ইমতিয়াজ় আলির নতুন ছবি ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’ নিয়ে চলছে চারদিকে আলোচনা। ছবিটি মুক্তির পর থেকেই প্রশংসা কুড়িয়েছে। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ইমতিয়াজ়কে জিজ্ঞেস করা হয়, তিনি নিজেকে কেন ‘অরাজনৈতিক’ পরিচালক বলেন। কারণ, ছবিটিকে অনেকেই রাজনৈতিক ছবি হিসাবেই দেখেছেন বলে শোনা যাচ্ছে।
দেশভাগ এবং তার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ছবিতে উঠে এসেছে। ছবির শেষে গাজ়া ও প্যালেস্তাইনের দৃশ্যও দেখানো হয়েছে, যা বিশ্বের নানা প্রান্তে চলা মানবিক বিপর্যয়ের কথাই মনে করিয়ে দেয়। এই প্রশ্নের উত্তরে ইমতিয়াজ় বলেন, “রাজনীতি আসলে মানুষের ব্যক্তিগত আবেগ বা ইচ্ছা থেকেই তৈরি হয়। জীবনে আমিও বিষয়টিকে এ ভাবেই দেখি।”
আরও পড়ুন:
ইমতিয়াজ় এর পরেই স্বীকার করেন, ‘ম্যায় ওয়াপস আউঙ্গা’ ছবিতে রাজনীতি রয়েছে। তবু তিনি নিজেকে ‘অরাজনৈতিক’ বলতেই স্বচ্ছন্দ। তাঁর কথায়, “শেষ পর্যন্ত আমি কীনু আর জিয়ার পক্ষেই আছি। আর কীনু ও জিয়ারও নিজস্ব রাজনীতি আছে। তারা চায় না, দেশভাগ হোক। কিন্তু তার কারণ রাজনৈতিক নয়, একেবারেই ব্যক্তিগত। তারা একসঙ্গে থাকতে চায়, সেই জন্য দেশভাগ চায় না। এক জন শিখ, অন্য জন মুসলিম। এই রাজনীতির জন্ম ব্যক্তিগত আবেগ আর ইচ্ছা থেকে। আমিও জীবনকে এ ভাবেই দেখি।”
ব্যক্তিগত কারণ থেকে রাজনীতির জন্ম হয় বলে মনে করেন তিনি। সেই কারণেই নিজেকে ‘অরাজনৈতিক’ মনে করেন ইমতিয়াজ়। তাঁর মতে, এক জন পরিচালক হিসাবে তিনি কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পক্ষ নিতে পারেন না। কারণ, ছবির প্রতিটি চরিত্রকে বুঝে তবেই তার গল্প বলতে হয়। তাঁর কথায়, “আমি ছবিতে কোনও রাজনৈতিক পক্ষ নিতে পারি না। কারণ, আমাকে বুঝতে হয় প্রতিটি চরিত্র কেন সেই পথে হাঁটছে। আমরা অনেক সময়ে বলি, এটাই আমার রাজনীতি। কিন্তু তার পিছনেও ব্যক্তিগত কোনও না কোনও কারণ থাকে। এই কারণেই আমি নিজেকে অরাজনৈতিক বলি। কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে ছবি বানানো খুব সীমাবদ্ধ করে দেয়। এক জন পরিচালক হিসাবে যদি সবসময় একই রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েই কাজ করি, তা হলে নতুন করে পৃথিবীকে আবিষ্কার করার সুযোগ কোথায়? নিজেকে মুক্ত রেখে চারপাশকে দেখতে হয়।”