রবিবারের সকালে এমন দুঃসংবাদ পাব ভাবিনি। আনন্দবাজার ডট কমের কাছেই প্রথম এই খবরটা জানতে পেরেই মনখারাপ হয়ে গেল। মনে পড়ে গেল রাজাদার সঙ্গে কাজের স্মৃতি।
রাজাদার সঙ্গে কাজ করতে পারা আমার কাছে খুবই শিক্ষামূলক ছিল। ২০০৯ সাল। ওঁর ছবি ‘তিন মূর্তি’তে অভিনয় করেছিলাম। তখন আমি এই জগতে নতুন। শেখার চেষ্টা করছি। বহু কিছু শিখেছিলাম সেই কাজটি করতে গিয়ে।
এর পরে ২০১৬ সালে ওঁর ছবি ‘মায়ামৃদঙ্গ’তে কাজের সুযোগ পাই। সেই সময়ে আমি আর একটু পরিণত অভিনেত্রী হিসাবে। আমি সেই সময়ে বাংলাদেশে শাকিব খানের সঙ্গে একটি ছবিতে কাজ করছিলাম। ছবিটির নাম ছিল ‘সত্তা’। খুবই ব্যস্ততার মধ্যে সেই ছবির শুটিং চলছিল। দিন-রাত এক করে শুটিং। তার মধ্যেই আসে ‘মায়ামৃদঙ্গ’-তে অভিনয়ের সুযোগ। বাংলাদেশের ছবির শুটিং সেরে সেই দিনই ছুটেছিলাম রাজাদার কাছে। কিন্তু আমার চোখেমুখে ক্লান্তি ধরা পড়ছিল। রাজাদার চোখ তা এড়ায়নি। সঙ্গে সঙ্গে রাজাদা বলেছিলেন, ‘আজ শুটিং করব না। কাল শুটিং করব।’ রাজাদার মধ্যে এমন সহানুভূতি ছিল, যা আজকের দিনে আর কারও মধ্যে দেখতে পাই না। এখন বহু চাপ নিয়েও ১১-১২ দিনের মধ্যে শুটিং শেষ করতেই হয়। এমন ছাড় পাওয়া যায় না। কিন্তু একসঙ্গে কাজ করতে গেলে তো সহানুভূতির প্রয়োজন!
রাজাদার মতো মানুষকে আমাদের সকলের দরকার। তাই ওঁর চলে যাওয়া মন ভেঙে দেয়। রাজাদার মধ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা ছিল। কিন্তু সকলের মতামত নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতেন। শুটিং সেটে পোশাকশিল্পীর থেকে প্রসাধনীশিল্পী, সকলের সঙ্গে আলোচনা করতেন। খুব বন্ধুত্বপূর্ণ ভঙ্গিতে সকলের সঙ্গে কাজ করতেন। একজন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালকের সঙ্গে কাজ করার যেমন অভিজ্ঞতা হয়েছিল, তেমনই ‘মানুষ’ রাজাদার থেকেও এই বিষয়গুলি শিখেছিলাম।
গত বছরও টরন্টোয় শেষ বার দেখা হয়েছিল আমার। কী আন্তরিকতা ছিল ওঁর। জানতাম না, এতটা অসুস্থ ছিলেন তিনি। মনখারাপ হয়ে যায়, এমন সহমর্মী একজন মানুষ চলে গেলেন। ইন্ডাস্ট্রিতে এমন মানুষের প্রয়োজন আজও। তবে রাজাদাকে আমি ওঁর ছবির মাধ্যমেই সারাজীবন মনে রাখতে চাই।