জীববিজ্ঞান আর কম্পিউটার প্রযুক্তির সংযোগে তৈরি হয়েছে আধুনিক বিজ্ঞানের বেশ গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র বায়োইনফরমেটিক্স। জিন, প্রোটিন, ডিএনএ-সহ বিপুল পরিমাণ জৈবিক তথ্য কম্পিউটার ও রাশিবিজ্ঞানের সাহায্যে বিশ্লেষণ করাই এই বিষয়ের মূল কাজ। ফলে জীববিজ্ঞানের পাশাপাশি কম্পিউটার, ডেটা অ্যানালিসিস এবং রাশিবিজ্ঞানেও আগ্রহ থাকলে বায়োইনফরমেটিক্স ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পড়াশোনার ক্ষেত্র হতে পারে।
কী পড়তে হয়?
বায়োইনফরমেটিক্স মূলত বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয়। কোর্স অনুযায়ী সেল বায়োলজি, জেনেটিক্স, মলিকিউলার বায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশন, স্ট্যাটিস্টিক্স, প্রোগ্রামিং এবং ডেটা অ্যানালিসিস পড়ানো হয়। উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে জিনোমিক্স, প্রোটিয়োমিক্স, নেক্সট-জেনারেশন সিকোয়েন্সিং, বিগ ডেটা অ্যানালিসিস, স্ট্রাকচারাল বায়োইনফরমেটিক্স, ড্রাগ ডিসকভারি এবং কম্পিউটেশনাল বায়োলজির মতো বিষয়ও থাকতে পারে।
অর্থাৎ, শুধু জীববিজ্ঞান জানলেই হবে না। কম্পিউটেশনাল চিন্তাভাবনা, পরিসংখ্যান এবং প্রোগ্রামিংয়ের ভিত্তিও তৈরি করতে হবে। অনেক কোর্সে ‘আর’, ‘সি’, ‘জাভা’ বা ‘পার্ল’-এর মতো প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ এবং বিভিন্ন বায়োইনফরমেটিক্স সফটঅয়্যার ব্যবহারের প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়।
কী ভাবে পড়াশোনা শুরু করবেন?
স্নাতক স্তরে বায়োইনফরমেটিক্স নিয়ে সরাসরি কোর্সের সুযোগ রয়েছে কিছু প্রতিষ্ঠানে। আবার জীববিজ্ঞান, বায়োটেকনোলজি, কম্পিউটার সায়েন্স, গণিত, স্ট্যাটিস্টিক্স বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক হওয়ার পরেও বায়োইনফরমেটিক্সে স্নাতকোত্তর করা যায়। ফলে দ্বাদশ শ্রেণির পর থেকেই এই বিষয়ে পড়তে হবে—এমন বাধ্যবাধকতা নেই।
সরকারি প্রতিষ্ঠানে কোথায় পড়া যায়?
সরকারি বা সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির মধ্যে সাবিত্রীবাই ফুলে পুণে বিশ্ববিদ্যালয়-এর বায়োইনফরমেটিক্স কেন্দ্রটি দেশের মধ্যে বেশ পুরনো একটি প্রতিষ্ঠান। সেখানে ২০০২ থেকে বায়োইনফরমেটিক্সে মাস্টার অফ সায়েন্স ডিগ্রি চালু রয়েছে এবং বর্তমানে ভর্তির ক্ষেত্রে এই প্রতিষ্ঠানে গেট বি উত্তীর্ণ হতে হয়।
নর্থ বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি-তেও বায়োইনফরমেটিক্সে মাস্টার অফ সায়েন্স ডিগ্রির পাশাপাশি পিএইচডি এবং পিজি ডিপ্লোমার সুযোগ রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এমএসসি কোর্সে সেল বায়োলজি, জেনেটিক্স, মলিকিউলার বায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি এবং কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের মতো বিষয় গুরুত্ব পায়।
জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটেশনাল বায়োলজি অ্যান্ড বায়োইনফরমেটিক্সের বিভিন্ন ভাগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট যোগ্যতার মধ্যে লাইফ সায়েন্স, বায়োটেকনোলজি, বায়োইনফরমেটিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স, গণিত, স্ট্যাটিস্টিক্স-সহ একাধিক বিষয় পড়ানো হয়।
এ ছাড়া ইউনিভার্সিটি অফ এলাহাবাদের সেন্টার ফর বায়োইনফরমেটিক্স-এ দু’বছরের মাস্টার অফ সায়েন্স ডিগ্রি কোর্স রয়েছে। জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া-তেও এই ডিগ্রি কোর্স পড়ানো হয়।
যোগ্যতা কী প্রয়োজন?
বায়োইনফরমেটিক্সে স্নাতক বা স্নাতকোত্তর পড়ার যোগ্যতা প্রতিষ্ঠান ও কোর্স ভেদে আলাদা। স্নাতক স্তরের কোর্সে সাধারণত উচ্চ মাধ্যমিকে জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিদ্যা বা গণিত-সহ বিজ্ঞান বিভাগের পড়াশোনা চাওয়া হয়। অন্য দিকে, বায়োইনফরমেটিক্স না কম্পিউটেশন্যাল বিভাগে মাস্টার অফ সায়েন্স ডিগ্রির ক্ষেত্রে বায়োইনফরমেটিক্স, বায়োটেকনোলজি, বায়োলজি, বায়োকেমিস্ট্রি, মাইক্রোবায়োলজি, জেনেটিক্স, কম্পিউটার সায়েন্স, গণিত বা স্ট্যাটিস্টিক্স-এর মতো বিষয়ে স্নাতক হতে হবে। তবে ঠিক কোন কোন বিষয় এবং ন্যূনতম কত নম্বর প্রয়োজন, তা বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী বদলে যায়।
চাকরির সুযোগ কতটা?
বায়োইনফরমেটিক্স পড়ে গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বায়োটেকনোলজি, ফার্মাসিউটিক্যাল, স্বাস্থ্য পরিষেবা এবং কম্পিউটেশনাল গবেষণার ক্ষেত্রে কাজের সুযোগ তৈরি হতে পারে। সম্ভাব্য পেশার মধ্যে রয়েছে বায়োইনফরমেটিক্স অ্যানালিস্ট, কম্পিউটেশনাল বায়োলজিস্ট, জিনোমিক্স ডেটা অ্যানালিস্ট, রিসার্চ অ্যাসোসিয়েট, বায়োস্ট্যাটিস্টিশিয়ান, ড্রাগ ডিসকভারি সায়েন্টিস্ট এবং বায়োমেডিক্যাল ডেটা সায়েন্টিস্ট।
বিশেষ করে জিনোমিক্স, বিগ ডেটা এবং স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত ডেটা বিশ্লেষণের ব্যবহার বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জীববিজ্ঞান ও কম্পিউটিং— দুই ক্ষেত্রের জ্ঞান থাকা প্রার্থীদের গুরুত্বও বাড়ছে। তাই এই বিষয়ে এগোতে চাইলে শুধু ডিগ্রি নয়, প্রোগ্রামিং, পরিসংখ্যান, ডেটা অ্যানালিসিস এবং গবেষণামূলক প্রকল্পের হাতে-কলমে অভিজ্ঞতা অর্জন গুরুত্বপূর্ণ।