সময়ের সঙ্গে ছবির ভাষা অনেকটাই পরিণত হয়েছে। অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয়ের জন্য এখন ‘ইন্টিমেসি কো-অর্ডিনেটর’ থাকেন। কিন্তু নব্বই দশকের শুটিং সেটগুলোতে এ সব কিছু ছিল না। তখন সহ-অভিনেতার উপরেই অনেকটা ভরসা করতে হত শিল্পীদের। সে যুগের এমনই এক অভিজ্ঞতার কথা শোনালেন অভিনেত্রী পূজা বেদী।
‘আতঙ্ক হী আতঙ্ক’ ছবিতে আমির খানের সঙ্গে একটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যের শুটিং করতে হয়েছিল পূজাকে। শেষপর্যন্ত যদিও সেই দৃশ্য ছবিতে রাখা হয়নি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে পূজা জানান, ছবির একটি দৃশ্যে খলনায়কের হাত থেকে তাঁকে উদ্ধার করেন আমিরের চরিত্র। বৃষ্টিতে ভেজা অবস্থায় তাঁকে কোলে তুলে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়ার পর তাঁদের একটি ঘনিষ্ঠ দৃশ্য ছিল।
আমির-পূজার জুটি নিয়ে বিপুল আলোচনা হয়েছিল সেই সময়ে। ছবি: সংগৃহীত।
পূজার কথায়, শুটিং হয়েছিল মঢ আইল্যান্ডের একটি বাংলোয়। তখনকার শুটিংয়ের পরিবেশও ছিল একেবারেই আলাদা। কোনও ভ্যানিটি ভ্যান না থাকায় শট শেষ হওয়ার পর তাঁদের দু’জনকে একটি ঘরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেই মুহূর্তের কথা বলতে গিয়ে পূজা জানান, ঘরে একটি বিছানা ছিল। অল্পবয়সি অভিনেত্রী হিসাবে তাঁর মাথায় তখন নানা চিন্তা ঘুরছিল। দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পরিস্থিতি নিয়ে কিছুটা ভয় ও সংশয়ও তৈরি হয়েছিল তাঁর মনে।
ঠিক তখনই নীরবতা ভাঙেন আমির। পূজার দাবি, তিনি হঠাৎ তাঁকে জিজ্ঞাসা করেন, “দাবা খেলবে?” সঙ্গে সঙ্গেই যেন পরিস্থিতি সহজ হতে শুরু করে। অভিনেত্রী রাজি হয়ে যান। কারণ, তাঁদের আগে থেকেই একসঙ্গে দাবা খেলার অভ্যাস ছিল। আমির তখন এক জন সহকারীকে ডেকে দাবার বোর্ড আনতে বলেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘরের পরিবেশ বদলে যায়। পূজার কথায়, সেই মুহূর্তেই তাঁর ভয় অনেকটা কেটে যায়। তিনি বলেন, “আমিরের ওই আচরণ আমাকে বিরাট স্বস্তি দিয়েছিল।”
পূজার এই স্মৃতিচারণের মাধ্যমেই উঠে এসেছে নব্বইয়ের দশকের চলচ্চিত্রে কাজের পরিবেশের একটি ছবিও। পাশাপাশি, তাঁর বর্ণনায় উঠে এসেছে শুটিংয়ে এমন সংবেদনশীল পরিস্থিতিতে একজন সহ-অভিনেতার আচরণ কী ভাবে অন্য অভিনেতাকে স্বস্তি দিতে পারে, সেই কথাও।
প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালে মুক্তি পেয়েছিল এই ছবি। সেখানে আমির ও পূজার পাশাপাশি ছিলেন জুহি চাওলা, রজনীকান্ত-সহ একাধিক অভিনেতা।