রাখঢাক করে কথা বলতে পছন্দ করেন না রাধিকা আপ্টে। চলতি মাসেই ৪১ বছরে পা দিয়েছেন অভিনেত্রী। সম্প্রতি ‘লাস্ট স্টোরিজ় ৩’ ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ছবিতে চল্লিশের কোঠার এক মহিলার চোখ দিয়ে যৌনতা এবং নারীর কামনাকে তুলে ধরা হয়েছে। রাধিকার বক্তব্য, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে নিজের যৌনতা এবং শরীরকে আরও ভাল করে চিনতে পারছেন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাধিকা বলেন, “সমাজ বয়স বৃদ্ধি নিয়ে ভীষণ নেতিবাচক। বয়স বৃদ্ধিকে কোনও কিছু নষ্ট হয়ে যাওয়ার মতো দেখা হয়। কিন্তু আমার বয়স এখন ৪১। এই বয়সে এসে কুড়ি বা তিরিশের তুলনায় নিজের শরীর এবং নিজেকে অনেক ভাল ভাবে চিনতে পারছি। কুড়ির কোঠায় আমরা মূলত বাবা-মা যে কাজগুলি করতে বারণ করেছিলেন, সেগুলিই করতে ব্যস্ত থাকি। আর তিরিশের কোঠায় এসে ভয় হয়, বাবা-মায়ের সেই কথাগুলির কয়েকটি অন্তত মেনে চলতে শুরু করি।”
অভিনেত্রীর মতে, চল্লিশের কোঠায় এসে মানুষ নিজের জায়গা খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর কথায়, “এই সময়টাই হল ইচ্ছা, নিজের চাহিদা, যৌনতা এবং নিজেকে বোঝার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। চল্লিশের কোঠায় এসে নিজেকে সবচেয়ে সুস্থ, তরুণ এবং প্রাণবন্ত মনে হয় আমার। বিশেষ করে মা হওয়ার পরে শরীরে অনেক পরিবর্তন আসে। ফলে নিজের শরীর এবং তার চাহিদাগুলিকে নতুন করে চিনতে শেখা যায়। এটা খুব সুন্দর একটা বয়স।”
নিজের ইচ্ছা এবং যৌনতা নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বললেও রাধিকা মনে করেন, ভারতীয় সমাজে এখনও বিষয়টি অনেকটাই নিষিদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সঙ্কোচ আরও বেশি। অভিনেত্রী বলেন, “শুধু যৌনতা বা ইচ্ছার কথা বাদই দিলাম। বিষয়টি শুরু হয় সমান অধিকার এবং নিজের কথা স্বাধীন ভাবে ভাবতে ও বলতে পারার জায়গা থেকে। আমিও ছোটবেলায় এমন পরিবেশেই বড় হয়েছি। মনে হত, যৌনতা খারাপ বা নোংরা কোনও বিষয়। এটা খুবই দুঃখের।”
আরও পড়ুন:
রাধিকার মতে, নারী এবং পুরুষের যৌন ইচ্ছাকেও সমাজ আলাদা চোখে দেখে। তাঁর প্রশ্ন, “পুরুষের ইচ্ছাকে এক ভাবে এবং মহিলার ইচ্ছাকে অন্য ভাবে দেখা হবে কেন? বিষয়টি তো দু’জনের একসঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার।”
নিজের কন্যাকে যৌনতা নিয়ে কোনও ধরনের লজ্জা বা ভয় নিয়ে বড় করতে চান না রাধিকা। তিনি বলেন, “আমি ঠিক করেছি, আমার মেয়ে যদি নিজের শরীর বা ইচ্ছা সম্পর্কে কিছু জানতে শুরু করে, আমি কখনও তাকে লজ্জায় ফেলব না।” তাঁর মতে, যৌনতা নিয়ে খোলাখুলি আলোচনা না করার প্রভাব নারী ও পুরুষ, দু’জনের উপরেই পড়ে।