বলিউড অভিনেতা তথা আমির খানের ভাগ্নে ইমরান খান পেলেন ভারত ছাড়ার নোটিস। এ নিয়ে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানালেন অভিনেতা। বম্বে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হলেন ‘জানে তু ইয়া জানে না’-খ্যাত অভিনেতা।
ভারতীয় নাগরিক না হয়েও ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় অভিবাসন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় ইমরানের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মুম্বই পুলিশ। প্রসঙ্গত, ইমরান ভারতীয় বংশোদ্ভূত হলেও মার্কিন নাগরিক। কিন্তু ইমরানের আইনজীবীর দাবি, ‘ওভারসিজ় সিটিজ়েন অফ ইন্ডিয়া’ হয়ে কোনও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার ব্যাপারে কোনও আইনি নিষেধাজ্ঞা নেই।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতেই আটক করা হয়েছিল তাঁকে।
গত সপ্তাহে মুম্বইয়ে এসআইআর প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে ক্রান্তি ময়দানে সিজেপি-র ডাকা একটি প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছিলেন ইমরান। মূলত, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ওই বিক্ষোভের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার পরেই মুম্বই পুলিশের হাতে আটক হন অভিনেতা। ইমরানের কাছে আমেরিকার পাসপোর্ট রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ইমরানের সঙ্গে ছিলেন তাঁর প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন, তুতো বোন জ়েন মেরি খান। সে দিন ওই প্রতিবাদস্থল থেকে প্রায় ৬০০ জনকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ইমরান, লেখা ও জ়েনও ছিলেন।
আরও পড়ুন:
ইমরানের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বিজেপি নেতা কিরীট সোমৈয়া। তাঁর অভিযোগ, আমেরিকার নাগরিক হয়েও ইমরান বিক্ষোভে যোগ দিয়েছেন। সোমৈয়ার কথায়, “সাম্প্রতিক সময়ে ভারতে থাকাকালীন ইমরান খান যে রাজনৈতিক চরমপন্থা দেখিয়েছেন, তা দেশের নাগরিকেরা মেনে নিতে পারেন না।”
অভিনেতার বিরুদ্ধে আরও কড়া পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তিনি। সোমৈয়ার দাবি, ইমরানের বিরুদ্ধে অবিলম্বে পুলিশি পদক্ষেপ করা প্রয়োজন। তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক আন্দোলনে যোগ দিয়ে অভিনেতা ‘ওসিআই’ কার্ডের নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। যদিও ইমরানের আইনজীবীর বক্তব্য, ওসিআই কার্ডধারীদের প্রতিবাদে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে আইনে কোনও রকমের নিষেধাজ্ঞা নেই। সেই যুক্তিতেই দেশ ছাড়ার নোটিসকে আদালতে চ্যালেঞ্জ জানাতে চলেছেন অভিনেতা।
উল্লেখ্য, ইমরান ও তাঁর প্রেমিকা লেখার বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছিল মুম্বই পুলিশ। মুম্বই পুলিশের তরফে জানানো হয়েছিল, গাওদেবী থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়। এর মধ্যে ছিল ২২৩ ধারা (কোনও নির্দেশ অমান্য করা), ১২৬(২) ধারা (অন্যায় ভাবে কাউকে বাধা দেওয়া) এবং ১৮৯(২), ১৮৯(৩) ও ১৮৯(৫) ধারা (বেআইনি জমায়েত) সংক্রান্ত অভিযোগ। পুলিশকর্মীরাই এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করেন।