বাবা নবাব ও ক্রিকেটতারকা মনসুর আলি খান পটৌদী এবং মা অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর। তিন সন্তান সইফ আলি খান, সোহা আলি খান ও সাবা পটৌদীর ছোটবেলা কেটেছে প্রাসাদে, বিলাসিতার মধ্যেই। তবে তাঁদের ছোট থেকেই টাকাপয়সার মর্ম বোঝানো হয়েছে। যথেষ্ট হিসাবের মধ্যেই বড় হয়েছেন তাঁরা। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ভাইবোনের ছোটবেলার নানা স্মৃতি ভাগ করে নেন সোহা ও সাবা। সেখানেই জানা গেল, বন্ধুর বাড়ি যাওয়ার জন্যেও বাবার কাছে পেট্রলের খরচ নিয়ে কথা শুনতে হত তাঁদের! সেই সঙ্গে উঠে এল ‘চুরি’ করে সইফের রাখির উপহারের মজাদার কাহিনিও।
এক সাক্ষাৎকারে সোহা জানান, ছোটবেলায় কোনও রকম ‘রাজকীয় সুবিধা’ তাঁরা পাননি। বরং বিদ্যুৎ, পেট্রলের মতো খরচ নিয়েও তাঁদের সচেতন করতেন বাবা। সোহা বলেন, “আমরা ছোটবেলায় কখনও রাজকীয় পরিবেশ পাইনি। আব্বা হলুদ রঙের কাগজে নোট লিখে মনে করিয়ে দিতেন আলো-পাখা নেভানোর কথা। কারণ, তিনি জানতেন বিদ্যুতের দাম কত, পেট্রলের দাম কত। এমনকি, ছোটবেলায় আমি যখন গাড়ি করে কোনও বন্ধুর বাড়ি যেতে চাইতাম, উনি বলতেন, ‘না, পেট্রল খুব দামি।’”
এর পরেই ভাই সইফের ছোটবেলার কীর্তি ফাঁস করেন সাবা। তিনি জানান, তাঁদের হাতখরচ হিসাবে ১০০ টাকা করে দেওয়া হত। সইফ তখন পড়াশোনার জন্য ইংল্যান্ডে ছিলেন। সোহা বলেন, “আমাদের হাতখরচের টাকা সইফ চুরি করে নিত এমনিতেও।” ইংল্যান্ডে সইফের সঙ্গে দেখা করার জন্য গেলে দুই বোনকে পাঁচ পাউন্ড করে দেওয়া হত বলে জানান সোহা। আর সেই টাকাও নাকি সইফ পরে ‘ধার’ নিতেন!
আরও পড়ুন:
সাবা আরও একটি মজার ঘটনা শোনান। তাঁর দাবি, এক বার সইফ তাঁর ব্যাগ থেকে টাকা নিয়ে পরে সেই টাকাই তাঁকে রাখিবন্ধনের উপহার দিয়েছিলেন! সাবার কথায়, “ও আমার ব্যাগ থেকে টাকা নিয়ে আবার রাখিবন্ধনে আমাকে সেই টাকাই উপহার দিয়েছে। আমি ভাবছি, আমার ওয়ালেট থেকে ৫০ টাকা কমে গেল কী করে! পরে বুঝতে পারি, সেই টাকা কোথায় গিয়েছিল।” সেই ঘটনা মনে করে প্রচণ্ড হাসতে থাকেন সাবা।
অর্থাৎ ধনী পরিবারে জন্ম নিলেও সইফ, সোহা ও সাবার শৈশবে বিলাসিতার চেয়ে অর্থের মূল্য বোঝানো এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ এড়ানোর শিক্ষাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল। তার সঙ্গে ছিল মধ্যবিত্তসুলভ সহজ-সরল মজাও। সেটাই উঠে এসেছে সাবার কথায়।