গোবিন্দের সঙ্গে লালবাগচা রাজার দর্শনে গিয়ে সিঁদুর পরা নিয়ে দিব্যা খোসলার প্রশ্নের জবাব দিলেন অভিনেত্রী কোমল রানি স্বর্ণকার। সমাজমাধ্যমে দীর্ঘ একটি পোস্টে কারও নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও দিব্যার মন্তব্যের জবাব দেওয়ার পাশাপাশি সুনীতা আহুজাকেও কটাক্ষ করেছেন কোমল।
কোমলের অভিযোগ, কয়েকজন তারকা সমাজমাধ্যমে তাঁকে এবং গোবিন্দকে নিয়ে প্রকাশ্যে নানা মন্তব্য করে তাঁদের নাম ‘কলঙ্কিত’ করার চেষ্টা করছেন। অথচ, গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও সামাজিক বিষয় নিয়ে তাঁরা নীরব। গোবিন্দের সঙ্গে লালবাগচা রাজার দর্শনে যাওয়ারও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। কোমলের দাবি, তাঁদের আগামী ছবি ‘রূপা’র সাফল্যের জন্য গণেশের আশীর্বাদ নিতেই তাঁরা সেখানে গিয়েছিলেন।
তিনি লেখেন, “আমার নায়কের সঙ্গে গণপতি বাপ্পার কাছে গিয়ে আমার আগামী ছবি ‘রূপা’র সাফল্যের জন্য প্রার্থনা করা কবে থেকে অন্যদের কাছে লজ্জার বিষয়, জাতীয় ইস্যু বা ‘দেখনদারি’ হয়ে গেল? আর এই তথাকথিত তারকারাই যখন নিজেদের ছবির প্রচারে বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের পুরুষ সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে যান, তখন তাঁরা লজ্জা পান না?”
গোবিন্দের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিয়ে যাঁরা মন্তব্য করছেন, তাঁদেরও নিশানা করেন কোমল। তাঁর অভিযোগ, নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখতেই কেউ কেউ এই বিতর্ককে ব্যবহার করছেন।
কোমলের কথায়, “ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির কিছু অভিনেত্রী, যাঁদের কেরিয়ার স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে, যাঁদের ছবি আর বক্সঅফিসে কাজ করছে না, তাঁরা অন্যের বিষয়ে নাক গলিয়ে প্রাসঙ্গিক থাকার চেষ্টা করছেন।”
লালবাগচার মণ্ডপে অভিনেত্রীর সিঁথিতে সিঁদুর দেখে নাম না করে কটাক্ষ করেছিলেন দিব্যা। তার জবাব দিতে গিয়ে আরও তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন কোমল। তিনি লেখেন, “সিঁদুর, বিয়ে বা আমাদের ভারতীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য নিয়ে আমি এমন মহিলাদের কাছ থেকে কোনও শিক্ষা নিতে আগ্রহী নই, যাঁরা নিজেরাই সিঁদুরকে নিয়ে ঠাট্টা করেন, যাঁদের নিজেদের বিয়ে ভেঙে যাচ্ছে এবং যাঁরা নিজেদের দাম্পত্য সম্পর্কের পবিত্রতাও বজায় রাখতে পারেন না।”
এরপর নাম না করেই নিজের পোস্টে মদ্যপান ও বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে আরও ব্যক্তিগত আক্রমণ করেন কোমল। তাঁর দাবি, “আমি মনে করি না, এমন মহিলাদের আমাকে বিচার করার কোনও যোগ্যতা রয়েছে— বিশেষ করে তাঁরা যদি এমন মানুষদের আদর্শ মনে করেন ও সমর্থন করেন, যাঁরা সারাজীবন রাতভর মদ্যপান করেছেন, একাধিক পুরুষের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন এবং এমনকি বৃদ্ধ বয়সেও তিন-তিন জন পুরুষের সঙ্গে রাত্রিযাপনের কল্পনা করেছেন। অথচ, নিজেদের খ্যাতির জন্য প্রকাশ্যে সেই স্বামীদের অপমান করেছেন, যাঁদের সঙ্গে তাঁরা জীবন কাটিয়েছেন এবং যাঁদের থেকে সুবিধাও পেয়েছেন। সত্যি বলতে, তাঁরা আমাকে ভাল মানুষ মনে করেন না খারাপ, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”
পোস্টের শেষেও নাম না করে সমালোচকদের নিশানা করেন কোমল। তাঁর অভিযোগ, কয়েক জন মহিলা নিজেদের ব্যর্থ দাম্পত্যের হতাশা অন্যের উপর উগরে দিচ্ছেন।
তিনি লেখেন, “আমার মনে হয়, তাঁরা সকলে একই দলের অংশ এবং নিজেদের ব্যর্থ বিয়ের হতাশা অন্য কারও উপর বার করছেন। তাঁরা ‘পুরুষখেকো’ মহিলার মতো আচরণ করছেন— যাঁরা নিজেদের স্বামীর সম্মান ও ভাবমূর্তি নষ্ট করেন। আমার নামের সঙ্গে বার বার নিজেদের জড়িয়ে প্রাসঙ্গিক থাকার চেষ্টা বন্ধ করুন। হয়তো প্রবাদটি সত্যিই ঠিক— আপনার সম্মান আপনার নিজের হাতেই। এই ধরনের মানুষদের নিজেদের সীমা জানা উচিত এবং অন্যকে এমন ভাবে উস্কানি দেওয়া বন্ধ করা উচিত, যাতে শেষপর্যন্ত তাঁদের নিজেদের অতীতই প্রকাশ্যে চলে আসে।”
গোবিন্দ ও কোমল যে দিন লালবাগচা রাজার দর্শনে গিয়েছিলেন, সেই দিনই তার কয়েক ঘণ্টা আগে একাই সেখানে গিয়েছিলেন সুনীতা। ঘটনাটি ঘিরে নতুন করে আলোচনায় আসে গোবিন্দ ও কোমলের সম্পর্ক। তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ করেছিলেন সুনীতা। তবে গোবিন্দ বার বার এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, কোমলের সঙ্গে তাঁর প্রকাশ্য উপস্থিতি শুধুমাত্র পেশাগত কারণে।
অন্য দিকে, গোবিন্দ ও সুনীতার দাম্পত্য নিয়ে সম্প্রতি প্রকাশ্যে মন্তব্য করে চলেছেন দিব্যা। গোবিন্দের সঙ্গে লালবাগচা রাজার দর্শনে যাওয়ার সময় কোমলের সিঁদুর পরা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। পাশাপাশি, নিজের স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করার অভিযোগও কোমলের বিরুদ্ধে করেছিলেন দিব্যা।