Advertisement
E-Paper

প্রাথমিক ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদে অস্থায়ী কমিটি গড়ল রাজ্য, সভাপতির দায়িত্ব পেলেন কারা?

রাজ্যে ক্ষমতার পালা বদলের পরই ভেঙে দেওয়া হয় সব প্রশাসনিক কমিটি। সেই সময় তৎকালীন সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় সভাপতি পদ ছেড়েছিলেন। এর পর অস্থায়ী ভাবে এই পদের দায়িত্ব দেওয়া হল লালু দাসকে।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:১৪
অধ্যাপক রবিরঞ্জন সেন এবং অধ্যাপক লালু দাস।

অধ্যাপক রবিরঞ্জন সেন এবং অধ্যাপক লালু দাস। ছবি: সংগৃহীত।

রাজ্যের প্রাথমিক ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদে গঠিত হল নতুন অ্যাড-হক কমিটি। পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (ডব্লিউবিবিপিই) এবং পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (ডব্লিউবিবিএসই)— দুই পর্ষদেই নতুন কমিটি গঠনের পাশাপাশি মনোনীত হলেন সভাপতি ও সদস্যরা।

একইসঙ্গে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা চলাকালীনই পরিবর্তন করা হল উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি পদে। মঙ্গলবার স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে এক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জানানো হয়, বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক অসিতকুমার মণ্ডলকে উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি হিসেবে মনোনীত করা হল। এদিন থেকেই নির্দেশ কার্যকর করা হল। এতদিন এই পদে ছিলেন মসিউর রহমান।

প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতি হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পেয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রবিরঞ্জন সেন। তাঁর কমিটিতে মোট ১২ জন সদস্য রয়েছেন। রয়েছেন দক্ষিণ দিনাজপুরের তপনের বিধায়ক বুদ্ধরায় টুডু, কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজ ফর উইমেনের সহকারী অধ্যাপক সৌমন অধিকারী, হাওড়ার আমতার প্রধান শিক্ষক পিন্টু পাড়ুই এবং পূর্ব বর্ধমানের প্রধান শিক্ষক দীপক মণ্ডল ও সহকারী শিক্ষিকা ইন্দ্রাণী কুণ্ডু। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এই কমিটির কার্যকালের মেয়াদ এক বছর। প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের সভাপতির দায়িত্ব নিয়ে কাটোয়া কলেজের ইতিহাসের শিক্ষক রবিরঞ্জন সেন বলেন, ‘‘যা সমস্যা রয়েছে তার সমাধান করে প্রাথমিক শিক্ষা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আমার লক্ষ্য।’’

অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের সভাপতি হয়েছেন বিধানচন্দ্র কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগের ডিন অধ্যাপক লালু দাস। সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ মহাবিদ্যালয়ের সহকারি অধ্যাপক নীলাদ্রিশেখর সিংহ। কমিটির অন্য সদস্যেরা হলেন কলকাতার বেলেঘাটা শান্তি সংঘ বিদ্যায়তন ফর গার্লসের প্রধানশিক্ষিকা সুস্মিতা মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনার খাঁড়াপাড়া হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষক বিধান গায়েন, মালদার চরসুজাপুর হাই স্কুলের সহকারী প্রধানশিক্ষক উজ্জ্বলকুমার তালুকদার এবং কলকাতার হেয়ার স্কুলের সহকারী শিক্ষক আশিসকুমার সিংহ।

রাজ্যে ক্ষমতার পালা বদলের পরই ভেঙে দেওয়া হয় সব প্রশাসনিক কমিটি। সেই সময় তৎকালীন সভাপতি রামানুজ গঙ্গোপাধ্যায় পদ ছেড়েছিলেন। এর পর অস্থায়ী ভাবে এই পদের দায়িত্ব দেওয়া হল লালু দাসকে। চিঠি পেয়েই তিনি আনন্দবাজার ডট কম-এর প্রতিনিধিকে জানান, ‘ঘুণে ধরা’ মাধ্যমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে উদ্যোগী হবেন। তিনি বলেন, ‘‘সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থা প্রতিটি সাধারণ মানুষের বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষের কাছে যেন পৌঁছে যায় সেই চেষ্টা করব। স্কুলছুটদের স্কুলে ফেরানো, অন্য যে সব সমস্যা রয়েছে— সবই সমাধানের চেষ্টা করব স্কুলশিক্ষা দফতররের এবং মন্ত্রীর সাহায্য নিয়ে। মানুষ যেন সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি আকৃষ্ট হয় সেই দায়িত্ব নিচ্ছি।’’

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মধ্যশিক্ষা পর্ষদের নতুন অ্যাড-হক কমিটি ১২ অক্টোবর ২০২৭ পর্যন্ত কাজ করবে। তবে তার আগে রাজ্য সরকার অন্য কোনও নির্দেশ জারি করলে সেই নির্দেশ কার্যকর হবে।

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘তৃণমূল জমানাতে গত ১৫ বছর নির্বাচন না করে অ্যাড হক কমিটি দিয়ে চালানো হয়েছে। তার ফল কী হয়েছে তা তো আমরা সবাই জানি। গণতান্ত্রিক পরিবেশটাই নেই এই স্বশাসিত সংস্থাগুলোতে। এই সরকারের আমলেও কী সেই একই অবস্থা চলবে। আমরা দাবি করছি অবিলম্বে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ ও প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদে নির্বাচন করে বাম আমলের মতো গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হোক।’’

অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসংঘ (স্কুলশিক্ষা)-এর সাধারণ সম্পাদক বাপি প্রামাণিক মনে করেন, ‘‘মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থায় রাষ্ট্রবাদী শিক্ষার প্রতিষ্ঠা করে সার্বিক ভাবে উন্নতি হবে। যোগ্য মানুষদের এই পদে বসানো হয়েছে। এ জন্য সরকারকে ধন্যবাদ।’’

WBBSE

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy