মাত্র ৩৩ বছর বয়সে প্রয়াত টেলিভিশন অভিনেতা অনুজ ঠাকুর। ‘ধুম মচাও ধুম’, ‘বন্ধন সাত জন্ম কা’, ‘মহিসাগর’-এর মতো ধারাবাহিকে অভিনয় করেছিলেন তিনি। গত ২৭ অক্টোবর ঘুমের মধ্যেই খিঁচুনি হয় অভিনেতার। তার পরেই মৃত্যু।
অনুজের বন্ধু ও সহকর্মী রূপেশ সোনার ৩০ অক্টোবর সমাজমাধ্যমে একটি শোকবার্তা প্রকাশ করে তাঁর মৃত্যুর খবর জানান। পরে অনুজের পরিবারের সঙ্গে দেখা করে রূপেশ জানতে পারেন, ঘুমের মধ্যে খিঁচুনি হওয়ার ফলেই মৃত্যু হয়েছে অভিনেতার। সমাজমাধ্যমে রূপেশ লেখেন, “এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না যে, তুমি আর আমাদের মধ্যে নেই। তুমি শুধু আমার বন্ধু ছিলে না, আমার ছোটভাইয়ের মতো ছিলে। একসঙ্গে কত কাজের পরিকল্পনা ছিল আমাদের! তোমার কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলিতে তোমার লড়াই দেখেছি, তোমার এগিয়ে চলার সাক্ষী থেকেছি। জীবন সত্যিই অনিশ্চিত। এত তাড়াতাড়ি তুমি চলে গেলে, এটা মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। খবরটা এখনও অবাস্তব মনে হচ্ছে। ভাই, তোমাকে সব সময় মনে রাখব। শান্তিতে থেকো।”
প্রায় ১৭ বছরের পরিচয় ছিল রূপেশ ও অনুজের। ২০০৮ সালে ‘বন্ধন সাত জন্ম কা’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে তাঁদের একসঙ্গে কাজ শুরু। পরে আরও বেশ কয়েকটি ধারাবাহিকে একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। এই ঘটনায় শোকস্তব্ধ রূপেশ জানিয়েছেন, মাত্র ১০ দিন আগেই অনুজের সঙ্গে দেখা হয়েছিল তাঁর।
সংবাদমাধ্যমে রূপেশ বলেন, “খবরটা শুনে বিশ্বাস করতে পারিনি। মাত্র ১০ দিন আগেই ওর সঙ্গে দেখা হয়েছিল। রাতে ঘুমোতে গেল। আর সকালে উঠল না। শুনে আমি হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। কী হতে পারে, কিছুতেই বুঝতে পারছিলাম না। ওর ভাইয়ের সঙ্গে কথা বলেছিলাম। কিন্তু সে-ও তখন খুব বেশি কথা বলার মতো অবস্থায় ছিল না।”
তিনি আরও জানান, শনিবার অনুজের মা ও ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করতে তাঁদের বাড়িতে গিয়েছিলেন। তখনই পরিবারের কাছ থেকে অভিনেতার মৃত্যুর কারণ জানতে পারেন তিনি। রূপেশের কথায়, “আমাকে জানানো হয়, ঘুমের মধ্যে অনুজের খিঁচুনি হয়েছিল এবং সেই অবস্থাতেই ওর মৃত্যু হয়।”
রূপেশ আরও জানান, অনুজের প্রতিদিন ভোরে ওঠার অভ্যাস ছিল। সকাল সাড়ে ৪টের মধ্যেই ঘুম থেকে উঠে শারীরচর্চা ও জগিং-সহ নিজের দৈনন্দিন রুটিন শুরু করতেন তিনি। কিন্তু ঘটনার দিন আর ঘুম ভাঙেনি অভিনেতার। ভোর সাড়ে ৪টেয় অ্যালার্ম বেজে ওঠার পর অনুজকে ডাকতে তাঁর ঘরে যান মা। তখনই ছেলেকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান তিনি।