চিকিৎসক বিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর পড়ার প্রবেশিকা নিট পিজি-র পরিচালন প্রক্রিয়া নিয়ে ‘অসন্তুষ্ট’ সুপ্রিম কোর্ট। দেশের শীর্ষ আদালত প্রশ্ন তুলেছে, ওই পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে পরীক্ষার্থীদের জন্য যখন সম্ভাব্য সঠিক উত্তরের তালিকা বা ‘আনসার কি’ প্রকাশ করা হয়, তখন প্রশ্নপত্রটি প্রকাশ করা হয় না কেন? প্রশ্ন ছাড়া পরীক্ষার্থীরা উত্তর বুঝবেন কী ভাবে? আদালত ওই প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি স্পষ্ট ভাবেই জানিয়েছে, পরীক্ষার আয়োজনকারী বোর্ডের ওই নীতি সন্তোষজনক বলে মনে হয়নি তাঁদের।
নিট পিজি পরীক্ষার আয়োজন করে ন্যাশনাল বোর্ড অফ এগ্জ়ামিনেশনস ইন মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এনবিইএমএস)। সুপ্রিম কোর্ট সেই বোর্ডকেই প্রশ্ন করেছে, যেখানে দেশের অন্যান্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরে প্রশ্নপত্র এবং সম্ভাব্য উত্তর উভয়ই প্রকাশ করা হয়, সেখানে এনবিইএমএস-এর নিয়ম-নীতি আলাদা কেন হবে? এ ব্যাপারে এনবিইএমএস-এর কাছে লিখিত জবাব চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
সোমবার নিটপিজি সংক্রান্ত বেশ কিছু আবেদনের শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। আবেদন করেছিল ডেমোক্র্যাটিক মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন। তাদের আর্জি ছিল, নিট পিজি পরীক্ষা হওয়ার পরে ওএমআর শিট নির্দিষ্ট লগইন অ্যাকাউন্টে আপলোড করতে হবে। সেই সঙ্গে প্রশ্নপত্র এবং তার সংশ্লিষ্ট আনসার কি পরীক্ষা শেষ হওয়ার অনতিবিলম্বে প্রকাশ করতে হবে।
অ্যাসোসিয়েশনের তরফে সিনিয়র অ্যাডভোকেট শিখিল সুরি জানিয়েছিলেন, পরীক্ষার পরে শুধু প্রশ্নপত্রের একটি মাস্টার সেট প্রকাশ করে এনবিইএমএস, কিন্তু যে সমস্ত প্রশ্নপত্রের সেট পরীক্ষার্থীদের দেওয়া হয়েছিল, তা জানানো হয় না। বদলে শুধু প্রশ্নের নম্বর এবং আনসার কি প্রকাশ করে বোর্ড। যেহেতু এই ধরনের পরীক্ষায় প্রশ্নের একাধিক সেট হয় এবং তার উত্তরের বিকল্পও বদলে যায়, তাই শুধু প্রশ্নের নম্বর এবং আনসার কি দেওয়া হলে উত্তর মেলানো সম্ভব হয় না। এই মর্মেই সঠিক সেটের প্রশ্নপত্র এবং আনসার কি প্রকাশ করার আর্জি জানানো হয় সুপ্রিম কোর্টে। আদালত সেই আবেদন শোনার পরেই অসন্তোষ প্রকাশ করে নিট পিজি পরীক্ষার পরিচালন পদ্ধতি নিয়ে।
তবে আদালতে স্বপক্ষে যুক্তি দিয় এনবিইএমএস-এর আইনজীবী বলেন, ‘‘নিট পিজি পরীক্ষা চিকিৎসার কয়েক স্তর উপরের পড়াশোনা নিয়ে কাজ করে। আর তাদের প্রশ্নের ধরন সীমিত। ওই সব প্রশ্ন দেশের চিকিৎসা বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা তৈরি করেন। ওই প্রশ্ন তাই দেশের জাতীয় সম্পদ। তাই আমরা যদি বছরের পর বছর প্রশ্নগুলি প্রকাশ করতে শুরু করি তবে ৫-৬ বছরে প্রায় সমস্ত প্রশ্নই বাইরে বেরিয়ে যাবে।’’ এনবিএমএস-এর আইনজীবী যুক্তি দিয়েছেন, যদি প্রশ্নপত্র এ ভাবে প্রকাশিত হয়ে যায় তবে দেশের ভবিষ্যতের চিকিৎসকেরা আর সবিস্তার পড়াশোনা করবেন না। তাঁরা শুধু ওই কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর পড়েই পরীক্ষায় উতরে যাওয়ার চেষ্টা করবেন। এনবিইএমএস বলেছে, ‘‘এ জন্যই আমরা চাই না, প্রশ্নপত্র বাইরে আসুক।’’
এনবিইএমএস-এর আইনজীবী আদালতকে এ কথাও জানিয়েছেন যে, এমস-ও এই একই ভাবে প্রশ্নপত্র গোপন রাখে। অন্যান্য দেশেও একই নিয়ম চালু আছে। যদিও সুপ্রিম কোর্ট বোর্ডের যুক্তি মানতে চায়নি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি অলোক আরাধের বেঞ্চে শুনানি চলছিল আবেদনটির। বেঞ্চ বলেছে, ‘‘অন্য দেশে কী ভাবে পরীক্ষা হয়, তার সঙ্গে এদেশের পরীক্ষা ব্যবস্থার তুলনা চলে না। এনবিইএমএস-কে লিখিত ভাবে আরও বিশদে এবং যুক্তিসহকারে জানাতে হবে ঠিক কী কী কারণে অন্য প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষার নিয়ম তারা মানবে না। আর কী ভাবেই বা নিট পিজি-র প্রশ্নপত্র প্রকাশ করা হলে বিষয়টি পরীক্ষার মর্যাদা হানি ঘটাবে।’’