একটি মাত্র সর্বভারতীয় পরীক্ষা নয়, চিকিৎসা বিজ্ঞানের ডিগ্রি বা এমবিবিএস-এ ভর্তির প্রক্রিয়া হোক রাজ্যনিরীখে আলাদা আলাদা ভাবে। যেমনটা হতো ২০১৭ সালের আগে, নিট পূর্ববর্তী সময়ে। এমনই প্রস্তাব জমা পড়ল সরকার গঠিত উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স (এইচপিটিএফ)-এর কাছে। যে কমিটি গঠিত হয়েছে দেশের সামগ্রিক পরীক্ষা ব্যবস্থার উন্নতি সাধনের জন্য।
নিট-এর প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে ছাত্র আন্দোলনের পরে কেন্দ্রীয় সরকারে তৈরি ওই কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন ইনফোসিসের সহ-প্রতিষ্ঠাতা নন্দন নিলেকানি। এ ছাড়া প্যানেলে সদস্য হিসাবে রয়েছেন প্রাক্তন ইসরো চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে প্রাক্তন গোয়েন্দা প্রধান, প্রাক্তন শিক্ষাসচিব, আইআইটি অধিকর্তাও। তাঁদের কাছেই চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রবেশিকা নিয়ে প্রস্তাবটি পেশ করেছে তামিলনাড়ুর সরকারি শিক্ষা বিষয়ক সংগঠন এসপিসিএসএস-টিএন।
প্রস্তাবে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ুতে এর আগে চিকিৎসায় স্নাতক স্তরে ভর্তি নেওয়া হত দ্বাদশের বোর্ডের পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্র-ছাত্রীদের প্রাপ্ত নম্বরের ভিত্তিতে। চিকিৎসা নিয়ে পড়ার জন্য আলাদা কোনও প্রবেশিকা হত না। তামিলনাড়ুর ওই শিক্ষা সংগঠন কেন্দ্রীয় কমিটিকে বলেছে, সেই প্রক্রিয়াতেই আবার ফিরে যাওয়া হোক। এমবিবিএস-এর যে সর্বভারতীয় কোটার আসনগুলি রয়েছে, তা পূরণ করার জন্য তামিলনাড়ুর নিজস্ব নরমালাইজেশন পদ্ধতি মেনে ভর্তি নেওয়া হোক।
তামিলনাড়ুর এই সংগঠন তাদের প্রস্তাবে প্রশ্ন তুলেছে একটি মাত্র কেন্দ্রীয় সংস্থার হাতে এমবিবিএসে ভর্তির নিয়ন্ত্রণ থাকা নিয়েও। তারা বলেছে, স্বাস্থ্যকর শিক্ষা ব্যবস্থায় বিকেন্দ্রীকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু এতে বিকেন্দ্রীকরণ বিঘ্নিত হচ্ছে। তাতে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের সুযোগও সংকুচিত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে প্রস্তাবে। এই মর্মে তামিলনাড়ুর ওই সংগঠন এমন প্রস্তাবও দিয়েছে যে, নিট-এর আয়োজক সংস্থা এনটিএ বা ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সিকে সম্পূর্ণ ভেঙে দেওয়া হোক। যদিও ওই সব দাবি বা প্রস্তাবনার কোনওটিই এখনও পর্যন্ত টাস্ক ফোর্স গ্রহণ করেনি।
এমন প্রস্তাব কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে প্রথমবার এল তা নয়। ২০১০ সালে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ডিগ্রি পাওয়ার সর্বভারতীয় পরীক্ষা নিট–এর ঘোষণা করার পর থেকেই আপত্তি উঠতে শুরু করে। সেই সব পেড়িয়েই ২০১৩ সালে নিট পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। সেই পরীক্ষা নিয়েছিল সিবিএসই। তবে নানা আপত্তির জেরে তারপরে বন্ধও হয়ে যায় নিট। ২০১৭ সালে আবার চিকিৎসা বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সর্বভারতীয় যোগ্যতা নির্ণায়ক পরীক্ষা হিসাবে শুরু হয় নিট। তখনও তামিলনাড়ু নিট থেকে অব্যাহতি চেয়েছিল। প্রায় সেই একই সময়ে নিট-এর বিরোধিতা করে নিজস্ব পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখতে চেয়েছিল দক্ষিণের আরও চার রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলঙ্গানা এবং কর্নাটক। যদিও সেই সব বিরোধিতাকে গুরুত্ব না দিয়েই নিট বাধ্যতামূলক হয় এবং ২০১৮-১৯ সালে নিট পরীক্ষার আয়োজক হিসাবে গঠিত হয় এনটিএ। পরবর্তী ৯ বছরে নিট ইউজি পরীক্ষা প্রক্রিয়ায় কোনও বদল আসেনি। তবে গত তিন বছরে দু’বার প্রশ্নফাঁস এবং দেশজুড়ে পুনঃপরীক্ষার ও তজ্জনিত নানা অপ্রিয় পরিস্থিতির পরে যখন কেন্দ্রীয় সরকার সর্বভারতীয় পরীক্ষা পদ্ধতিকে ঢেলে সাজার জন্য কমিটি তৈরি করেছে, তখন তামিলনাড়ুর ওই প্রস্তাব তাদের নতুন করে ভাবায় কি না, সে দিকে গোটা দেশেরই নজর থাকবে।