সোনম ওয়াংচুকের কর্মকাণ্ড থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে তৈরি করেছিলেন ‘থ্রি ইডিয়ট্স’। সেই ওয়াংচুক গত ১৭ দিন ধরে অনশন করছেন দিল্লির যন্তর মন্তরে। এর জেরে তাঁর শরীরের ওজন কমেছে ৮ কেজি। দেশ জুড়ে তাঁর অনুগামীরা চিন্তায়। উদ্বেগে দেশের রাজনৈতিক থেকে বুদ্ধিজীবী মহলের একটা অংশ। কিন্তু এখনও চুপ ‘থ্রি ইডিয়ট্স’ ছবির সেই বিজ্ঞানী ফুংসুক ওয়াংডুর চরিত্রে অভিনয় করা আমির খান। তবে সেই ছবির অন্যতম চরিত্র ‘চতুর’ ওমি বৈদ্য একটি ভিডিয়ো করে সোনমকে সমর্থন জানিয়েছেন।
২০২৬-এর নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে দিল্লির যন্তর মন্তরে অনশন করছেন সোনম। ক্রমশ শারীরিক অবনতি হচ্ছে তাঁর। ওমি একটি ভিডিয়োর মাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি ‘ফুংসুক ওয়াংড়ু’কে মরতে দিতে চান না। ‘থ্রি ইডিয়ট্স’ ছবিতে সোনম ওয়াংচুক-অনুপ্রাণিত চরিত্র ফুংসুক ছিলেন পেশায় ইঞ্জিনিয়ার, উদ্ভাবক ও শিক্ষাবিদ। সোনম সম্পর্কে ওমি ভিডিয়োয় বলেছেন, “আমি এই মানুষটার সঙ্গে দেখা করেছিলাম। অসাধারণ চরিত্রের মানুষ। বর্তমানে দীর্ঘ অনশনে রয়েছেন তিনি। ওরঁ রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটা কমে গিয়েছে এক ধাক্কায়। আমি জানি না, আপনারা এই খবরটা আদৌ জানেন কি না। কিন্তু এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।”
সোনমের স্বাস্থ্য নিয়ে চিন্তিত ওমি বলেন, “ওঁর মতামতের সঙ্গে আপনারা সহমত হোন বা না হোন, আমি চাই না এই মানুষটার মৃত্যু হোক।” মানুষ যাতে সোনম ওয়াংচুকের এই আন্দোলন সম্পর্কে অবহিত থাকেন, সেই আর্জিও জানিয়েছেন ওমি।
সোনমকে সমর্থন জানিয়েছেন বর্ষীয়ান তারকা জ়ীনত অমানও। সমাজমাধ্যমে সোনমের ছবি ভাগ করে নিয়ে তিনি লিখেছেন, “আজ আমার মন দেশের রাজধানী দিল্লিতে পড়ে রয়েছে। সেখানে সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশনে রয়েছেন। ১৭তম দিনে পৌঁছে গিয়েছেন তিনি। এক জায়গায় পড়লাম, সোনম ওয়াংচুকের শরীরের পেশি ক্ষয় হতে শুরু করেছে এবং তিনি খুবই কষ্টে আছেন। তাঁকে অনশন ভাঙার অনুরোধ করা হলে তিনি বলেছেন, ‘আমাকে অনশন ভাঙতে বলবেন না। সরকার কেন আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসছে না, সেই প্রশ্ন করুন।’”
সোনম ওয়াংচুকের ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়ে জ়ীনত ভারত সরকারের কাছে অনুরোধ করেছেন, “এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনায় বসুন। এটি শুধু লাদাখের নয়, পুরো ভারতের ভবিষ্যতের সঙ্গেও জড়িত। আমরা এমন একটি সমাজ হতে পারি না, যেখানে দেশের অন্যতম মেধাবী এক জন মানুষকে নীরবে আত্মত্যাগ করতে দেখব। ভারতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তাই যাঁরা ক্ষমতায় আছেন, তাঁদেরও উচিত শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের জবাব শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে দেওয়া।”
একটি যৌথ বিবৃতিতে নসীরুদ্দীন শাহ, অরুন্ধতী রায়, রত্না পাঠক সোনমকে সমর্থন জানিয়েছেন এবং তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ করেছেন। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের জন্য কৃতজ্ঞতাও জানিয়েছেন তাঁরা। বিবৃতিতে সোনমের উদ্দেশে তাঁরা লিখেছেন, “আপনার লক্ষ্য, দৃঢ় সঙ্কল্প এবং সাহসকে আমরা সম্মান জানাই। সারা দেশের ছাত্র-যুবদের জন্য আপনি যে আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তার জন্য আমরা আপনাকে অভিনন্দন জানাই। আমরা অনুরোধ করছি, সামনে যে দীর্ঘ ও কঠিন লড়াই রয়েছে, তার কথা ভেবে এখনই অনশন তুলে নিন। এই লড়াই অল্প সময়ের নয়, এটি দীর্ঘ পথের সংগ্রাম। আগামী দিনগুলোতে আমাদের আপনার শক্তি ও নেতৃত্বের প্রয়োজন হবে।”