‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’ ফের শুক্রবার প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। এই আবহেই ছবিটি গীতিকার জাভেদ আখতার ভারতীয় ছবির গানের প্রতি নতুন প্রজন্মের ক্রমবর্ধমান ‘অস্বস্তি’ নিয়ে মুখ খুলেছেন। ১৯৯৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই ছবির জনপ্রিয় গানের কথা লিখেছিলেন তিনি। তাঁর মতে, পশ্চিমি সিনেমা ও সঙ্গীতের প্রভাবেই ভারতীয় ছবির গানের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ঘিরে নতুন প্রজন্মের মধ্যে এক ধরনের ‘বিব্রতবোধ’ তৈরি হয়েছে।
জাভেদ বলেন, “এখন যাঁরা পশ্চিমি সিনেমা দেখে ফেলেছেন, তাঁদের মধ্যে একটা অস্বস্তি আছে। নতুন প্রজন্ম প্রশ্ন করে, ভারতীয় ছবিতে এত গান কোথা থেকে আসে?” জাভেদের মতে, বাস্তবসম্মত নয় বলেই ছবির গানকে খারিজ করে দেওয়া উচিত নয়। তাঁর কথায়, “সিনেমার দৃশ্যে পার্টিতে দাঁড়িয়ে নায়ক গান গাইছে মানেই একেবারে মেকি দেখতে লাগছে! হতেই পারে, মেকি লাগছে তো কী করা যাবে? শিল্প কি আসল হওয়ার ঠেকা নিয়েছে?”
জাভেদের মতে, একটি গানের মূল্য নির্ভর করে তা শুনে দর্শকের কেমন অনুভূতি, তার উপরে। “সেটা আকর্ষণীয় হতে পারে, মুগ্ধ করতে পারে বা কোনও ভাল অনুভূতি, সৌন্দর্যবোধ দিতে পারে। সেটাই কোনও গানের আসল মূল্য নির্ধারণ করে”, মত গীতিকারের। বর্তমান সময়ের ছবির গান নিয়েও নিজের অসন্তোষের কথা জানিয়েছেন জাভেদ। তাঁর মতে, এখনকার সিনেমার গান দু’রকমের হয়। তাঁর মতে, “এখন গান হয় দ্ব্যর্থক, নয়তো অর্থহীন হয়। মাঝামাঝি অর্থপূর্ণ কোনও গান তৈরি হয় না।”
আরও পড়ুন:
আধুনিক ছবির গানে কথার ব্যবহার এবং দৃশ্যায়ন নিয়ে যখন বিতর্ক চলছে, সেই সময়েই জাভেদের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। গুরু রণধাওয়ার ‘ফাইন শিট’ এবং বাদশার ‘টটীরী’-র মতো গানও সাম্প্রতিক সময়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য শুধুমাত্র গীতিকার বা সুরকারদের দায়ী করতে নারাজ জাভেদ। তাঁর কথায়, “সঙ্গীত ও গল্প বলার সম্পর্ক তো সিনেমায় আবিষ্কৃত হয়নি, এই সম্পর্ক অনেক পুরনো।”
‘১৯৪২: আ লাভ স্টোরি’-র ‘এক লড়কী কো দেখা’ এবং ‘কুছ না কহো’র মতো কালজয়ী গানের স্রষ্টা জাভেদ আরও বলেন, “গীতিকার বা সঙ্গীত পরিচালকদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। তাঁরা যথেষ্ট প্রতিভাবান।” তাঁর কথায়, এখন সিনেমার নেপথ্যে বা আবহে গান বাজে। তার সঙ্গে অনেক সময়েই গল্পের যোগ থাকে না। তাঁর মতে, “একটি গান তখনই সত্যিকারের সুন্দর হয়ে ওঠে, যখন গল্পের সঙ্গে তার সরাসরি সম্পর্ক থাকবে বা চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করবে।” অর্থাৎ, ছবির গানের মধ্যে গল্পের অংশগ্রহণ এবং চরিত্রের প্রতিফলন থাকা জরুরি— তবেই সেই গান কাহিনির অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠতে পারে বলে মত বর্ষীয়ান শিল্পীর।