পুজোর পরই ভোট হতে চলেছে ‘ইমপা’য় (ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন)। রাজ্যে পালাবদলের পর থেকে ‘ইমপা’য় যে জটিলতা চলছিল তা নিয়ে একাধিক বার বৈঠকে বসেছেন সদস্যেরা। এ বার এই বৈঠকে হাজির স্বয়ং মিঠুন চক্রবর্তী। ইন্ডাস্ট্রির দায়িত্বভার এখন অনেকটাই তাঁর উপর রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি শান্তনু মোহন ও মিঠুনের উপস্থিতিতেই চার বিভাগের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় ভোট হওয়ার। শুক্রবার বিকেলে রবীন্দ্র সদনে এই বৈঠক হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী, পিয়া সেনগুপ্ত-সহ ‘ইমপা’ ও চার কমিটির সদস্যেরা।
‘ইমপা’র অবৈতনিক কোষাধ্যক্ষ শান্তনু রায়চৌধুরী জানান, ‘‘বৈঠকে ভোটের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারি তত্ত্বাবধানেই এই ভোটপ্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। ‘ইমপা’ যে চারটি বিভাগ নিয়ে তৈরি, অর্থাৎ প্রযোজক, পরিবেশক, প্রদর্শক এবং অ্যাসোসিয়েটদের উপস্থিতিতে তাঁদের সঙ্গে বৈঠক করেন মিঠুন চক্রবর্তী এবং শান্তনু মোহন। তাঁরা ভোটের দিন ধার্য করেন। এ দিন এ ছাড়া ‘ইমপা’র অন্য কোনও সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়নি। এর আগের মিটিংয়ে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’’
২০২৭ সাল পর্যন্ত ‘ইমপা’র বর্তমান কমিটি অব্যাহত থাকার কথা। তার আগেই যাতে ভোটপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন কমিটি তৈরি করা যায়, তারই ব্যবস্থা করা হবে বলেই খবর। পালাবদলের পর থেকেই ‘ইমপা’ অফিসে দফায় দফায় সমস্যা তৈরি হয়। পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে ওঠে নানা অভিযোগ। মিটিংয়ের মাঝেই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়। থানায় গিয়ে নিরাপত্তা চাইলে অফিসে মোতায়েন করা হয় পুলিশও। এর পর ধ্বনি ভোটে রতন সাহাকে সভাপতি নির্বাচিত করা হয়। সেখানেও ভোট নিয়ে একাংশের তরফে নানাবিধ অভিযোগ ওঠে।
ভোট হওয়ার সিদ্ধান্তে খুশি পিয়া সেনগুপ্ত। ছবি: সংগৃহীত
নিত্যদিনের কাজের ক্ষেত্রে কার কাছে যেতে হবে তা নিয়েও বিবিধ সমস্যা তৈরি হতে থাকে। এর পরই অকশন ভোটে জিতে আসেন কৃষ্ণ নারায়ণ দাগা। প্রযোজক-পরিবেশক রতন সাহার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘ভোটের দিন ঘোষণা হয়েছে বৈঠকে। খুঁটিয়ে দেখে করে যাঁরা যোগ্য তাঁরাই একমাত্র এই ভোট প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন। বাক সদস্যেরা ভোট দিতে পারবেন না। যিনি দীর্ঘদিন ধরে সিনেমার সঙ্গে যুক্ত নেই তিনি অংশ নিতে পারবেন না এই ভোট প্রক্রিয়ায়। তিনজন করে কমিটি তৈরি করে সরকারের তরফের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে এই ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।’’
এদিন বৈঠকে প্রযোজকের তরফে হাজির ছিলেন- ফিরদাউসুল হাসান। জিতের প্রযোজনা সংস্থার তরফে গোপাল মদনানি, অতনু রায়চৌধুরী সহ আরও অনেকে। ফিরদাউসুল হাসানের সঙ্গে আনন্দবাজার ডট কমের তরফে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘‘আমি বৈঠকে আমার বক্তব্য রেখেছি। আমার ব্যক্তিগত মত আমি মিঠুন চক্রবর্তীকেও জানিয়েছি। আমার মতে যাঁরা এই মুহূর্ত লগ্নি করছেন তাঁদের সামনে রেখে যেন ইমপার বডি তৈরি হয়। ইমপা একটা ট্রেড বডি, যতটা পারবে এটা ভালর জন্য লড়বে। এই বডি মানুষ দ্বারা পরিচালিত। তাই তাঁদেরকেই সামনে আনা প্রয়োজন যাঁরা এটা নিয়ে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন। বাংলা ছবির অবস্থা এখন যা তাতে এটা সত্যিই খুব প্রয়োজন।’’
এ বিষয়ে পিয়া সেনগুপ্তর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান-‘‘তিনি এই বৈঠকে হাজির ছিলেন। সঠিক প্রক্রিয়ায় মধ্য দিয়ে ভোট হওয়ার সিদ্ধান্তে তিনি খুশি।’’
সূত্রের খবর এদিন বৈঠকে ভোট নিয়ে একটা দ্বিমত তৈরি হয়। এক পক্ষর মত যাঁরা এই মুহূর্তে ইমপার সদস্য তাঁরা সকলেই ভোট করবেন আর অন্য পক্ষের দাবি যাঁরা অনেকদিন ধরে সদস্য হওয়ার সত্ত্বেও বেশকিছুদিন তাঁরা ছবি প্রযোজনা বা পরিবেশনার কাজ করছেন না, তাঁরা যেন এই ভোট প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত না থাকে। এর মধ্যেই এই বিষয়টি পরিস্কার করা হবে। তবে পুজোর পর নভেম্বরেই ভোট হবে তা পরিস্কার। দীর্ঘদিনের এই টানাপোড়েন অবশেষে শেষ হবে। বাংলা ছবির সুদিন ফেরাতে এটাই কী প্রথম পদক্ষেপ তা বলবে সময়।