আবেগ, প্রতিযোগীদের জীবনসংগ্রাম এবং বিচারকদের মন্তব্য— সব মিলিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রে গানের ‘রিয়্যালিটি’ শো। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে সেই চেনা ছকও। এখন এ ধরনের অনুষ্ঠানে দেখানো অনেক কিছুই ‘সাজানো’ বা চিত্রনাট্য, এমন অভিযোগও উঠছে। সম্প্রতি সেই বিতর্কে মুখ খুলেছিলেন গায়িকা সুনিধি চৌহান। এ বার তাঁর মন্তব্যের পাল্টা জবাব দিলেন নেহা কক্কড়।
বহু বছর ধরে একাধিক গানের অনুষ্ঠানে বিচারকের আসনে দেখা গিয়েছে নেহাকে। ফলে এই অনুষ্ঠানের অন্দরমহল তাঁর অজানা নয়। এই ধরনের অনুষ্ঠানের জনপ্রিয়তা এবং সেখানে প্রতিযোগীদের আবেগকে ‘নকল’ বলে উড়িয়ে দিতে নারাজ নেহা। তাঁর দাবি, মানুষের জীবন এবং অনুভূতি কোনও চিত্রনাট্য মেনে চলে না।
সুনিধি সম্প্রতি এক পডকাস্টে দাবি করেন, বর্তমানের রিয়্যালিটি শোগুলিতে আগের তুলনায় নাটকীয়তা অনেক বেশি। পর্দায় যা দেখানো হয়, তার সবটা যে সত্যি নয়, সেই ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তিনি। যদিও নিজের ‘ইন্ডিয়ান আইডল’-এর সময়টিকে তাঁর পেশাজীবনের ভাল সময় হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন গায়িকা।
সুনিধি চৌহান।
সুনিধির মন্তব্য প্রসঙ্গে নেহাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা আঙুর পান না, তাঁদের কাছে আঙুর ফল টকই।’’ নেহার এই মন্তব্যকে অনেকেই সুনিধির উদ্দেশে কটাক্ষ হিসাবেই দেখছেন।
তবে শুধু পাল্টা মন্তব্য করেই থামেননি নেহা। রিয়্যালিটি শোয়ের প্রতিযোগীদের আবেগ এবং তাঁদের জীবনের গল্প নিয়ে নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, এই অনুষ্ঠানগুলি মোটেই সাজানো নয়। কারও জীবনের গল্প শুনে তাঁর চোখে জল এলে সেই অনুভূতি তো আর চিত্রনাট্য মেনে হয় না।
নেহার যুক্তি, দেশের বিভিন্ন ছোট শহর ও প্রত্যন্ত জায়গা থেকে বহু প্রতিযোগী স্বপ্নপূরণের আশায় এই মঞ্চে আসেন। তাঁদের জীবনে থাকে নানা বাধা পেরিয়ে উঠে আসার গল্প। সেই অভিজ্ঞতাগুলি তাঁরা শুধুমাত্র অনুষ্ঠানের জন্য বানিয়ে বলছেন, এমনটা তিনি মনে করেন না। ‘‘সত্যি তো সত্যিই,’’ এমনটাই বক্তব্য নেহার।
নেহা কক্কড়।
এর পাশাপাশি নিজের সময়ের রিয়্যালিটি শোয়ের জনপ্রিয়তা নিয়েও খানিক আত্মবিশ্বাসী নেহা। মজার ছলে তাঁর দাবি, তিনি বিচারকের আসনে থাকার সময় অনুষ্ঠানের টিআরপি ছিল সর্বোচ্চ। এমনকি তিনি অনুষ্ঠান ছেড়ে দেওয়ার পর তার জনপ্রিয়তা কমেছে বলেও মন্তব্য করেন গায়িকা। তাঁর কথায়, তিনি যখন অনুষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তখন টিআরপি ছিল সবচেয়ে বেশি। এখন অনুষ্ঠানটি তাঁর অনুপস্থিতিতে আগের মতো সাড়া না ফেললে তাঁর আর কী-ই বা করার আছে!
রিয়্যালিটি শোয়ের ‘সত্যি’ এবং ‘সাজানো’ আবেগ নিয়ে বিতর্ক অবশ্য নতুন নয়। তবে একই অনুষ্ঠানের দুই প্রাক্তন বিচারক যখন একেবারে বিপরীত মত পোষণ করেন, তখন সেই বিতর্ক যে আরও আলোচনায় আসবে, তা বলাই যায়।