সঙ্গীতশিল্পী এবং ‘ভারতরত্ন’ এমএস সুব্বুলক্ষ্মীর জীবন এ বার উঠে আসছে বড়পর্দায়। তাঁর জীবনীচিত্র নিয়ে ইতিমধ্যেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে দর্শকের মধ্যে। সুব্বুলক্ষ্মীর চরিত্রে অভিনয় করছেন রশ্মিকা মন্দানা। পরিচালনায় গৌতম তিনানুরী।
বুধবার চেন্নাইয়ের মিউজ়িক অ্যাকাডেমিতে ছবিটির কাজের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। দিনটি ছিল সুব্বুলক্ষ্মীর ১১০তম জন্মবার্ষিকী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা কমল হাসন। তাঁর হাতেই ছবির আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। উপস্থিত ছিলেন সুব্বুলক্ষ্মীর পরিবারের সদস্য, কর্নাটকী সঙ্গীতের বিশিষ্ট শিল্পী এবং চলচ্চিত্রজগতের একাধিক পরিচিত মুখ।
ছবির পরিচালক গৌতম তিনানুরী জানান, সুব্বুলক্ষ্মীর জীবন নিয়ে গত এক বছর ধরে গবেষণা করেছেন তাঁরা। তাঁর বক্তব্য, প্রথমে তাঁদের ধারণা ছিল, ভারতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পীকেই নিয়েই তাঁরা ছবি তৈরি করছেন। পরে তাঁর জীবন সম্পর্কে জানতে গিয়ে বুঝেছেন, সুব্বুলক্ষ্মী শুধু একজন গায়িকাই ছিলেন না। তিনি ছিলেন এক জন কন্যা, শিল্পী এবং এমন এক মহিলা, যিনি বড় স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন পূরণ করেছিলেন যেমন, তেমন ব্যর্থতাও দেখেছিলেন। ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে পরিচালক বুঝেছেন, গায়িকা জীবনে অনেক ত্যাগও করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
গৌতম বলেন, “আজকের দিনে সমাজমাধ্যমে অনুরাগীদের সংখ্যার মাধ্যমে রাতারাতি পরিচিতি পাওয়া যায়। কিন্তু এমএস আম্মা সারাজীবনের নিয়মানুবর্তিতা, ধৈর্য এবং নিষ্ঠার মাধ্যমে নিজের জায়গা তৈরি করেছিলেন। এই ছবির মাধ্যমে সেই বার্তাই নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে চাই।”
প্রযোজক বানি বাসের মতে, এই ছবি তৈরি করা তাঁর জীবনের অন্যতম উদ্দেশ্য। তিনি জানান, প্রায় ২৫টি ছবি প্রযোজনা করার পরেও এই ছবির সঙ্গে যুক্ত হওয়াকে নিজের জীবনের অন্যতম বড় সম্মান বলে মনে করছেন।
চরিত্রটি নিয়ে কী বললেন রশ্মিকা? ছবি: সংগৃহীত
অন্য দিকে, আর এক প্রযোজক রকলাইন বেঙ্কটেশ জানান, সুব্বুলক্ষ্মীর জীবন নিয়ে ছবিটি তৈরির পিছনে সাত থেকে আট বছরের গবেষণা ও পরিশ্রম রয়েছে। সুব্বুলক্ষ্মীর চরিত্রে রশ্মিকাকে বেছে নেওয়া নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল বলেও জানান তিনি। তাঁদের মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য রশ্মিকাই উপযুক্ত। রশ্মিকা এই প্রসঙ্গে বলেন, “এক জন অভিনেত্রী হিসাবে এমন অসাধারণ সুযোগ পেয়ে আমার মন ভরে গিয়েছে। এমএস সুব্বুলক্ষ্মী আম্মার ১১০তম জন্মবার্ষিকীতে তাঁকে জানাই আন্তরিক শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। এই মঞ্চে দাঁড়িয়ে মনে হচ্ছে, যেন ঈশ্বরের কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছি।”
আরও পড়ুন:
তিনি আরও বলেন, “এমএস আম্মার অসাধারণ জীবনের সামান্য অংশ হতে পারছি, এটাই আমার কাছে অত্যন্ত গর্বের ও সম্মানের। আমরা বিশ্বাস করি, এই ছবির পুরো সফরে তাঁর আশীর্বাদ সবসময় আমাদের সঙ্গে থাকবে। এই চরিত্রের জন্য আমি নিজের সবটুকু দিয়ে পরিশ্রম করব। এম এস সুব্বুলক্ষ্মী আম্মাকে এমন ভাবে পর্দায় তুলে ধরার চেষ্টা করব, যা আপনাদের সকলের ভাল লাগবে এবং মনে থাকবে।”