রবি বলেচা, ওরফে মাস্টার রবি। একসময়ের বলিউডের জনপ্রিয় শিশুশিল্পী। একাধিক ছবিতে অমিতাভ বচ্চনের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। সম্প্রতি বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন ৫৫ বছর বয়সি রবি। কাজ করার সময়ে তিনি নাকি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন।
মাত্র চার বছর বয়সে অভিনয় শুরু করেছিলেন রবি। শিশুশিল্পী হিসাবে প্রায় ৩০০ ছবিতে কাজ করেছেন। তবে অতীতের এক অভিজ্ঞতার কারণে, আজও একা প্রেক্ষাগৃহে যেতে ভয় পান তিনি। রবি জানিয়েছেন, প্রায় আট বছর বয়সে প্রথম যৌন নির্যাতনের শিকার হন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, প্রথম ঘটনাটি ঘটেছিল প্রেক্ষাগৃহের অন্ধকারে। সেখানে এক বয়স্ক ব্যক্তি তাঁকে জোর করে নিজের কোলে বসিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তে কী ঘটছে, তা বুঝতে না পারলেও প্রথমে বিভ্রান্তি এবং পরে তীব্র ঘৃণা অনুভব করেছিলেন রবি।
এর পর আরও দু’টি এমন ঘটনার মুখোমুখি হন রবি। দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে শুটিংয়ে যাতায়াতের সময়। শিশুশিল্পীদের দেখাশোনা এবং শুটিংয়ের সময়ে তাদের সঙ্গে থাকার জন্য নিয়োগ করা এক সহকারী তাঁর সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছিলেন বলে অভিযোগ রবির। সেই সময়ের অসহায়তার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “এমন একটা ঘটনা যা কাউকে বলতে পারবেন না! অথচ দিনের পর দিন সেই ব্যক্তির সঙ্গেই থাকতে হবে।”
আরও একটি ঘটনার উল্লেখ করেন তিনি যা একটি আউটডোর শুটিংয়ের সময়ে গভীর রাতে ঘটে বলে জানান। সেই সময়ে তাঁর বাবা-মা তাঁর সঙ্গে ছিলেন না। রবি জানিয়েছেন, ঘুমের মধ্যে তিনি অনুভব করেন, কেউ তাঁর শরীরের উপরে রয়েছে। ভয়ে তিনি নড়তে পারেননি। সেই সময়ে কাউকে কিছু বলার সাহসও হয়নি তাঁর। রবির আশঙ্কা ছিল, বাবা-মা হয়তো তাঁকে বিশ্বাস করবেন না। সেই সময়ের কথা মনে করে অভিনেতা বলেন, “আমার সঙ্গে কথা বলার মতো কেউ ছিল না।”
আরও পড়ুন:
শৈশবে ঘটে যাওয়া সেই ঘটনাগুলির প্রভাব পরবর্তী জীবনেও থেকে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন রবি। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, দাম্পত্য এবং দৈনন্দিন অভ্যাসেও সেই ঘটনা থেকে তৈরি হওয়া ভীতির ছাপ পড়েছিল। তাঁর কথায়, “নিজের মধ্যে দমিয়ে রাখা যন্ত্রণা থেকে তৈরি হয়েছিল রাগ।”
বহু বছর নিজের মধ্যে সেই ভীতি চেপে রাখার পর অবশেষে থেরাপির সাহায্য নেন রবি। প্রথম কয়েক সপ্তাহ তিনি একটি কথাও বলতে পারেননি। তবে থেরাপিস্ট নির্দিষ্ট কিছু অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে তাঁর সঙ্গে কাজ করতে থাকেন। প্রায় এক মাসের সেশনের পর ঘটনার স্মৃতি টুকরো টুকরো করে মনে পড়তে শুরু করে তাঁর। “আমি বুঝতেই পারিনি, বিষয়টা আমার মনের কতটা গভীরে গেঁথে ছিল। থেরাপির সময়ে সেটা বেরিয়ে আসে,” বলেন তিনি। প্রায় ছ’মাসের থেরাপি তাঁর জীবনে বড় পরিবর্তন এনেছে বলেও জানান রবি। “আজ আমি অনেক হালকা অনুভব করি। এই বিষয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে আমার আর আপত্তি নেই,” বলেন তিনি।
তবে সেই ভয় পুরোপুরি কাটেনি। এখনও একা প্রেক্ষাগৃহে যেতে পারেন না রবি। তাঁর আক্ষেপ, আরও আগে যদি থেরাপি শুরু করতে পারতেন! “আজও যখন রাগ হয়, পরিবারকে বলি, আমার সঙ্গে কথা বোলো না, আমাকে অন্তত আধ ঘণ্টা সময় দাও, ঠান্ডা হতে দাও। আমার ১২-১৩ বছর বয়সেই থেরাপি নেওয়া উচিত ছিল,” বলেন তিনি।
রবি একাধিক ছবিতে অমিতাভের ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তার মধ্যে রয়েছে ‘শক্তি’, ‘দেশ প্রেমী’, ‘অমর আকবর অ্যান্থনি’ এবং ‘গিরফ্তার’। অমিতাভের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা স্মরণ করে রবি বলেন, “ওঁর সঙ্গে কাজ করার ক্ষেত্রে সবচেয়ে আনন্দের বিষয় হল, কখনও নিজেকে ছোট মনে হয় না। কখনও মনে হয় না যে আপনি শুধু একজন শিশু, শিশুশিল্পী বা অনভিজ্ঞ।”