শিক্ষকদের টেট-কাঁটা তুলতে এ বার সক্রিয় হল তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী তলপতি বিজয়ের সরকার। দেশের প্রাথমিক এবং উচ্চপ্রাথমিক শিক্ষকদের টেট পাশ করতে হবে বলে যে নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট, তা থেকে ছাড় চেয়ে একটি বিশেষ প্রস্তাব পেশ করেছে তামিলনাড়ুর সরকার। তাতে বলা হয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকার যেন আইন সংশোধন করে শিক্ষকদের ওই বিড়ম্বনার হাত থেকে মুক্তি দেয়। না হলে সে রাজ্যের ৩,২৮,৭০১ শিক্ষকের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হতে পারে।
শুধু তামিলনাড়ু নয়, সরকারি প্রাথমিক এবং উচ্চপ্রাথমিক স্কুলের শিক্ষকদের টেট দেওয়া বাধ্যতামূলক হওয়ার পর থেকে দেশের অন্য রাজ্যগুলিতেও টেট পূর্ববর্তী সময়ে নিযুক্ত শিক্ষকদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভয় ও দুশ্চিন্তা শুরু হয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম পশ্চিমবঙ্গ। সব মিলিয়ে গোটা দেশে ৩৩ লক্ষ শিক্ষকের টেট যোগ্যতা নেই বলে জানিয়েছে সরকার। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের পাশে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রের কাছে দরবার করেছে তামিলনাড়ু।
তলপতির সরকার বিধানসভায় একটি প্রস্তাব পাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে, ২০১০ সালের ২৩ অগস্টের আগে যে সমস্ত শিক্ষক প্রাথমিক বা উচ্চপ্রাথমিকে শিক্ষকতার জন্য নিযুক্ত হয়েছেন, তাঁদের টেট দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থেকে মুক্তি দেওয়া হোক। এঁদের অনেকেই ১৫-২০ বছর শিক্ষকতা করছেন। এখন টেট পরীক্ষা দিয়ে যদি কোনও ভাবে পাশ করতে না পারেন, তবে এত বছরের কাজের জন্য প্রাপ্য যে সরকারি সুযোগসুবিধা, তা থেকে বঞ্চিত হবেন তাঁরা। এই মর্মে কেন্দ্রীয় সরকারের কাছে তামিলনাড়ু সরকার আর্জি জানিয়েছে, ২০০৯ সালের শিক্ষার অধিকার আইনের ২৩ ধারায় সংশোধন এনে, যেন ওই শিক্ষকদের টেট পরীক্ষায় বসার নির্দেশ থেকে ছাড় দেয় সরকার।
শিক্ষার অধিকার আইন, আরটিই ২০০৯ এবং এনসিটিই ২০১০-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য টেট পাশ করা ন্যূনতম এবং বাধ্যতামূলক যোগ্যতা। ওই আইন ২০১০ সালের ১ এপ্রিল বলবৎ হয়। পশ্চিমবঙ্গ-সহ কিছু রাজ্যে শিক্ষকদের যোগ্যতা সংক্রান্ত ওই আইন চালু হয় ২০১১ সালের মাঝামাঝি সময়ে। ফলে তার আগে নিযুক্ত শিক্ষকেদের কেউই টেট উত্তীর্ণ নন। সমস্যার শুরু হয়, ২০২৫ সালে সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পরে। আদালত জানিয়ে দেয়, দেশজুড়ে প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকেরা যে সালেই নিযুক্ত হোন না কেন, তাঁদের টেট পাশ করতে হবে ২০২৭ সালের ৩১ অগস্টের মধ্যে। গত মে মাসে সেই সময়সীমা এক বছর বাড়লেও সুপ্রিম কোর্ট শিক্ষকদের যোগ্যতা নিরূপণের ওই পরীক্ষা থেকে ছাড় দেয়নি। তলপতির সরকার তাই এ বার কেন্দ্রীয় সরকারের দ্বারস্থ হল শিক্ষকদের অধিকার চেয়ে।
অবশ্য তামিলনাড়ু সরকার এমন প্রস্তাব দিলেও অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার ইতিমধ্যেই ২০১১ সালের আগে নিযুক্ত শিক্ষকদের জন্য বিশেষ টেট পরীক্ষার আয়োজন করেছে। সে ক্ষেত্রে তামিলনাড়ুর প্রস্তাব যদি সরকার সত্যিই ভেবে দেখে, তবে কি পশ্চিমবঙ্গ এবং অন্যান্য রাজ্যের ক্ষেত্রেও তা প্রয়োগ করা যাবে? সেই প্রশ্নও থেকে যাচ্ছে।