গানের প্রেক্ষাপটে সমাজ ও সম্পর্কের গল্প। সুরে সুরে গাঁথা হবে পাঁচ নারীর স্বাধীনতা, প্রতিবাদ ও ভালবাসার গল্প। ছবির নাম ‘পরশমণি’, পরিচালনায় গুল বাহার সিংহ। অভিনয়ে শ্রীতমা মিত্র, রাহুল গঙ্গোপাধ্যায়, অঙ্কিতা ব্রহ্ম, ঐশিকী ঘটক, অদিতি বিষ্ণু, ইপ্সিতা নাগ, খরাজ মুখোপাধ্যায় ও কৌশিক সেন।
নারীর স্বাধীনতা, নারীর মুক্তি, নারীর ক্ষমতায়ন, আত্মপরিচয়ের সন্ধান, বন্ধুত্ব, প্রতিবাদ ও ভালবাসার নানা অনুভূতিকে কেন্দ্র করে তৈরি হবে এই ছবি। বিভিন্ন আঙ্গিকে ধরা পড়বে পাঁচ নারীর জীবনসংগ্রাম, স্বপ্ন, সম্পর্কের টানাপড়েন এবং নিজেদের মতো করে বাঁচার আকাঙ্ক্ষা। বোঝাই যাচ্ছে, এই ছবির অন্যতম আকর্ষণ সঙ্গীত। সুরজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋজু রায় এবং চন্দন রায়চৌধুরী একসঙ্গে ছবির সঙ্গীত পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন।
(বাঁ দিক থেকে) শ্রীতমা মিত্র, ইপ্সিতা নাগ, অঙ্কিতা ব্রহ্ম, রাহুল গঙ্গোপাধ্যায়, ঐশিকী ঘটক, অদিতি বিষ্ণু। ছবি: সংগৃহীত
‘পরশমণি’র কাহিনি আবর্তিত হয়েছে মধ্যবিত্ত পরিবারের পাঁচ শিক্ষিত তরুণীকে ঘিরে। জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রত্যেকেই কোনও না কোনও ভাবে পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা, সামাজিক অবিচার, শোষণ কিংবা সম্পর্কের তিক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা তাদের মনে তৈরি করেছে ক্ষোভ, অভিমান এবং নিজেদের শর্তে জীবনযাপনের তীব্র আকাঙ্ক্ষা।
রাহুল গঙ্গোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
তবে প্রতিকূলতার মধ্যেও পাঁচ জনের মধ্যে রয়েছে এক বিশেষ মিল— সঙ্গীতের প্রতি গভীর ভালবাসা। সেই ভাললাগাকে সম্বল করেই তারা একত্রিত হয়ে গড়ে তোলে নিজেদের মিউজ়িক্যাল ব্যান্ড। নাম রাখে ‘পরশমণি’। ধীরে ধীরে তাদের গান জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। মঞ্চের আলো, দর্শকের উচ্ছ্বাস এবং সঙ্গীতের শক্তিকে সঙ্গী করে তারা ফিরে পেতে থাকে হারিয়ে যাওয়া আত্মবিশ্বাস এবং নিজেদের স্বতন্ত্র পরিচয়।
খরাজ মুখোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত
কিন্তু, এর মধ্যেও আছে ট্যুইস্ট। একসঙ্গে পথচলার শুরুতেই তারা নিজেদের দেয় এক শর্ত। কেউ প্রেমে পড়বে না, বিয়ে করবে না কিংবা কোনও সম্পর্কের জন্য নিজের স্বাধীনতা বিসর্জন দেবে না। কিন্তু মানুষের তৈরি নিয়মে কি জীবনের অনুভূতিকে বেঁধে রাখা সম্ভব? ভালবাসা কি কোনও নিয়ম মানে?
এই প্রশ্নগুলিকে কেন্দ্র করেই এগিয়ে চলে ‘পরশমণি’র গল্প। যেখানে প্রতিবাদের পাশাপাশি রয়েছে আবেগ, বন্ধুত্বের পাশাপাশি রয়েছে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব আর স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে মিশে রয়েছে ভালবাসাকে নতুন করে চিনে নেওয়ার অভিজ্ঞতা। এই ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক ভালবাসা এবং সম্পর্কের জটিলতা।
কৌশিক সেন। ছবি: সংগৃহীত
গল্পের অন্যতম চরিত্র সঙ্গীত। ‘পরশমণি’র কাহিনিতে সঙ্গীতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাঁচ প্রধান চরিত্রের জীবন, তাদের বন্ধুত্ব, আবেগ, প্রতিবাদ এবং আত্মপরিচয়ের সন্ধানের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে গান। ছবির গল্পে সঙ্গীত তাই নিছক অনুষঙ্গ নয়; বরং পাঁচ নারীর ব্যক্তিগত ও যৌথ যাত্রার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।
খবর, চলতি অক্টোবরের শেষ দিকে ছবির শুটিং শুরু হওয়ার কথা। ২০২৭ সালের প্রথম দিকে ছবিটি মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতীক বাসওয়ানির প্রযোজনায় তৈরি হবে এই ছবি।