পুজোর দিনগুলোতে একদিকে থাকে বন্ধুদের সঙ্গে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরে ঠাকুর দেখার (প্যান্ডেল হপিং) দেদার আনন্দ, আর অন্যদিকে মাথার ওপর চেপে বসে থাকে সিলেবাস শেষ করার পাহাড়প্রমাণ চাপ। তবে উৎসবের এই হুল্লোড়ের মধ্যেও পড়াশোনা ও ঘোরাঘুরি—দুটোই একসাথে সামলানো সম্ভব।
আধুনিক নিউরোসায়েন্সের দুটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি—'অ্যাক্টিভ রিকল' (সক্রিয় স্মরণ পদ্ধতি) এবং 'স্পেসড রেপিটিশন' (নির্দিষ্ট ব্যবধানে পুনরাবৃত্তি) ব্যবহার করে খুব সহজেই ছুটির দিনেও পড়া স্মৃতিতে ধরে রাখা যায়।
১। ঠাকুর দেখার লাইনে 'অ্যাক্টিভ রিকল'
সাধারণত আমরা বই খুলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা রিডিং পড়ি, যাকে বলে প্যাসিভ লার্নিং। এর চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর 'অ্যাক্টিভ রিকল' পদ্ধতি। কোনও একটি টপিক পড়ার পর বই বন্ধ করে মস্তিষ্ক থেকে তথ্যটি মনে করার চেষ্টা করার নামই অ্যাক্টিভ রিকল।
লাইনের ফাঁকে পড়া: পুজোয় বড় বড় মণ্ডপের লাইনে যখন দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হয়, তখন সময় নষ্ট না করে পকেটে রাখা ছোট ফ্ল্যাশকার্ড বা মোবাইলের নোটবুক দেখে মনে মনে নিজেকে প্রশ্ন করো।
মনে মনে রিভিশন: এক প্যান্ডেল থেকে অন্য প্যান্ডেলে যাওয়ার পথে আগের দিন কী পড়েছিলে, তা চোখ বন্ধ করে মনে করার চেষ্টা করো। মুখস্থ করার চেয়ে মস্তিষ্ককে এভাবে খাটানো অনেক বেশি ফলদায়ক।
২। আড্ডার ফাঁকে 'স্পেসড রেপিটিশন'
মানুষের মস্তিষ্ক নতুন তথ্য দ্রুত ভুলে যায়। একে আটকানোর উপায় আছে। নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে (যেমন: ১ দিন, ৩ দিন বা ৭ দিন পর) পড়াটি পুনরায় রিভিশন দেওয়া যেতে পারে।
স্মার্ট রুটিন: বন্ধুদের সঙ্গে বিকেলে ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে সকালে মাত্র আধ ঘণ্টা সময় বের করে নাও। ৩ দিন আগে যে পড়াটি পড়েছিলে, তা ঝটপট একবার চোখ বুলিয়ে নাও। ভুলে যাওয়ার ঠিক আগেই রিভিশন দিলে পড়া মগজে স্থায়ীভাবে গেঁথে যায়।
ঠাকুর দেখাই যখন পড়া শেষের 'পুরস্কার'
প্যান্ডেল হপিংয়ের আনন্দকে পড়া শেষের রিওয়ার্ড বা পুরস্কার হিসাবে ব্যবহার করো। নিজেকে চ্যালেঞ্জ দাও—"আজ দুপুরের মধ্যে ফিজিক্সের এই অধ্যায়টি শেষ করতে পারলে তবেই সন্ধ্যায় ম্যাডক্স স্কোয়্যার বা শ্রীভূমির ঠাকুর দেখতে যাব।" এতে পড়ার গতি দ্বিগুণ হবে এবং কোনও অপরাধবোধ ছাড়াই পুজোর আনন্দ জমিয়ে উপভোগ করা যাবে!