‘বিগ বস্ ২০’-এর সাম্প্রতিক পর্বে নিজের অতীত সম্পর্কের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানালেন কণিকা মান। একসময় তিনি যে সম্পর্কে ছিলেন, সেখানে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছিল তাঁকে, দাবি অভিনেত্রীর। প্রাক্তন প্রেমিক তাঁকে চড় মেরেছিলেন, বাবাকে ফোন করার হুমকি দিয়েছিলেন, এমনকি তাঁর সামনেই ছুরি দিয়ে নিজেকে আঘাত করেছিলেন বলে অভিযোগ। কণিকার মুখে সেই অভিজ্ঞতার কথা শুনে হতবাক হয়ে যান সহ-প্রতিযোগীরা। সেই সময়ের আতঙ্কের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, “ও যে ভাবে আমার উপর অত্যাচার করত, তাতে আমার সব সময় ভয় হত, ও আমাকে মেরেও ফেলতে পারে।”
কী ভাবে সেই সম্পর্কের সূত্রপাত, তা-ও জানান কণিকা। কলেজের প্রথম বর্ষে পড়ার সময় তাঁর প্রথম প্রেমিকের সঙ্গে পরিচয় হয়। অন্য মেয়েদের গভীর রাত পর্যন্ত প্রেমিকদের সঙ্গে কথা বলতে দেখে তাঁরও তেমন ইচ্চা করত। সেই কারণেই ফেসবুকে অ্যাকাউন্ট খোলেন তিনি। কী ভাবে প্রেমিকের সঙ্গে আলাপ হয়েছিল, তা বলতে গিয়ে কণিকা বলেন, “ফেসবুক ব্যবহার করতে শুরু করলাম, অ্যাকাউন্ট খুললাম। প্রথম যে ছেলেটা আমাকে একটু পাত্তা দিয়েছিল, সে-ই আমার প্রেমিক হয়ে গেল।” যদিও পরবর্তী সময়ে সেই প্রেমিককেই ‘উন্মাদ’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর পর প্রাক্তন প্রেমিকের একাধিক হিংসাত্মক আচরণের কথা তুলে ধরেন কণিকা। তাঁর অভিযোগ, কোনও রকম আগাম খবর না দিয়েই একদিন ক্লাসরুমে হাজির হয়েছিলেন ওই যুবক। একবার কণিকা নিজের পছন্দের পোশাক পরেছিলেন বলে তাঁকে চড়ও মেরেছিলেন। ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করে কণিকা বলেন, “আমাকে কী কারণে চড় মেরেছিল জানো? কারণ, আমি ডোরাকাটা সালোয়ার-কামিজ় পরেছিলাম।” অভিনেত্রী আরও জানান, সেই সময় সদ্য কান বিঁধিয়েছিলেন তিনি। ঘটনার পর রক্তারক্তি কাণ্ড হয়েছিল।
আশপাশের কেউ তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি বলে জানান কণিকা। তাঁর কথায়, একবার তাঁর হাত থেকে একটি ছবি কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিয়েছিলেন প্রাক্তন প্রেমিক। কণিকার অভিজ্ঞতা শুনে সহ-প্রতিযোগীরা ঘটনাটিকে ‘হিংসাত্মক প্রেমের গল্প’ বলে উল্লেখ করেন। তবে এখানেই শেষ নয়। অভিনেত্রীর অভিযোগ, তিনি ওই যুবকের সঙ্গে কোথাও যদি যেতে না চাইতেন, তা হলে তাঁর বাবাকে ফোন করার ভয় দেখানো হত। একবার সত্যিই ফোন করেছিলেন তিনি, কিন্তু সে দিন কণিকার বাবা ফোন ধরেননি।
অতীতের দিকে ফিরে তাকিয়ে কণিকা বলেন, তাঁর বাবা যদি সে দিন ফোনটি ধরতেন, তা হলে হয়তো আরও আগেই ওই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে পারতেন। সহ-প্রতিযোগীরা জানতে চান, শেষপর্যন্ত কী ভাবে সম্পর্কে ইতি টেনেছিলেন তিনি। উত্তরে কণিকা জানান, আট থেকে ন’মাস আইন নিয়ে পড়াশোনা করার সুবাদে আইনি বিষয় সম্পর্কে কিছুটা ধারণা তৈরি হয়েছিল তাঁর।
সম্পর্ক ভাঙার নেপথ্যে থাকা শেষ ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে কণিকা জানান, একদিন হস্টেল থেকে তাঁর বিভাগের ক্লাসের দিকে যাওয়ার সময় পিছন পিছন আসছিলেন প্রাক্তন প্রেমিক। বিভাগীয় ভবনে ঢোকার মুহূর্তে তাঁর হাত ধরে টেনে ধরেন ওই যুবক। সেই ঘটনার কথা বলতে গিয়ে কণিকা বলেন, “আমি সবে ভিতরে ঢুকতে যাব, সেই সময়ে ও আমার হাত টেনে ধরে। শীতকাল ছিল, ওর পরনে হুডি ছিল। ছুরি বার করে নিজের হাতে গভীর ভাবে তিন-চার বার আঘাত করে।”
কণিকা আরও জানান, সেই সময় ওই যুবক তাঁর চুল ধরে টেনে বলেছিলেন, তাঁকে সিঁদুর পরিয়ে দেবেন। পরিস্থিতি বুঝে সঙ্গে সঙ্গে একজনকে পুলিশে খবর দিতে বলেন অভিনেত্রী। ওই ব্যক্তি পুলিশকে ফোন করতেই ভয় পেয়ে যান তাঁর প্রাক্তন প্রেমিক। কণিকার দাবি, এর পর দু’তিন দিন জেলেও থাকতে হয়েছিল ওই যুবককে। যদিও অভিযোগ, তার পরেও তাঁর পরিবারের সদস্যদের তরফে কণিকাকে হুমকি দেওয়া চলতে থাকে।
অভিনেত্রী স্বীকার করেন, পরিবারের কাছে নির্যাতনের কথা জানাতে ভয় পেয়েছিলেন তিনি। তবে শেষপর্যন্ত পরিবারই তাঁর পাশে দাঁড়ায়। সেই কারণে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন কণিকা।