এ আর রহমান ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’-এর জন্য পেয়েছিলেন দু’টি অস্কার। ড্যানি বয়েলের পরিচালনায় তৈরি এই ছবির সঙ্গীতই রহমানকে এনে দিয়েছিল আন্তর্জাতিক খ্যাতি। তবে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রহমান জানালেন, ড্যানি বয়েলের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁকে সতর্ক করা হয়েছিল। এমনকি, সেই পরামর্শ মেনে ছবিটি থেকে সরে যাওয়ার কথাও ভেবেছিলেন তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে রহমান জানান, ২০০৮ সালে প্রথম ড্যানি বয়েলের কাছ থেকে একটি ই-মেল পেয়েছিলেন তিনি। পরিচালক জানতে চেয়েছিলেন, রহমান তাঁর সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী কি না। পরে মুম্বইয়ে তাঁদের দেখা হয়। সেই সময়ে ড্যানি তাঁর ছবি ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’ নিয়ে রহমানকে বলেছিলেন, “আমি এই ধরনের ছবি আগে কখনও বানাইনি। তাই ছবিটা দেখুন। আপনি যদি এর সঙ্গীত পরিচালনা করেন, সেটা আমার কাছে বড় সম্মানের হবে।”
ছবিটি দেখার পরে রহমান তাঁর সহযোগী দলের সঙ্গে কথা বলেন। কিন্তু সেখান থেকে আসে অন্য পরামর্শ। রহমান বলেন, “এক জন প্রতিনিধি বললেন, ‘করবেন না।’ আমি জানতে চাইলাম, কেন? তাঁরা বললেন, ড্যানি খুব অন্য ধরনের পরিচালক। তিনি অনেকের সঙ্গে কাজ করেন। খুব তাড়াতাড়ি আপনার সঙ্গীত বাদও দিয়ে দিতে পারেন।’”
আরও পড়ুন:
তবে রহমানের মনে হয়েছিল, ড্যানির সঙ্গে তাঁর অভিজ্ঞতা অন্য রকম হতে চলেছে। “তিনি আমাকে ছবিটা দিয়েছিলেন, আমার দিকে তাকিয়ে হেসেছিলেন। সবটাই খুব আন্তরিক মনে হয়েছিল,” বলেন রহমান।
তখন রহমান আশুতোষ গোয়ারীকরের ‘হোয়াটস ইওর রাশি?’ ছবির কাজও শুরু করতে চলেছেন। ছবিতে অভিনয় করেছিলেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া। কিন্তু একসঙ্গে এতগুলি ছবির কাজ সামলানো সম্ভব হবে না বুঝে আশুতোষকে জানিয়ে সেই ছবি থেকে সরে আসেন। এর পর গোপনে ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’-এর কাজ শুরু করেন রহমান।
রহমান জানান, “আমাকে ওই ছবিটা ছেড়ে দিতে হয়েছিল এবং গোপনে ‘স্লামডগ মিলিয়নেয়ার’-এর কাজ করতে হয়েছিল। এই ছবির জন্য আমার হাতে ছিল মাত্র তিন সপ্তাহ। গোপনে কাজ করছিলাম, কারণ তিনি যদি আমাকে বাদও দিয়ে দেন, তা হলে কেউ জানতে পারবে না।”
রহমান জানান, নিউ ইয়র্ক, মুম্বই এবং চেন্নাইয়ে মিলিয়ে তিন সপ্তাহ ধরে ছবির সঙ্গীতের কাজ করেছিলেন তিনি। মিক্সিং চলছিল লন্ডনে। রহমান ও ড্যানি দু’জনেই তখন লন্ডনে ছিলেন। অবশেষে তাঁর একসঙ্গেই কাজটি করেছিলেন এবং অস্কারের মঞ্চে সম্মানিত হয়েছিলেন।