২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রয়াত হন বলিউডের তারকা অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। ৮৯ বছর বয়সে মুম্বইয়ে চিরবিদায় নেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বয়সের কারণে বিভিন্ন অসুখে ভুগছিলেন। ধর্মেন্দ্রর মৃত্যুর পর থেকে একাধিকবার তাঁকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন তাঁর ছেলেমেয়েরা। তবে বাবার কথা বলতে গিয়ে বার বার আবেগতাড়িত হতে দেখা গিয়েছে ববি দেওলকে। তিনি জানান, ধর্মেন্দ্রের মৃত্যুর পর থেকে সব ফাঁকা লাগত তাঁর। এমনকী মাস কয়েক ঘুমোতে পর্যন্ত পারেননি তিনি।
আরও পড়ুন:
তাঁর বাবা যে কতখানি জনপ্রিয় ছিলেন, তা অবশ্যই জানতেন তিনি। কিন্তু, ধর্মেন্দ্রের প্রয়াণের পরে যে ভাবে শোকবার্তা ও ভালবাসা আসে তাতে তিনি আপ্লুত হয়ে পড়েন। সম্প্রতি এক পডকাস্ট অনুষ্ঠানে এসে ববি জানান, তাঁর বাবার মৃত্যু যেন তাঁকে চিরতরের জন্য বদলে দিয়েছে।
ববির কথায়, ‘‘জীবনে বিশেষ কাউকে হারালে মানুষ অনেকখানি বদলে যায়। শুরুতে নিজেকে দুর্বল, অস্থির অনুভব করতাম। কয়েক মাস ধরে আমার ভিতরে একটা শূন্যতা ছিল। কিন্তু তারপর, যতই আমি তাঁর কথা ভাবতে শুরু করলাম, ততই শক্তিশালী হয়ে উঠতে লাগলাম। সুন্দর স্মৃতিগুলো আমাকে সাহস ও শক্তি জোগাতে শুরু করে।’’ অভিনেতা জানান, ধর্মেন্দ্রের মৃত্যুর পর প্রাথমিক সময়টা বেদনা ও বিভ্রান্তিতে কাটলেও, ধীরে ধীরে বাবার স্মৃতিগুলো তাঁর জন্য সান্ত্বনা ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে।
ববি আরও জানিয়েছেন যে, বাবার মৃত্যুর পরেও তিনি তাঁর সঙ্গে এক গভীর সংযোগ অনুভব করেন। অভিনেতা বলেন, ‘‘বাবা আমাকে জিজ্ঞেস করেন যে আমি কাজে যাব কি না, সেই স্মৃতিটা প্রতিদিন আমার মনে ভেসে ওঠে। আমার মনে হয় উনি ইচ্ছে করেই ওই স্মৃতিটা রেখে গিয়েছেন। ৮৯ বছর বয়সেও কাজে যাওয়ার মারাত্মক খিদে ছিল তাঁর। উনি আমাকে সেই স্মৃতি দিয়ে যেতে চেয়েছিলেন যাতে আমি আরও কাজ করতে পারি।’’
বাবার স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ববির আরও সংযোজন, ‘‘অসুস্থ হওয়ার কয়েক সপ্তাহ আগে, আমি কাজে যাওয়ার সময় বাবা সোফায় বসেছিলেন। তিনি ‘বব’ বলে ডাকলেন। আমি সাড়া দিলাম, আর তিনি শুধু হাসলেন। সেই মুহূর্তটা আমার মাথায় বারবার ফিরে আসে। আমি প্রায় সময়েই বাবার উপস্থিতি অনুভব করি। তিনি আমাকে পথ দেখান। আমার কথার জবাব দেন তিনি।’’
‘অ্যানিম্যাল’ ছবির পর থেকে একের পর এক সাফল্য দেখেছেন ববি। খুব শীঘ্রই মুক্তি পেতে চলেছে ‘আলফা’ ছবিটি। চার পাশে সাফল্যের মাঝে পিতৃশোক কাটিয়ে উঠতে পারছেন না ববি।