ভাবনা দেখে নয়, কোন ধরনের কাজ করতে ভাল লাগে এবং সেই কাজে প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনে আগ্রহ রয়েছে কি না, সেটাও বিবেচনা করা উচিত। বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার পর কেরিয়ারের পথ একাধিক। নিজের আগ্রহ ও যোগ্যতার সঙ্গে মানানসই বিষয় বেছে নিলেই বিকল্প পেশার দিকে এগোনো সম্ভব।

Admission

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy