রাখি মানেই কি শুধু ভাইয়ের হাতে রাখির সুতো? অনেক দিন হল, এই ভাবনার পরিবর্তন হয়েছে। এখন তো শুধু ভাই বা দাদার হাতে রাখি পরিয়ে দেওয়া নয়, দুই বোন বা বন্ধুরাও পরস্পরকে রাখি পরিয়ে দিয়ে থাকে। যদিও রবীন্দ্রনাথ সে কথাই বলেছিলেন। যেমন ছোটপর্দার অভিনেত্রী দেবাদৃতা বসু ছোট থেকেই এই ভাবেই বড় হয়েছেন।
তাঁরা দুই বোন। ভাইফোঁটা হোক কিংবা রাখিবন্ধন উৎসব— দুই বোন বাড়িতেই উদ্যাপন করেন। বোনফোঁটা তো আছেই। তাঁরা একে অপরকে রাখিও পরান। ভাই নেই, তবু রাখির উৎসব কখনও ফিকে হয়নি। বরং মা-বাবার হাত ধরে তৈরি হয়েছে দুই বোনের নিজস্ব এক সুন্দর রীতি— বছর ঘুরলেই পরস্পরের হাতে রাখি, আর সেই সঙ্গে একে অপরকে আগলে রাখার অঙ্গীকার।
দু’জনের কে কাকে বেশি শাসন করেন? ছবি: সংগৃহীত।
শুধু দেবাদৃতা নয়। তাঁর বোন দেবপ্রিয়াও এখনও নায়িকা। ‘দুলারি’ ধারাবাহিকে অভিনয় করছেন তিনি। সঙ্গে চলছে কলেজের পড়াশোনাও। পর্দায় তাঁদের আলাদা পরিচয়, আলাদা লড়াই। কিন্তু বাড়িতে ফিরলেই তাঁরা সেই চেনা দুই বোন— যাঁদের সম্পর্কের ভিত তৈরি হয়েছিল বহু বছর আগে।
দেবাদৃতা বললেন, “হ্যাঁ, আমরা বরাবরই রাখি পরাই পরস্পরকে। ছোট থেকে মা-বাবা এ ভাবেই আমাদের বড় করেছেন। আমরা বোনফোঁটাও দিই। এই বিশেষ দিনগুলোয় চেষ্টা করি যতটা একসঙ্গে সময় কাটানো যায়। কিন্তু এখন তো বোন নিজেও ধারাবাহিকে অভিনয় করছে। তাই চেষ্টা করব কাজের ফাঁকে যতটা সময় বার করা যায়।”
অভিনেত্রী জানান, তাঁর বোন বয়সে ছোট হলেও অনেক সময় ভুল দেখলে তাঁকে শাসনও করেন। তাঁর কাছে এই বিশেষ দিনগুলোর অর্থ হল সম্পর্কের ভিতকে আরও এক বার ঝালিয়ে নেওয়া।
ছোট থেকেই দুই বোন পরস্পরকে রাখি পরান। ছবি: সংগৃহীত।
শৈশবে অবশ্য এই রীতির এত গভীর অর্থ বোঝার বয়স ছিল না। তখন রাখি মানেই ছিল সাজগোজ, মিষ্টি, উপহার আর উৎসবের আনন্দ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে দুই বোন বড় হয়েছেন। জীবনে এসেছে পড়াশোনা, কাজ, ব্যস্ততা, সাফল্য, ব্যর্থতা। আর সেই সঙ্গে আরও দৃঢ় হয়েছে তাঁদের বন্ধুত্ব। সঙ্গে থাকে উপহার। তবে এ বারে কী উপহার আদান-প্রদান হবে, সে কথা এখনই খোলসা করেননি অভিনেত্রী।
প্রসঙ্গত, দেবাদৃতার অভিনয়ের পথ কিছুটা আগে শুরু হলেও, দেবপ্রিয়া এখনও নিজের পরিচয় তৈরি করছেন। তাই দিদির অভিজ্ঞতা ছোট বোনের কাছে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই দেবপ্রিয়ার নতুন কাজ, নতুন সাফল্যও দিদির কাছে আনন্দের। একই ইন্ডাস্ট্রিতে থেকেও তাঁদের সম্পর্কের মধ্যে প্রতিযোগিতার চেয়ে সহযোগিতার জায়গাটাই যেন বেশি।
সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলায়। শৈশবের বাড়ি, স্কুলের দিন, পুতুল খেলা কিংবা একসঙ্গে কাটানো ছোট ছোট মুহূর্ত পিছনে পড়ে থাকে। কিন্তু কিছু অভ্যাস থেকে যায়। দেবাদৃতা ও দেবপ্রিয়ার ক্ষেত্রে রাখির সেই ছোট্ট রীতিটাই যেন তাঁদের শৈশবের সঙ্গে আজকের জীবনকে জুড়ে রেখেছে। তাই তাঁদের কাছে রাখি শুধু একটি দিন নয়। সম্পর্কের উদ্যাপন।