স্কুল শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী শক্তি এবং বৈজ্ঞানিক চিন্তাভাবনার বিকাশ ঘটাতে ‘ইনস্পায়ার-মানক’ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগ (ডিএসটি) এবং ন্যাশনাল ইনোভেশন ফাউন্ডেশনের (এনআইএফ) যৌথ উদ্যোগে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই কর্মসূচি শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে সমগ্র শিক্ষা মিশন। পাঠ্যপুস্তকের বাইরে গিয়ে দৈনন্দিন জীবন ও সমাজের বিভিন্ন বাস্তব সমস্যার সহজ ও প্রযুক্তিগত সমাধান খুঁজে বের করাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
কারা যোগ দিতে পারবে?
স্বীকৃত বিভিন্ন স্কুলের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা যোগ দিতে পারবে। শিক্ষার্থীদের মৌলিক কোনও প্রকল্প জমা দিতে হবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির কেবল বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাই এই প্রতিযোগিতায় যোগ দিতে পারবে।
কোন ধরনের প্রকল্প তৈরি করতে হবে?
প্রতিদিনের জীবনে সাধারণ পরিবার বা কৃষক, শ্রমিক, বিশেষ ভাবে সক্ষম ব্যক্তিদের নানা সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। সে সব সমস্যার ওপর ভিত্তি করে উদ্ভাবনী প্রকল্প চেয়ে পাঠানো হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কোনও নতুন যন্ত্র, বর্তমান কোনও যন্ত্রের উন্নত রূপ বা স্থানীয় কোনও সমস্যার প্রযুক্তিগত সমাধান, যার বাস্তব প্রয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে— সবই হতে পারে প্রকল্পের বিষয়।
আরও পড়ুন:
যে বিষয়গুলি জমা দেওয়া যাবে না
বোর্ডের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে পাঠ্যপুস্তক বা ওয়েবসাইট থেকে নকল করা কোনও প্রকল্প, বিজ্ঞান প্রদর্শনীর সাধারণ প্রকল্প বা এর আগে কোনও প্রতিযোগিতায় জমা দেওয়া প্রকল্প কোনও ভাবেই গ্রহণ করা হবে না। শিক্ষক বা অভিভাবকরা পথপ্রদর্শন করতে পারেন, তবে মৌলিক চিন্তাটি শিক্ষার্থীর হওয়া বাধ্যতামূলক।
নির্বাচন প্রক্রিয়া ও আবেদনের সময়সীমা
প্রতিটি স্কুল অভ্যন্তরীণ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের সেরা পাঁচটি মৌলিক ধারণা অনলাইনে পাঠাতে পারবে। এর মধ্যে একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি (বিজ্ঞান) থেকে সর্বোচ্চ দু’টি ধারণা নেওয়া যাবে। অনলাইনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন ১৫ সেপ্টেম্বর। অফিশিয়াল পোর্টাল www.inspireawards-dst.gov.in-এর মাধ্যমে বিদ্যালয়গুলিকে এই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। স্কুল স্তরে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী প্রস্তাবগুলি পরবর্তীকালে জেলা, রাজ্য ও জাতীয় স্তরের প্রদর্শনীতে তুলে ধরা হবে। চূড়ান্ত ভাবে মনোনীত প্রজেক্টগুলির প্রোটোটাইপ বা মডেল তৈরির জন্য এনআইএফ-এর পক্ষ থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তাও দেওয়া হবে।