রুপোলি পর্দার ঝলমলে দুনিয়ার সঙ্গে তাঁদের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। কিন্তু বলিউডে পা রাখার আগে এই তারকাদের অনেকেই ছিলেন শিক্ষক। কেউ স্কুলে পড়িয়েছেন, কেউ কলেজে অধ্যাপনা করেছেন, আবার কেউ দিয়েছেন অভিনয় বা মার্শাল আর্টের প্রশিক্ষণ। অভিনয়ের পাশাপাশি তাঁদের জীবনের এই অধ্যায়ও কম চমকপ্রদ নয়। রইল এমনই ১০ বলিউড তারকার কথা, যাঁরা একসময় শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অনুপম খের
অনুপম খের শুধু অভিনেতা নন, অভিনয় প্রশিক্ষক হিসাবেও দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত। তিনি নিজেই একটি অভিনয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন ও সেখানে পড়ান। তাঁর ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোনও। অভিনয় এবং সিনেমা সম্পর্কে তাঁর অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান ছাত্রছাত্রীদের বরাবরই মুগ্ধ করেছে।
বলরাজ সাহনী
‘দো বীঘা জ়মীন’, ‘অনুরাধা’, ‘কাবুলিওয়ালা’-র মতো কালজয়ী ছবির অভিনেতা বলরাজ সাহনী। তবে অভিনয়ে আসার আগে শিক্ষকতাও করেছেন তিনি। ইংরেজি ও হিন্দি— দুই ভাষাতেই স্নাতকোত্তর ডিগ্রি ছিল তাঁর। ১৯৩০-এর দশকে চাকরির সন্ধানে পশ্চিমবঙ্গে এসে তিনি শান্তিনিকেতনের বিশ্বভারতীতে শিক্ষকতা শুরু করেন।
টম অল্টার
আমেরিকান হলেও ভারতীয় চলচ্চিত্রদুনিয়ার অন্যতম পরিচিত মুখ টম অল্টার। অভিনয়ের পাশাপাশি একসময় হরিয়ানার জগাধরীর সেন্ট থমাস স্কুলে ক্রিকেট কোচ হিসাবে কাজ করতেন তিনি। ‘শক্তিমান’, ‘শতরঞ্জ কে খিলাড়ি’, ‘আশিকী’, ‘সরগোশিয়াঁ’-সহ বহু ছবিতে তাঁর অভিনয় দর্শকের মনে জায়গা করে নিয়েছে।
উৎপল দত্ত
বাংলা থিয়েটার ও চলচ্চিত্রদুনিয়ার কিংবদন্তি উৎপল দত্ত বলিউডেও ‘শৌকীন’, ‘রঙ্গ-বিরঙ্গী’, ‘নরম গরম’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি কলকাতার নামী বেসরকারি স্কুলে ইংরেজির শিক্ষক হিসাবেও চাকরি করতেন তিনি।
কাদের খান
অভিনেতা, চিত্রনাট্যকার, কৌতুকশিল্পী এবং পরিচালক— কাদের খান ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। ১৯৭০ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে তিনি মুম্বইয়ের এম. এইচ. সাবু সিদ্দিক কলেজ অফ ইঞ্জিনিয়ারিং-এ সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াতেন। পরবর্তী সময়ে দুবাইয়ে গিয়ে একটি স্কুলে হিন্দিও পড়িয়েছেন।
অক্ষয় কুমার
বলিউডের ‘খিলাড়ি’ অক্ষয় কুমার নিজেই একসময় স্কুল ছেড়ে মার্শাল আর্ট শেখার জন্য বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন। পরে মুম্বইয়ে ফিরে তিনি একটি স্কুলে মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক হিসাবে কাজ শুরু করেন। মজার বিষয় হল, শিক্ষকতা করতে গিয়েই তাঁর জীবনের মোড় ঘুরে যায়। তাঁর এক ছাত্র তাঁকে মডেলিংয়ের জন্য সুপারিশ করেছিলেন। সেই কাজ থেকেই ধীরে ধীরে অভিনয়ের জগতে প্রবেশ করেন অক্ষয়।
নন্দিতা দাস
অভিনেত্রী ও পরিচালক নন্দিতা দাসের কর্মজীবনও অভিনয়ের বাইরের অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ। দিল্লির স্কুল অব সোশ্যাল ওয়ার্ক থেকে স্নাতকোত্তর পাশ করার পর তিনি রিশি ভ্যালি স্কুলের সঙ্গে যুক্ত হন এবং সেখানে শিক্ষকতা ও পরিচালনার দায়িত্ব সামলান। থিয়েটারের কাজের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও সক্রিয় ছিলেন তিনি। ‘ফায়ার’, ‘আর্থ’, ‘বওয়ন্দর’, ‘কমলি’, ‘বিফোর দ্য রেনস’-এর মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
চন্দ্রচূড় সিংহ
‘মাচিস’, ‘দাগ’, ‘জোশ’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করে নব্বইয়ের দশকে দর্শকের মন জয় করেছিলেন চন্দ্রচূড় সিংহ। অভিনয়ে আসার আগে তিনি দুন স্কুলে সঙ্গীতের শিক্ষক ছিলেন। পরবর্তী সময়ে ‘আরিয়া’ সিরিজ়ের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও তিনি আবার পরিচিত হয়ে ওঠেন।
কনওয়রজীত পেন্টল
‘সত্তে পে সত্তা’, ‘বাওয়র্চি’, ‘রফু চক্কর’-এর মতো ছবিতে অভিনয় করা কনওয়রজীত পেন্টল ছিলেন পরিচিত কৌতুকশিল্পী। ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়া-তে (এফটিআইআই) অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেওয়ার পর তিনি সেই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও যুক্ত হন এবং অভিনয় শেখানোর দায়িত্ব পালন করেন।
বব ক্রিস্টো
অস্ট্রেলীয় বংশোদ্ভূত অভিনেতা ও সিভিল ইঞ্জিনিয়ার বব ক্রিস্টো একাধিক হিন্দি ছবিতে কাজ করেছেন। তাঁর অভিনীত ‘মিস্টার ইন্ডিয়া’, ‘গুমরাহ’, ‘মর্দ’, ‘অবদুল্লা’-র মতো ছবি অত্যন্ত জনপ্রিয়। তিনি বলিউড ছাড়ার পরে যোগ প্রশিক্ষক হিসাবেও কাজ করেন।
রুপোলি পর্দায় অভিনয়ের মাধ্যমে তাঁরা কোটি কোটি দর্শককে মুগ্ধ করেছেন। কিন্তু তারও আগে কেউ ক্লাসঘরে, কেউ প্রশিক্ষণকেন্দ্রে, আবার কেউ খেলাধুলা বা সঙ্গীত শেখানোর মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন নতুন প্রজন্মকে।