শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও সার্বিক সুস্থতা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। এ বার কাউন্সিল ফর দ্য ইন্ডিয়ান স্কুল সার্টিফিকেট এগ্জ়ামিনেশনস-এর (সিআইএসসিই) উদ্যোগে বিশেষ কর্মসূচি পালিত হতে চলেছে। ‘সিআইএসসিই স্টুডেন্ট মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ওয়েল-বিং কনক্লেভ ২০২৬’ নামে ত্রিস্তরীয় এই কর্মসূচিতে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির প্রায় ১৬ লক্ষ পড়ুয়া, ৩২ হাজারের বেশি শিক্ষক এবং সিআইএসসিই-র অধীন ৩,৩০০-রও বেশি স্কুল যোগ দেবে।
আগামী ১০ অক্টোবর বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষেই এই কর্মসূচির সূচনা হবে। সিআইএসসিই-র মুখ্য কার্যনির্বাহী আধিকারিক ও সচিব জোসেফ ইমানুয়েল জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্ন উদ্যোগ বা মাঝে মধ্যে আলোচনা করে পড়ুয়াদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। বরং স্কুলে এমন পরিবেশ থাকা দরকার, যা পড়ুয়াদের সাহায্য করবে। পড়ুয়াদের কথা মন দিয়ে শোনা এবং তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
কর্মসূচির প্রথম ধাপে ৪ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত স্কুল স্তরে মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা নিয়ে আলোচনা হবে। প্রতি সপ্তাহে শ্রেণি কক্ষে চারটি নির্দিষ্ট বিষয় নিয়ে পড়ুয়াদের সঙ্গে আলোচনা করবেন শিক্ষকেরা। বিষয়গুলির মধ্যে রয়েছে পড়াশোনার চাপ ও মানসিক উদ্বেগ, আবেগগত সুস্থতা ও ডিজিটাল জীবন, ইতিবাচক সম্পর্ক, মাদক ও নেশা থেকে দূরে থাকা, স্বাস্থ্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণ, মানসিক দৃঢ়তা এবং প্রয়োজনে সাহায্য চাওয়ার অভ্যাস।
এই আলোচনার মাধ্যমে পড়ুয়াদের অভিজ্ঞতা ও মতামত সংগ্রহ করা হবে। একই সঙ্গে স্কুলে পারস্পরিক সহমর্মিতা, মন দিয়ে শোনা এবং সহপাঠীদের পাশে থাকার পরিবেশ গড়ে তোলার উপরও জোর দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
দ্বিতীয় ধাপে ৪ থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত ১৮টি অঞ্চলে অনলাইনে আঞ্চলিক মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতা সম্মেলন আয়োজন করা হবে। স্কুল থেকে নির্বাচিত পড়ুয়া প্রতিনিধি এবং শিক্ষক পরামর্শদাতারা এই পর্যায়ে যোগ দেবেন। স্কুল স্তরে পাওয়া মতামত পর্যালোচনার পাশাপাশি জাতীয় পর্যায়ের জন্য পড়ুয়া নির্বাচনও করা হবে।
তৃতীয় ও চূড়ান্ত ধাপে ২০ থেকে ২২ নভেম্বর হায়দরাবাদে সিআইএসসিই-র সেন্টার অব এক্সেলেন্সে জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। ১৮টি অঞ্চল থেকে ৭২ জন পড়ুয়া এবং ১৮ জন শিক্ষক পরামর্শদাতা এই সম্মেলনে যোগ দেবেন। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন মানসিক স্বাস্থ্য ও নীতি বিশেষজ্ঞ, সিআইএসসিই-র আধিকারিক এবং সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে সিআইএসসিই-এর কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে একটি শ্বেতপত্র তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে। সিআইএসসিই-র বক্তব্য, শুধু সচেতনতা তৈরি নয়, পড়ুয়াদের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে কার্যকর সুপারিশ ও স্কুল-স্তরের পরিবর্তনের পথ তৈরি করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে এই সম্মেলনকে দু’বছর অন্তর আয়োজনের কর্মসূচিতেও পরিণত করার কথা ভাবছে কাউন্সিল।