Advertisement
E-Paper

‘রাখালদা’-র প্রাচীন ক্যান্টিন নতুন রূপে খুলছে বৃহস্পতিবার, আপ্লুত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী পবিত্র সরকার ও রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত

এ বার ক্যান্টিনের নাম রাখা হবে, ‘রাখালদার কেপেবল’। প্রণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও ডাউন সিনড্রোম ও অটিজ়ম বিষয়ের গবেষক সুজয় ঘোষ প্রথমে ওই ক্যান্টিন ফের চালু করার কথা ভাবেন।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ অগস্ট ২০২৬ ১৮:০৪

গ্রাফিকঃ আনন্দবাজার ডট কম।

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ফের খুলছে ‘রাখালদার ক্যান্টিন’। বৃহস্পতিবার থেকে সেখানে নতুন হাতে শুরু হবে খাবার পরিবেশন।

গত শতাব্দীর পঞ্চাশ-ষাটের দশক থেকে শুরু করে একবিংশ শতকের প্রথম দশকেও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসে রাখালদার ক্যান্টিন ছিল ‘নস্টালজিয়া’। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, ২০০৭ সালে রাখালদা মারা যাওয়ার পর থেকে ধীরে ধীরে বন্ধই হয়ে যায় ওই ক্যান্টিন। স্মৃতিমেদুর এক যুগের অবসান হয়।

এ বার ডাউন সিনড্রোম এবং অটিজ়মযুক্ত তরুণ-তরুণীরা রাখালদার নামেই চালু করতে চলেছে ওই ক্যান্টিন। এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে খবর। আগামী কাল, বৃহস্পতিবার নবরূপে ওই ক্যান্টিনের উদ্বোধন হবে।

১৯৫৯ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ পবিত্র সরকার। রাখালদার নামে ফের ক্যান্টিন চালু হওয়ার খবর পেয়ে তিনি জানান, এই নামের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ছাত্রাবস্থার নানা স্মৃতি। আনন্দবাজার ডট কম-কে তিনি বলেন, “আমার মতো যাঁরা আড্ডাবাজ ছিলেন এবং রাজনীতি করতেন, তাঁদের কাছে রাখালদার ক্যান্টিন এক মধুর স্মৃতির স্থান। পাশের ইউনিয়নরুমে আড্ডা হত। তার পর দুপুরের দিকে ক্যান্টিন একটু ফাঁকা হলেই সেখানেই বসত আড্ডা।” তিনি আজও মনে করেন, রাখালদার ভালবাসায় ক্যান্টিনের মধ্যে স্নেহশীল পরিবেশ তৈরি হত। সকাল ১০টা থেকে সন্ধে পর্যন্ত খোলা থাকত ওই ক্যান্টিন। কোনও কারণে দুপুরে না ফিরতে পারলেও সযত্নে সরিয়ে রাখা থাকত তাঁদের দুপুরের খাবার। নাটকের রিহার্সাল শেষে ক্যান্টিনে ঢুকলেই খাবার এগিয়ে দিতেন রাখালদা। পবিত্র সরকার বলেন, “একগাল হাসি আর রাখালদার স্নেহ— আমাদের জীবনের সম্পদ হয়ে রয়েছে এ স্মৃতি।”

১৯৫৮ থেকে ১৯৬০ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন অভিনেতা, নাট্য পরিচালক রুদ্রপ্রসাদ সেনগুপ্ত। তিনিও বলেন, “রাখালদার তুই-তোকারি ডাকের মধ্যে অদ্ভুত ভালবাসা ছিল। আমাদের প্রতি তাঁর ভালবাসা আমাদের স্মৃতিকে আরও মধুর করে তুলেছিল।”

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, এ বার ক্যান্টিনের নাম রাখা হবে, ‘রাখালদার কেপেবল’। প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও ডাউন সিনড্রোম ও অটিজ়ম বিষয়ের গবেষক সুজয় ঘোষ প্রথমে ওই ক্যান্টিন ফের চালু করার কথা ভাবেন। সেই ক্যান্টিন ডাউন সিনড্রোম ও অটিজ়মযুক্ত তরুণ-তরুণীদের দিয়ে চালানোর জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব দেন তিনি। এর পর এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ হয়। ‘এবেল ফেবল ফাউন্ডেশন’ নামে ওই সংস্থার সঙ্গে ডাউন সিনড্রোম ও অটিজ়মযুক্ত তরুণ-তরুণীদের মাধ্যমেই ক্যান্টিন শুরু করার চুক্তি হয়।

সুজয় বলেন, “ক্যান্টিন এবং রাখালদার নামের মাধ্যমে ডাউন সিনড্রোম ও অটিজ়মযুক্ত তরুণ-তরুণীদের সমাজের মূলস্রোতে যুক্ত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। আশা করি ওই ছেলেমেয়েরা খুশি হবেন, আনন্দ পাবেন বর্তমান পড়ুয়ারা। একই সঙ্গে নস্টালজিক এই ক্যান্টিনও আবার প্রাণ ফিরে পাবে।”

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দেবাশিস দাস বলেন, ‘‘রাখালদার ক্যান্টিনের সঙ্গে অনেকের নানা স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। এ বার ফের সেই ক্যান্টিন খুলছে একটু অন্য ভাবে। আশা করি সকলের ভাল লাগবে।’’

CU canteen

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy