Advertisement
E-Paper

‘এ দেশে শান্তি পাই না’! গাঁধীজয়ন্তী উপলক্ষে ‘মুন্নাভাই’য়ের কায়দায় বিশেষ উপদেশ সঞ্জয়ের

২০০৬ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘লগে রহো মুন্নাভাই’। সেখানে সঞ্জয়ের চরিত্র মহাত্মা গাঁধীর আদর্শের সঙ্গে পরিচিত ও অনুপ্রাণিত হয়ে জীবনের নতুন মানে খুঁজে পায়। এ বার সেই ঢঙেই দেশবাসীর জন্য বিশেষ বার্তা দিলেন অভিনেতা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ অক্টোবর ২০২৬ ১২:১৫
সঞ্জয় দত্ত।

সঞ্জয় দত্ত। ছবি: সংগৃহীত।

গাঁধীজয়ন্তী উপলক্ষে শেখর সুমনের ইউটিউব চ্যানেলের অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে হাজির হয়েছিলেন সঞ্জয় দত্ত। সেখানে নিজের জনপ্রিয় ‘মুন্নাভাই’ চরিত্রের ভঙ্গিতে বিশেষ মন্তব্য করলেন অভিনেতা। নিজেকে পাঁচ মিনিটের জন্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী কল্পনা করে দেশবাসীর উদ্দেশে একটি বিশেষ বার্তা দেন অভিনেতা।

শুক্রবার মুক্তি পাওয়া এই বিশেষ পর্বে সঞ্জয় জনসমক্ষে রাজনৈতিক নেতাদের ছবির অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে রসিকতা করেন, বিদেশ সফর নিয়ে কটাক্ষ করেন এবং ট্রাম্পের শুল্কনীতির প্রসঙ্গ টেনে সংঘাতের বদলে ‘গাঁধীগিরি’-র পক্ষে মন্তব্য করেন।

এই পর্বে দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অভিনেতা জানান, ভারতে এখন আর আগের মতো শান্তির অনুভূতি পান না তিনি। সঞ্জয় বলেন, “এই দেশের মানুষ ভীষণ ভাল। এখানে শান্তি থাকা উচিত। কিন্তু এখন আর আমাদের দেশে সেই শান্তিটা অনুভব করতে পারি না। আমরা ভারতীয়েরা উদার মনের মানুষ এবং অতিথিপরায়ণ। আমরা অনেক কিছু দিয়েছি, আর আমাদের সব সময় এমনই থাকা উচিত। আমি শিবের কাছে প্রার্থনা করি, আগের দিনগুলো যেন দ্রুত ফিরে আসে।”

এর পর অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে তাঁকে বলা হয়, পাঁচ মিনিটের জন্য নিজেকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী কল্পনা করে দেশবাসীর উদ্দেশে কিছু বলতে। আর তখনই সঞ্জয় পুরোপুরি ঢুকে পড়েন তাঁর জনপ্রিয় ‘মুন্নাভাই’ চরিত্রে। ওই ভঙ্গিতেই তিনি বলেন, “চলো, দেশে অন্তত কিছু একটা তো চলছে! প্রিয় দেশবাসী, আজ আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হতে পেরে আমি খুব খুশি। শরীরের মধ্যে অদ্ভুত এক ধরনের তরঙ্গ বয়ে যাচ্ছে। এত বড় দেশ, এত মানুষ— আর এখন তাঁদের সকলের দায়িত্ব আমার উপর!”

এর পর খানিক কটাক্ষের সুরেই বিদেশ সফরের প্রসঙ্গ তোলেন সঞ্জয়। তিনি বলে চলেন, “কিন্তু, আপনারা একদম চিন্তা করবেন না। আমি নিজের আনন্দ উদ্‌যাপনের জন্য বিদেশে যাব না। আমি এখানেই থাকব, আপনাদের সকলের মাঝে। নয়তো প্রধানমন্ত্রী আর সাধারণ মানুষের মধ্যে যোগাযোগ কী ভাবে তৈরি হবে?”

এর পর গাঁধীজির প্রসঙ্গ তোলেন সঞ্জয়। গাঁধীজির তিন বাঁদরের উল্লেখ করে তাঁর মন্তব্য, ‘খারাপ দেখো না, খারাপ শুনো না, খারাপ বোলো না’র কথা সকলেই জানেন। কিন্তু, সঞ্জয় আরও একটি বাঁদর চান। কারণ, কেউ যদি অন্যায় দেখতে পায়, তা হলে তা শোধরাবে কে? মজার ছলে বলেন, “তিন বাঁদর যদি চোখ, কান এবং মুখ বন্ধ করে বসে থাকে, তা হলে দেশ চলবে কী ভাবে?”

এর পরই সরকারি স্থানে ও জনসমক্ষে প্রধানমন্ত্রীদের ছবির ব্যবহার নিয়ে কটাক্ষ করেন সঞ্জয়। কাল্পনিক ভাষণে বলে চলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দেশের জন্য অনেক কিছু করার সুযোগ পেয়েছেন, তাই আর একটি কাজ করবেন— যেখানে যেখানে তাঁর ছবি রয়েছে, সেখান থেকে সেই ছবি নামিয়ে নেবেন। তাঁর কথায়, দেশের মানুষের সামনে দেশের ছবিই থাকা উচিত। তাঁর কথায়, কোথাও নিজের ছবি লাগাতে ইচ্ছা করলে সেখানে গাঁধীজির ছবি লাগাবেন। কারণ, গাঁধীর আদর্শেই অনুপ্রাণিত তিনি।

এর পর নিজের ‘মুন্নাভাই’ ছবির দর্শনে ফিরে গিয়ে বলেন, “ভালবাসা নিয়ে আসে শান্তি আর গাঁধীগিরির হাত ধরেই আসে ভালবাসা।”

স়ঞ্জয়ের এই গোটা বক্তব্যই মনে করিয়ে দিয়েছে ২০০৬ সালে মুক্তি পাওয়া রাজকুমার হিরানী পরিচালিত ‘লগে রহো মুন্নাভাই’ ছবির মূল ভাবনাকে। মুন্নাভাই সেই ছবিতে মহাত্মা গাঁধীর দর্শনের সঙ্গে পরিচিত হয়ে দৈনন্দিন জীবনের সমস্যার সমাধানে ‘গাঁধীগিরি’ প্রয়োগ করতে শুরু করে। এর প্রায় দুই দশক পরে এক অনুষ্ঠানে এসে সঞ্জয়ের মন্তব্য যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলেই মত নেটাগরিকদের।

Sanjay Dutt mahatma gandhi

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy