হৃদ্যন্ত্র এবং রক্তনালির বিভিন্ন পরীক্ষা ও চিকিৎসায়, চিকিৎসকদের সহায়তা করেন কার্ডিয়োভাস্কুলার টেকনোলজিস্টরা। আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় হৃদ্যন্ত্রের বিভিন্ন রোগ নির্ণয় থেকে শুরু করে ক্যাথেটারাইজেশন, হৃদ্যন্ত্রের শারীরিক কার্যকলাপ পর্যবেক্ষণ এবং বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতিতে প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজন হয়। এই কারণেই স্বাস্থ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে কার্ডিয়োভাস্কুলার টেকনোলজি একটি গুরুত্বপূর্ণ পেশাভিত্তিক বিষয় হয়ে উঠেছে। যাঁদের জীববিজ্ঞান এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ রয়েছে, তাঁদের জন্য এই বিষয়ে পড়াশোনা করে কেরিয়ার গড়ার সুযোগ রয়েছে।
কী পড়তে হয়?
কার্ডিয়োভাস্কুলার টেকনোলজি সাধারণত প্যারামেডিক্যাল বা অ্যালায়েড হেলথ সায়েন্সের অন্তর্ভুক্ত। স্নাতক স্তরে সাধারণত ব্যাচেলর অফ সায়েন্স ইন কার্ডিয়োভাস্কুলার টেকনোলজি বা সমতুল্য কোর্স পড়ানো হয়। কোর্সের মেয়াদ প্রতিষ্ঠানভেদে সাধারণত চার বছর হতে পারে। এর মধ্যে তাত্ত্বিক পড়াশোনার পাশাপাশি হাসপাতাল বা চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণের সুযোগ থাকে।
পড়ুয়ারা হৃদ্যন্ত্রের গঠন ও কার্যপ্রণালী, কার্ডিয়োলজি, ইলেক্ট্রোকার্ডিয়োগ্রাম, ইকোকার্ডিয়োগ্রাফি, কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন, কার্ডিয়োপালমোনারি রিসাসিটেশন এবং বিভিন্ন হৃদ্যন্ত্রের পরীক্ষানিরীক্ষার বিষয়ে ধারণা তৈরি করতে পারেন। রোগীর শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী বিভিন্ন যন্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।
কী যোগ্যতা প্রয়োজন?
স্নাতক স্তরের এই ধরনের কোর্সে ভর্তির জন্য সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক বা সমতুল্য পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং জীববিদ্যা নিয়ে পাশ করতে হয়। অনেক প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম নম্বরের শর্তও থাকে। তবে কোন প্রতিষ্ঠানে কী যোগ্যতা প্রয়োজন, তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ভর্তি বিজ্ঞপ্তির উপর নির্ভর করে।
ভর্তির পদ্ধতিও প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা। কোথাও উচ্চমাধ্যমিকের নম্বরের ভিত্তিতে মেধাতালিকা তৈরি করা হয়, আবার কোথাও প্রবেশিকা পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি নেওয়া হয়। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সাম্প্রতিক ভর্তি বিজ্ঞপ্তি দেখে নেওয়া প্রয়োজন।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোথায় পড়ার সুযোগ?
দেশের বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ, হাসপাতাল এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ প্রতিষ্ঠানে কার্ডিয়োভাস্কুলার টেকনোলজি বা সংশ্লিষ্ট অ্যালায়েড হেলথ সায়েন্সের কোর্স পড়ার সুযোগ রয়েছে। অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল সায়েন্সেস, পোস্টগ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউট অফ মেডিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ, বিভিন্ন সরকারি মেডিক্যাল কলেজ এবং কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের অধীন স্বাস্থ্য-শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সংশ্লিষ্ট প্যারামেডিক্যাল বা অ্যালায়েড হেলথ কোর্স রয়েছে।
তবে সব সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতি বছর একই কোর্সে ভর্তি নেওয়া হয় না। তাই নির্দিষ্ট কোনও প্রতিষ্ঠানে পড়ার পরিকল্পনা থাকলে সংশ্লিষ্ট বছরের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি এবং কোর্সের অনুমোদন যাচাই করে আবেদন করা ভাল।
আরও পড়ুন:
চাকরির সুযোগ কেমন?
কার্ডিয়োভাস্কুলার টেকনোলজি নিয়ে পড়াশোনা শেষ করার পরে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল, হৃদ্রোগ চিকিৎসাকেন্দ্র, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাবরেটরিতে কাজের সুযোগ রয়েছে। কার্ডিয়োভাস্কুলার টেকনোলজিস্ট, কার্ডিয়াক টেকনিশিয়ান, ক্যাথেটারাইজেশন ল্যাব টেকনোলজিস্ট-এর মতো পদে কাজ করা যায়।
অভিজ্ঞতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হৃদ্রোগ চিকিৎসার বিশেষায়িত বিভাগে কাজের সুযোগও তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা ও বিশেষ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই ক্ষেত্রেই আরও দক্ষতা অর্জন করা সম্ভব।