সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর ‘পদ্মাবত’ ছবির আত্মাহুতির দৃশ্য নিয়ে স্বরা ভাস্করের মন্তব্য নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। এ বার সেই বিতর্কে মুখ খুললেন অভিনেতা রণবীর শৌরী। স্বরার বক্তব্য নিয়ে পাল্টা প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। এমনকি অভিনেত্রীর বক্তব্যকে ‘নির্লজ্জ’ বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।
বুধবার এক্স হ্যান্ডলে নিজের মতামত জানান রণবীর। স্বরার বক্তব্য, ছবিতে আত্মাহুতির দৃশ্য দেখে ধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলারা নিজেদের দিকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন। ছবিতে দেখানো হয়েছিল, মহিলারা শত্রুর হাতে নির্যাতিত হওয়ার থেকে আগুনে ঝাঁপ দেওয়াকেই সঠিক মনে করেছিলেন। এই ভাবেই তাঁরা ‘সম্মান বাঁচিয়েছিলেন’। তা হলে ধর্ষিতা মহিলারা কি আত্মহননের পথ বেছে না নিলে সম্মান হারিয়ে ফেলবেন? এমন প্রশ্ন তুলেছিলেন স্বরা। অভিনেত্রীর বক্তব্যের সমর্থনেও অনেকে কথা বলেন। তবে আপত্তি রয়েছে রণবীরের।
অভিনেতা বলেন, “আমি এখনও বুঝতে পারছি না! আত্মাহুতির দৃশ্যের সঙ্গে ধর্ষণের শিকার হওয়া মহিলাদের তুলনা করার কী দরকার? দুটো তো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।” স্বরাকে কটাক্ষ করে এর পর রণবীর আরও লেখেন, “এর একমাত্র উদ্দেশ্য হতে পারে একটি গোষ্ঠীকে হেয় করা এবং অন্য একটি গোষ্ঠীর ভাবমূর্তি পরিষ্কার করার চেষ্টা করা। অত্যন্ত নির্লজ্জ।”
‘পদ্মাবত’ নিয়ে মন্তব্য করেন স্বরা। ছবি: সংগৃহীত
‘পদ্মাবত’ মুক্তির পর সঞ্জয় লীলা ভন্সালীকে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন স্বরা। সম্প্রতি দিল্লির এক আলোচনাসভায় তাঁকে সেই চিঠি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। তখনই ছবিতে আত্মাহুতি দেখানোর বিষয়টি নিয়ে নিজের আপত্তির কথা জানান অভিনেত্রী।
সেই দৃশ্য প্রসঙ্গে স্বরা বলেছিলেন, “আমি ছবিটা দেখছিলাম। সেখানে ৮০০ জন মহিলা আত্মাহুতির পথে যাচ্ছেন। সেটাই ছবির গল্প। দৃশ্যটা দেখতে দেখতে আমার মনে হচ্ছিল, আমি যদি ধর্ষণের শিকার হতাম, তা হলে এই ছবি আমাকে কী বার্তা দিত? আমার মনে হত, আমি ভীতু। কারণ নিজের ‘সম্মান’ বাঁচাতে আমি আত্মহত্যা করিনি।” বিতর্ক শুরু হতেই যুক্তি দিয়ে স্বরা এ-ও বলেন, “আমি একেবারেই বলিনি যে, রানি পদ্মাবতী কাপুরুষ ছিলেন বা প্রাসাদের অন্য যে মহিলারা গণআত্মাহুতি দিয়েছিলেন, তাঁরাও কাপুরুষ ছিলেন। কিন্তু কখনও কোনও মহিলার বেঁচে থাকার ইচ্ছাকে ছোট করে দেখবেন না।” তাঁর মন্তব্য ভুল ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে বলেও স্বরা দাবি করেছিলেন।