তাঁদের দাম্পত্য দেখে মনে হতে পারে, এ যেন নিখুঁত প্রেমের গল্প। কিন্তু সমীর সোনী এবং নীলম কোঠারীর সম্পর্কের পথ মোটেই মসৃণ ছিল না। দু’জনেরই প্রথম বিয়ে ভেঙেছিল। তার পর নতুন সম্পর্কে জড়িয়েও বার বার বিচ্ছেদ হয়েছে। শেষপর্যন্ত সেই সম্পর্কই পরিণতি পায় বিয়েতে।
সম্প্রতি নিজের প্রথম বিয়ে ভাঙার সময়ের কথা বলতে গিয়ে সমীর জানান, তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিনেই এসেছিল ব্যক্তিগত জীবনের বড় ধাক্কা। যে দিন বড়পর্দায় তাঁর প্রথম ছবি ‘চায়না গেট’ মুক্তি পায়, সেই সকালে বিবাহবিচ্ছেদের কাগজ আনতে আদালতে গিয়েছিলেন অভিনেতা। সন্ধ্যায় ছিল ছবির বিশেষ প্রদর্শনী।
অতীতের কোন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা ভাগ করে নিলেন সমীর? ছবি: সংগৃহীত।
এক দিকে জীবনের প্রথম ছবির মুক্তির আনন্দ, অন্য দিকে ভেঙে যাওয়া দাম্পত্য— দু’টি বিপরীত অনুভূতি নিয়েই দিনটি কাটিয়েছিলেন তিনি। বাবা-মা দিল্লি থেকে এলেও তাঁদের কিছু জানাননি সমীর। সেই সময় তাঁর বিবাহবিচ্ছেদের কথা জানতেন শুধু তাঁর ছবির সহ-অভিনেতা নসীরুদ্দীন শাহ।
সমীরের মতে, নীলমের অভিজ্ঞতা ছিল আরও কঠিন। ব্যবসায়ী ঋষি সেঠিয়ার সঙ্গে বিয়ের পর লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন নীলম। বিয়ে ভাঙার পর মুম্বই ফিরে প্রায় এক বছর নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন সবকিছু থেকে। তাঁর কথায়, বিয়ে ভেঙে যাওয়াকে নিজের ব্যর্থতা বলে মনে করতেন নীলম। সেই সময়ে পাশে ছিলেন প্রযোজক একতা কপূর এবং এক ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
সমীর-নীলমের সম্পর্কও যেন বড়পর্দার চিত্রনাট্য। ছবি: সংগৃহীত।
এর পরেই নীলমের জীবনে আসেন সমীর। একতার মাধ্যমেই তাঁদের পরিচয়। সমীরের নাটক দেখতে নীলমকে নিয়ে গিয়েছিলেন একতা। ধীরে ধীরে সম্পর্ক তৈরি হলেও দু’জনেই ছিলেন যথেষ্ট সতর্ক। সামান্য ভুল বোঝাবুঝিতে বিচ্ছেদ হয়েছে, আবার প্রায় ১০ দিন পর ফিরে এসেছেন একে অপরের কাছে। কত বার যে সম্পর্ক ভেঙেছে, তার হিসাব নেই।
বর্তমানে মেয়েকে নিয়ে সুখের সংসার সমীর-নীলমের। ছবি: সংগৃহীত।
তবে দু’জনেরই সিদ্ধান্ত ছিল স্পষ্ট— ফের সম্পর্কে জড়ালে তা বিয়ের জন্যই। শেষপর্যন্ত ২০১১ সালে বিয়ে করেন সমীর-নীলম। ২০১৩ সালে এক কন্যাসন্তান দত্তক নেন তাঁরা। জীবনের এই ওঠাপড়ার কথা মনে করেই কিছুটা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন সমীর। এখন তাঁরা শান্তিতে সংসার করছেন।