২০২২ সালে ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ’ ছবিতে রাজা পৃথ্বীরাজ চৌহানের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অক্ষয় কুমার। সেই সময় তাঁর অভিনয় নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল। এমনকি ছবির প্রচারের সময় ইতিহাসের বইয়ে ভারতীয় রাজাদের সম্পর্কে আরও তথ্য অন্তর্ভুক্ত করার আবেদনও জানিয়েছিলেন অভিনেতা। সেই ছবিমুক্তির চার বছর পরে ‘কৌন বনেগা ক্রোড়পতি ১৮’য় পৃথ্বীরাজ চৌহানকে নিয়ে প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে অক্ষয়ের মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
‘হইওয়ান’ ছবির প্রচারে সইফ আলি খানের সঙ্গে কেবিসি ১৮ অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অক্ষয়। অনুষ্ঠানের ‘মহা সওয়াল’ পর্বে অমিতাভ বচ্চন তাঁদের প্রশ্ন করেন, প্রথম তরাইনের যুদ্ধে কোন ভারতীয় শাসক বিজয়ী হয়েছিলেন? প্রশ্ন শুনে প্রথমে উত্তর নিয়ে সংশয়ে পড়েন দুই অভিনেতাই। সইফ বলেন, “আমি তো তরাইনের যুদ্ধের নামই শুনিনি। তুমি শুনেছ?” এর পরেই তিনি অনুমান করেন, উত্তর হয়তো পৃথ্বীরাজ চৌহান অথবা চন্দ্রগুপ্ত মৌর্য। এর পরেই অক্ষয় বলেন, “আমি ‘ট্রেন টু বুসান’-এর নাম শুনেছি, ‘ব্যাটল অফ তরাইন’ শুনিনি।” পরে অবশ্য দু’জনে পৃথ্বীরাজ চৌহানের নামই উত্তর হিসাবে বেছে নেন এবং সেটিই সঠিক উত্তর।
এই ঘটনার পরই সমাজমাধ্যমে কটাক্ষের শিকার অক্ষয়। বিশেষ করে কয়েক বছর আগে পৃথ্বীরাজ চৌহানের চরিত্রে অভিনয় করার পরেও তিনি তরাইনের যুদ্ধ সম্পর্কে জানেন না বলে মন্তব্য করায় অনেকেই তাঁকে বিঁধেছেন। এক নেটাগরিক লেখেন, “এত গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অন্তত এমন একজন অভিনেতাকে নেওয়া উচিত ছিল, যিনি বিষয়টি নিয়ে সামান্য হলেও আগ্রহী।” অন্য একজন কটাক্ষ করে লেখেন, “৪৩ দিনে শুটিং শেষ করতে হয়েছিল, ইতিহাসের বই পড়ার সময় কোথায়!” কেউ আবার তাঁকে ‘টেলিপ্রম্পটার তারকা’ বলেও কটাক্ষ করেন।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, ‘সম্রাট পৃথ্বীরাজ’ ছবির প্রচারের সময় ২০২২ সালে এক সাক্ষাৎকারে অক্ষয় জানিয়েছিলেন, স্কুলের ইতিহাস বইয়ে পৃথ্বীরাজ চৌহানের মতো ভারতীয় রাজাদের সম্পর্কে খুব কম তথ্য রয়েছে, অথচ আক্রমণকারীদের নিয়ে অনেক বেশি লেখা হয়েছে। তাঁর কথায়, “আমি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন করতে চাই, বিষয়টিতে নজর দেওয়ার জন্য। আমি বলছি না যে, মুঘলদের সম্পর্কে পড়ানো হবে না, কিন্তু একটা ভারসাম্য থাকা উচিত। আমাদের রাজাদের সম্পর্কেও সকলের জানা দরকার।” তবে মুক্তির পর বক্সঅফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল সেই ছবি।