Advertisement
E-Paper

রাজ্যের কোন গ্রন্থাগারে কী বই রয়েছে, খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডিরেক্টরেট অফ লাইব্রেরি সার্ভিসেস

তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলের এবং অন্য সব গ্রন্থাগারে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই রাখার সরকারি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে সেই সময়েই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৪ জুলাই ২০২৬ ২১:২৩
প্রতীকী ছবি।

প্রতীকী ছবি।

রাজ্যে সব গ্রন্থাগার থেকে সরিয়ে ফেলা হবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা সব বই। এমনটা আগেই জানিয়েছিলেন রাজ্যের জনশিক্ষা প্রসার ও গ্রন্থাগার মন্ত্রী গৌরীশঙ্কর ঘোষ। এ বার

রাজ্যের সব সরকারি ও সাধারণ গ্রন্থাগারগুলিতে কী ধরনের বই, সাময়িকী এবং পত্রিকার সংগ্রহ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের ডিরেক্টরেট অফ লাইব্রেরি সার্ভিসেস।

তৃণমূল সরকারের আমলে রাজ্যের বিভিন্ন স্কুলের এবং অন্য সব গ্রন্থাগারে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই রাখার সরকারি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে সেই সময়ই বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। নব নির্বাচিত বিজেপি সরকার সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, অপ্রয়োজনীয় কোনও বই গ্রন্থাগারে রাখা হবে না। বরং ভারতের প্রাচীন ইতিহাস সংস্কৃতি, বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্র, কাজী নজরুল ইসলামের বইও থাকবে বলে জানিয়েছিলেন গৌরীশঙ্কর। মূলত, পাঠকদের চাহিদা ও প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে গ্রন্থাগারগুলির সংগ্রহ উন্নত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

কী বলা হয়েছে নির্দেশিকায়?

প্রয়োজন ও পছন্দকে গুরুত্ব: পাঠকদের পছন্দ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী গ্রন্থাগারগুলির সংগ্রহকে আরও আকর্ষণীয় ও প্রাসঙ্গিক করে তুলতে হবে।

অনুপযুক্ত বই প্রতিস্থাপন: বই ও পত্রিকা খতিয়ে দেখার এই প্রক্রিয়ায় যদি কোনও বই বা নথি বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ পাঠকদের জন্য অনুপযুক্ত বলে চিহ্নিত হয়, তবে তা অবিলম্বে সরিয়ে সেখানে উপযুক্ত বই রাখতে হবে।

রিপোর্ট তলব: পুরো প্রক্রিয়াটি সফল ভাবে সম্পন্ন করে দ্রুত কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমগ্র বিষয়টিকে ‘অত্যন্ত জরুরি’ বলে উল্লেখ করেছে ডিরেক্টরেট অফ লাইব্রেরি সার্ভিসেস।

রাজ্যের লাইব্রেরি সার্ভিসেস-এর ডিরেক্টরের তরফে সব জেলা লাইব্রেরি অফিসার, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিস্ট্রিক্ট লাইব্রেরি অফিসার, স্টেট সেন্ট্রাল লাইব্রেরি-এর লাইব্রেরিয়ান এবং রাজ্যের সমস্ত সরকারি পাবলিক লাইব্রেরির দায়িত্বপ্রাপ্তদের এই নির্দেশ কার্যকর করার জন্য বলা হয়েছে। এই নির্দেশিকার একটি কপি গ্রন্থাগার পরিষেবা দফতরের মন্ত্রী এবং অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের পিএস-এর কাছেও অবগতির জন্য পাঠানো হয়েছে বলেই জানা গিয়েছে।

উল্লেখ্য, রাজ্যের গ্রন্থাগার মন্ত্রী শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের কথাও বলেছিলেন। তাঁর কথায়, “শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদান ভুলিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বছরের পর বছর ধরে। এ বার তাঁর জীবন ও কর্ম নিয়ে তথ্য সমৃদ্ধ বই থাকবে গ্রন্থাগারে। এঁদের ভুলে গেলে বাঙালি বলব কাদের?” তিনি স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, রাষ্ট্রাবাদী, জাতীয়তাবাদী লেখালিখি ঠাঁই পাবে গ্রন্থাগারগুলিতে। বিজ্ঞান ও আর্থ-সামাজিক বিষয়ে এমন কিছু রচনা, যা পড়ুয়াদের উন্নতিতে সাহায্য করবে, তা-ই রাখা হবে গ্রন্থাগারে।

Library Users Govt. Library library

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy