দেশের অন্যতম বড় তারকা সলমন খান। ভারতের অন্যতম ধনী অভিনেতা তিনি। একাধিক প্রতিবেদন বলছে, তাঁর আনুমানিক সম্পত্তির পরিমাণ প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা। তবে সলমনের জীবনে এমন সময়ও গিয়েছে, যখন তাঁর পরিবার সময়মতো স্কুলের ফি দিতে পারত না। এমনকি, মাইনে বাকি ছিল বলে তাঁকে ক্লাস থেকে বার করেও দেওয়া হয়েছিল। কাজল এবং টুইঙ্কল খন্নার অনুষ্ঠানে সেই দিনের কথা স্মরণ করেন অভিনেতা।
সলমন জানান, দুষ্টুমি করার জন্য তাঁকে প্রায়ই ক্লাসের বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা হত। কিন্তু এক বারের ঘটনা ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। সে দিন তাঁর দোষ না থাকা সত্ত্বেও তাঁকে বাইরে দাঁড় করিয়ে দেওয়া হয়। শাস্তির কারণ, স্কুলের ফি সময়মতো জমা পড়েনি। অভিনেতার কথায়, “আমাকে বাইরে দাঁড় করিয়ে শাস্তি দেওয়া হয়েছিল। আমার বাবা (সেলিম খান) জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ‘এ বার কী করেছে?’ আমি তখন চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ি। বাবা শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন, ‘না, মিস্টার খান, এটা ওর দোষ নয়, আপনার দোষ।’ বাবা জানতে চান, ‘আমি কী করেছি?’ তখন শিক্ষিকা বলেন, ‘আপনাকে যে ফি দিতে হত, সেটা সময়মতো দেওয়া হয়নি। তাই আমরা ওকে বাইরে দাঁড় করিয়ে রেখেছি।’ তখন বাবা বলেন, ‘তা হলে তো আমাকে ওখানে দাঁড় করানো উচিত।’”
এর পর সেলিম স্কুলের প্রধানশিক্ষকের সঙ্গে কথা বলেন এবং টাকা জোগাড় করে ফি মেটানোর জন্য যা যা করার, সবই করেন। কিন্তু সলমন জানান, মাত্র দু’সপ্তাহ পর একই ঘটনা ফের ঘটে এবং তাঁকে স্কুল থেকে বার করে দেওয়া হয়।
এই কথোপকথনে উপস্থিত ছিলেন আমির খানও। তিনিও একই স্কুলে অল্প সময় পড়াশোনা করেছিলেন। সলমনের কথা শুনে আমির বলেন, “হ্যাঁ, আমারও মনে আছে, আমার বাবা-মাও সময়মতো ফি দিতে পারতেন না। তখন প্রার্থনার সময়ে আমাদের নাম ঘোষণা করা হত।”
সলমনের বাবা, বর্ষীয়ান চিত্রনাট্যকার সেলিমের জীবনেও একসময় ছিল চরম আর্থিক অনটন। ১৯৬০-এর দশকে অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে মুম্বইয়ে আসার পর তাঁর সেই সংগ্রামের কথা উঠে এসেছে ‘অ্যাংরি ইয়ং মেন’ সিরিজ়ে। মেরিন ড্রাইভ এলাকার একটি গেস্টহাউসে থাকতেন সেলিম। ১৯৬০-এর দশকে সেখানে অর্ধেক ঘরের জন্য মাসে ৫৫ টাকা ভাড়া দিতেন তিনি। সেলিম স্মৃতিচারণ করে বলেছিলেন, “আমার প্রথম লক্ষ্য ছিল ১১০ টাকা দিয়ে পুরো ঘরটা ভাড়া নেওয়া। কিন্তু সেই ইচ্ছা আর পূরণ হয়নি।”
বাবা সেলিম খানের সঙ্গে সলমন। ছবি: সংগৃহীত।
সেই সময় সেলিম নিজেকে অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছিলেন। তখনও চিত্রনাট্যকার হিসেবে তাঁর পরিচিতি তৈরি হয়নি। শেষপর্যন্ত ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে তিনি লেখালিখিতে মন দেন এবং জাভেদ আখতারের সঙ্গে তৈরি করেন ঐতিহাসিক জুটি। সেলিম-জাভেদ জুটি এর পরে একসঙ্গে ‘জ়নজীর’, ‘শোলে’ এবং ‘দিওয়ার’-এর মতো কালজয়ী ছবির চিত্রনাট্য লেখেন এবং তাঁদের সময়ের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া চিত্রনাট্যকারদের মধ্যে অন্যতম হয়ে ওঠেন।
অন্য দিকে, সলমনকেও অভিনয়ের জগতে নিজের জায়গা তৈরি করতে হয়েছিল একেবারে শূন্য থেকে। অভিনয়ে আসার আগে শশীলাল কে নায়ারের ‘ফলক’ ছবিতে সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছিলেন তিনি। এর পর ১৯৮৮ সালে ‘বিবি হো তো অ্যায়সি’ ছবিতে পার্শ্বচরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে বড়পর্দায় আত্মপ্রকাশ করেন।
এর পর মাত্র ২৪ বছর বয়সে সূরজ বরজাত্যার ‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’-তে নায়ক হিসেবে আত্মপ্রকাশ সলমনের। ১৯৮৯ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটি ব্লকবাস্টার হয়। তবে এর সঙ্গে সঙ্গেই যে পর পর কাজ আসতে শুরু করেছিল সলমনের কাছে, তা নয়।
এক অনুষ্ঠানে সলমন বলেছিলেন, “‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’ মুক্তির পর চার-পাঁচ মাস আমি কোনও কাজ পাইনি। আমার মনে হয়েছিল, আমি আর কোনও কাজই পাব না। কারণ ভাগ্যশ্রী ঠিক করেছিলেন যে, তিনি বিয়ে করবেন এবং সিনেমা ছেড়ে দেবেন।”
সেই সময়ে ছবিটির সাফল্যের কৃতিত্বের বড় অংশ ভাগ্যশ্রীকে দেওয়া হয়েছিল বলেও জানান সলমন। ফলে পরবর্তী ছবির কাজ পেতে তাঁকে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল।
‘ম্যায়নে প্যার কিয়া’ ছবির দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত।
পরিস্থিতি বদলাতে শেষপর্যন্ত এগিয়ে আসেন সেলিম। তিনি প্রযোজক জিপি সিপ্পীকে একটি ছবির জন্য সলমনকে সই করানোর কথা প্রকাশ্যে ঘোষণা করতে বলেন। সেই ঘোষণা যখন একটি ম্যাগাজ়িনে প্রকাশিত হয়, তখন নাকি সলমনের কাছে একের পর এক ছবির প্রস্তাব আসতে শুরু করে।
১৯৮৯ সালে অভিনেতার প্রথম ছবির জন্য পারিশ্রমিক ছিল ৩১,০০০ টাকা। পরে তাঁর নিষ্ঠা ও পরিশ্রম দেখে সেই পারিশ্রমিক বাড়িয়ে ৭৫,০০০ টাকা করা হয়েছিল। সলমন আরও জানান, মাত্র ১৪ বছর বয়সে মুম্বইয়ের ‘তাজ হোটেল’-এ একটি অনুষ্ঠানে ব্যাকগ্রাউন্ড ড্যান্সার হিসাবে পারফর্ম করে তিনি পেয়েছিলেন মাত্র ৭৫ টাকা।
আরও পড়ুন:
সলমন আপাতত পরবর্তী ছবি ‘মাতৃভূমি’ মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছেন। শোনা যাচ্ছে, এই ছবিতে তাঁর পারিশ্রমিক ১০০ কোটি টাকার বেশি। ছবিটি দীপাবলির পরে মুক্তি পেতে পারে বলে খবর। পাশাপাশি, নয়নতারার সঙ্গে নতুন ছবির কাজও চলেছে তাঁর।