সপ্তাহান্তে প্রেক্ষাগৃহে একসঙ্গে মুক্তি পাচ্ছে নানা স্বাদের বেশ কয়েকটি ছবি। হিন্দি, বাংলা ও বিদেশি ছবির তালিকায় যেমন রয়েছে বাস্তব ঘটনার ছায়ায় তৈরি অপরাধের গল্প, তেমনই রয়েছে প্রেম, পরিবার, অতিপ্রাকৃত ঘটনা এবং ঐতিহাসিক বিদ্রোহের কাহিনি। তবে এই সপ্তাহের অন্যতম আকর্ষণ করীনা কপূর খানের ‘দায়রা’ এবং প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ‘ডাক্তার কাকু’।
দায়রা: মেঘনা গুলজ়ারের এই ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় করীনা কপূর খান ও পৃথ্বীরাজ সুকুমারন। করীনা অভিনয় করেছেন পুলিশ আধিকারিক অজুনী কোহলীর চরিত্রে, পৃথ্বীরাজকে দেখা যাবে রমন কুমারের ভূমিকায়। একটি গুরুতর অপরাধের তদন্ত করতে গিয়ে দুই পুলিশ আধিকারিকের পথ আলাদা হয়ে যায়। প্রথমে শোনা গিয়েছিল হায়দরাবাদে ২০১৯ সালে পশুচিকিৎসক তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। তবে মেঘনা জানান, ছবিটি কোনও একটি নির্দিষ্ট সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি নয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া একাধিক সত্য ঘটনার প্রসঙ্গ নিয়ে ছবির গল্প তৈরি হয়েছে। এমনকি, ছবির জন্য একটি কাল্পনিক শহরও তৈরি করা হয়েছে।
ডাক্তার কাকু: পাভেলের পরিচালনায় তৈরি বাংলা ছবি ‘ডাক্তার কাকু’। অভিনয় করেছেন প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়, ঋদ্ধি সেন, এনা সাহা। বাবা ও ছেলের গল্প এই ছবির কেন্দ্রে। দু’জনেই চিকিৎসক। কিন্তু পেশা এবং মানুষের প্রতি দায়িত্ব নিয়ে তাঁদের ভাবনায় বিস্তর তফাত। ব্যক্তিগত মতপার্থক্যের সঙ্গে যখন রোগীর জীবন বাঁচানোর দায়িত্ব এসে মিশে যায়, তখন সম্পর্কের সেই টানাপড়েনই ছবির মূল বিষয়।
দ্য আপরাইজিং: চতুর্দশ শতকের ইংল্যান্ড। অ্যান্ড্রু গারফিল্ড এক কৃষকের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। সেই কৃষক নিজের পরিবারকে হারানোর পরে করের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে জড়িয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে সেই প্রতিবাদই বড় বিদ্রোহের রূপ নেয়। ১৩৮১ সালের কৃষক বিদ্রোহকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবিতে সেই সময়ের সামাজিক বৈষম্য এবং শাসকের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ উঠে এসেছে। ছবির সঙ্গে রবিনহুডের একটি যোগসূত্র রাখা হয়েছে। তবে এটি সরাসরি রবিনহুডের গল্প নয়। ছবির শেষ দিকে গারফিল্ডের চরিত্রকে এমন ভাবে দেখানো হয়েছে, যা রবিনহুডের কথা দর্শককে মনে করিয়ে দেবে।
ভাইব: কুণাল খেমুর লেখা, পরিচালনা। তিনি অভিনয়ও করেছেন। ছবিতে রয়েছেন প্রীতি জ়িন্টা, স্পর্শ শ্রীবাস্তব এবং নবাগত বংশিকা ধীরও। দুই বন্ধুর এলোমেলো জীবন নিয়ে গল্প। তাদের জীবন এমনিতেই নানা ঝামেলায় ভরা। তার মধ্যে একের পর এক ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। ফলে বন্ধুত্ব, বিপত্তি এবং হাসির মোড়কে এগিয়েছে ছবির গল্প। ‘মডগাঁও এক্সপ্রেস’-এর পরে এটি কুণাল খেমুর পরিচালিত দ্বিতীয় ছবি।
রেসিডেন্ট ইভিল: ভয়ের ছবি দেখতে যাঁরা পছন্দ করেন, তাঁদের জন্য রয়েছে ‘রেসিডেন্ট ইভিল’। এই নতুন ছবির কেন্দ্রে ব্রায়ান নামের এক ওষুধ সরবরাহকারী যুবক রয়েছে। একটি কাজের সূত্রে তাকে যেতে হয় শহরে। সেখানে পৌঁছেই সে ভয়ঙ্কর এক ভাইরাসের সংক্রমণ এবং সংক্রমিত প্রাণীদের মধ্যে আটকে পড়ে। এর পর শুরু হয় বেঁচে থাকার লড়াই।
প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক ২: প্রায় তিন দশক পরে আবার ফিরছেন স্যান্ড্রা বুলক ও নিকোল কিডম্যান। ১৯৯৮ সালের ‘প্র্যাকটিক্যাল ম্যাজিক’-এ দুই বোনের গল্প এবার এগিয়েছে নতুন প্রজন্মকে নিয়ে। পরিবারের পুরনো অভিশাপ ফের সামনে আসে। নতুন প্রজন্মও সেই জাদু ও অভিশাপের জালে জড়িয়ে পড়ে। প্রথম ছবির সঙ্গে দ্বিতীয় ছবির যোগসূত্রও বেশ কিছু জায়গায় রাখা হয়েছে।
বেপরোয়া: বাংলা ছবির তালিকায় রয়েছে আদৃত রায় ও আর্যা রায়ের ছবি ‘বেপরোয়া’। পরিচালনায় অভিরূপ ঘোষ। আদ্যোপান্ত প্রেমের গল্প। প্রথম প্রেমের নানা দিক উঠে আসে ছবিতে। এক তরুণ-তরুণীর জীবনে প্রেম আসার পর কী ভাবে তাঁদের জীবন, ভাবনা এবং নিজেদের সম্পর্কে ধারণা বদলে যায়, সেটাই দেখানো হয়েছে ছবিতে। ছবিতে নতুন মুখ আর্যা রায়ের আত্মপ্রকাশ উল্লেখযোগ্য। ইতিমধ্যেই ছবির বেশ কয়েকটি গান মুক্তি পেয়েছে। আদৃত ও আর্যার রসায়ন নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।
ওম কা হরি: হরিশ ব্যাসের ‘ওম কা হরি’ ছবিতে অভিনয় করেছেন অংশুমান ঝা, আয়েশা কপূর, সোনি রাজ়দান, এবং রঘুবীর যাদব। ভোপালের এক পরিবার এই ছবির কেন্দ্রে। পরিবারের সম্পর্ক, টানাপড়েন নিয়ে এই ছবি তৈরি। পরিবারের মধ্যে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ছবিতে মানুষের সম্পর্কের নানা রং উঠে আসে।