বহু বিতর্কের পরে অবশেষে ওটিটি-তে মুক্তি পেয়েছিল দিলজীত দোসাঞ্জের ছবি ‘সতলুজ’। কিন্তু অজানা কারণে আচমকাই ভারতে বন্ধ হয়ে গেল ছবির প্রদর্শন। এই বিষয়ে ইতিমধ্যেই নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দিলজীত।
পঞ্জাবের প্রেক্ষাপটে এই ছবিটি যশবন্ত সিংহ খালরা নামে প্রাক্তন এক ব্যাঙ্ক ম্যানেজার তথা এক মানবাধিকার কর্মীর জীবনকে কেন্দ্র করে তৈরি। শুরু থেকেই ছবিটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। দিলজীত ইনস্টাগ্রামের একটি লাইভ সেশনে জানান যে, তিনি আন্দাজই করেছিলেন, এই ছবির প্রদর্শন বন্ধ করে দেওয়া হবে। তাই অবাক হননি। তবে তিনি অনুমান করেছিলেন, সোমবার থেকে হয়তো প্রদর্শন বন্ধ হবে। কিন্তু এক দিন আগেই তা হওয়ায় কিছুটা অবাক তিনি।
৩ জুলাই ওটিটি-তে মুক্তি পেয়েছিল এই ছবি। ওটিটি মঞ্চের তরফে জানানো হয়েছে, ‘বর্তমান পরিস্থিতি’র কথা মাথায় রেখে পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত ‘সতলুজ’ দেখানো সম্ভব হচ্ছে না। তবে তিন দিনের মধ্যেই বহু দর্শকের কাছে পৌঁছে গিয়েছিল এই ছবি, মনে করছেন দিলজীত। দর্শকের একাংশ এই ছবি ইতিমধ্যেই ডাউনলোডও করে ফেলেছেন বলেও মনে করছেন দিলজীত। তাই তিনি খুব একটা হতাশ নন।
দিলজীত অভিযোগ করেন, ১৯৯৫ সাল থেকে পঞ্জাবের কণ্ঠরোধের চেষ্টা চলছে। তাঁর দাবি, ২০২৬ সালেও সেই পরিস্থিতি বদলায়নি। তবে তাঁর মতে, ছবি সরিয়ে দেওয়া হলেও ‘সতলুজ’-এর কণ্ঠ আর চাপা দেওয়া যাবে না। কারণ, এই ছবির গল্প ইতিমধ্যেই বহু মানুষের কাছে পৌঁছে গিয়েছে। অভিনেতা আরও জানান, তিনি বা ছবির নির্মাতারা কখনও পঞ্জাবি চলচ্চিত্রজগৎ বা বলিউডের কারও কাছে সাহায্য চাননি। দিলজীতের কথায়, ‘‘গত তিন-চার বছর ধরে এই ছবি মুক্তির জন্য লড়াই করছি। কারও কাছে গিয়ে সমর্থন চাইনি। পঞ্জাবি ইন্ডাস্ট্রি বা বলিউডের কাউকেই বলিনি, আমাদের ছবির মুক্তিতে সাহায্য করুন। এই লড়াই আমরা নিজেরাই লড়েছি।’’
আরও পড়ুন:
দিলজীত বলেন, ‘সতলুজ’ দর্শকের মনে যে প্রভাব ফেলেছে, তা দেখে তাঁর আশা বেড়েছে। তিনি একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে জানান, বিদেশে এক কিশোরকে তিনি যশবন্ত সিংহ খালরার সম্পর্কে পড়তে দেখেছিলেন। তাঁর মতে, এখন তরুণ প্রজন্মও যশবন্ত সিংহ খালরা এবং তাঁর কাজ নিয়ে আলোচনা করছে। দিলজিৎ বলেন, ‘‘ওঁর আত্মত্যাগ কখনও বিফলে যেতে পারে না। আজ ঘরে ঘরে ওঁকে নিয়ে কথা হচ্ছে।’’
ছবি তৈরির নানা বাধার কথাও জানান দিলজীত। তিনি বলেন, একসময় ১০ থেকে ১৫ দিনের জন্য শুটিং বন্ধ রাখতে হয়েছিল। একের পরে এক সমস্যার মুখে পড়তে হয়েছে। পরিচালক হানি ত্রেহানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘‘হানিকে আমি কুর্নিশ জানাই।’’
যশবন্ত সিংহ খালরার জীবন নিয়ে ছবি তৈরির আগে হানি প্রায় দুই থেকে তিন বছর গবেষণা করেছিলেন। সব মিলিয়ে ‘সতলুজ’ তৈরি করতে হানি তাঁর জীবনের ছয় থেকে সাত বছর কাটিয়েছেন বলে জানান।
‘সতলুজ’ ওটিটি মঞ্চ থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রণবীর শৌরী ও হরভজন সিংহ। সমাজমাধ্যমে রণবীর লেখেন, ‘‘‘সতলুজ’ সরিয়ে দেওয়া হয়েছে শুনে ভীষণ হতাশ লাগছে। অনেক দিন ধরেই ছবিটি দেখার অপেক্ষায় ছিলাম। যে দেশে এত প্রাচীন ইতিহাস এবং গল্প রয়েছে এবং সেখান থেকে শেখার আছে, তা কেন বার বার চাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে, বুঝতে পারি না।’’ ক্ষোভ উগরে দিয়ে হরভজন লিখেছেন, “সত্য সারা জীবন চাপা দিয়ে রাখা যায় না।”