একটা সময় ছিল, যখন শাহিদ কপূর এবং নৃত্যশিল্পী আহমেদ খান একের পর এক কাজ একসঙ্গে করতেন। কিন্তু মাঝে তাঁদের সম্পর্কের টানাপড়েন নিয়ে কম জল্পনা হয়নি। এত বছর পরে সেই প্রসঙ্গেই মুখ খুললেন পরিচালক-কোরিয়োগ্রাফার।
শৈশবের বন্ধুত্ব, একসঙ্গে কাজ, তার পর মনোমালিন্য— শাহিদ ও পরিচালক-কোরিয়োগ্রাফার আহমেদের সম্পর্কের সমীকরণ বহু বার শিরোনামে উঠে এসেছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই সম্পর্ক নিয়েই বিস্তারিত কথা বলেন আহমেদ।
আহমেদের কথায়, তাঁদের বন্ধুত্বের শুরু সেই সময়টায়, যখন তাঁর বয়স ১১ আর শাহিদের বয়স ছিল মাত্র ৭। তিন দশকেরও বেশি পুরনো সেই সম্পর্ক এখনও রয়েছে। তবে আগের মতো আর নিয়মিত দেখা হয় না। তাঁর কথায়, ‘‘এই পেশায় নিত্যনতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় হয়। কখনও কখনও সেই ভিড়েই আসল বন্ধুদের থেকে দূরত্ব তৈরি হয়ে যায়। আমাদের জীবনযাত্রাও এখন অনেক বদলে গিয়েছে।’’
শাহিদের কেরিয়ারের শুরুর দিনগুলিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল আহমেদের। জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘আরিয়ান্স’-এর মিউজ়িক ভিডিয়ো ‘আঁখো মে তেরা হি চেহরা’-তে আত্মপ্রকাশ করেন শাহিদ। সেই কাজের সঙ্গেও আহমেদ যুক্ত ছিলেন। পরে ‘ইস্ক ভিশ্ক’ ছবিতে কোরিয়োগ্রাফার হিসাবে কাজ করেছিলেন। ‘ফুল অ্যান্ড ফাইনাল’ ছবিতে শাহিদকে পরিচালনাও করেছিলেন তিনি। এ ছাড়া ‘পাঠশালা’ ছবির প্রযোজক হিসাবেও শাহিদের সঙ্গে কাজ করেছিলেন আহমেদ।
শাহিদ-মীরার বিয়েতে নিমন্ত্রণও পাননি আহমেদ? ছবি: সংগৃহীত।
আবার তাঁদের একসঙ্গে কাজ করার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে আহমেদের জবাব, এখন দু’জনেই ভিন্ন ধরনের ছবি নিয়ে ব্যস্ত। শাহিদ যে ধরনের চিত্রনাট্য বেছে নিচ্ছেন, তাঁর নিজের কাজের ধারা তার থেকে আলাদা। তবে ভবিষ্যতে দু’জনের ভাবনা মিললে আবার একসঙ্গে কাজ করতে আপত্তি নেই।
আরও পড়ুন:
২০১৫ সালে তাঁদের সম্পর্কের অবনতি নিয়ে বলিপাড়ায় জোর জল্পনা শুরু হয়েছিল। সে সময় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন আহমেদ। তাঁর অভিযোগ ছিল, শাহিদ তাঁকে দেখতে যাননি। একই বছর শাহিদ ও মীরা রাজপুতের বিয়েতেও আমন্ত্রণ পাননি তিনি। সেই ঘটনার পর দু’জনের সম্পর্কে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল বলেও জানিয়েছিলেন আহমেদ। তবে সময়ের সঙ্গে সেই তিক্ততা অনেকটাই কেটে গিয়েছে বলেই ইঙ্গিত তাঁর কথায়।
কাজের ক্ষেত্রে আহমেদ খান সম্প্রতি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ ছবির পরিচালনা করেছেন। অন্য দিকে শাহিদ কপূরকে শেষ দেখা গিয়েছে ‘ককটেল ২’ ছবিতে।