মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই পথচলা শুরু হয়েছিল ‘ওয়ান্ডারমাইন্ড’-এর। কিন্তু সেই সংস্থাকে ঘিরেই এ বার আইনি জটিলতায় জড়ালেন সেলেনা গোমেজ়, তাঁর মা ম্যান্ডি টিফি এবং সংস্থার প্রাক্তন ব্যবসায়িক অংশীদার ড্যানিয়েলা পিয়ারসন। অভিযোগ, সংস্থায় ১০ লক্ষ ডলারের বেশি অর্থ ঢেলেও বিনিয়োগকারীরা জানতে পারেননি, ভিতরে ভিতরে পরিস্থিতি কতটা খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
নথি অনুযায়ী, ‘ওয়ান্ডারমাইন্ড এসআরএস ৪৪ এলএলসি’ এবং ‘বেসপোক ওয়ান্ডারমাইন্ড এলএলসি’— এই দুই সংস্থা ওয়ান্ডারমাইন্ড গ্লোবাল, সেলেনা, ম্যান্ডি এবং পিয়ারসনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে। তাঁদের অভিযোগ, সংস্থার পরিকাঠামো, নেতৃত্ব এবং লাভজনক ভাবে ব্যবসা চালানোর প্রয়োজনীয় সংস্থান নিয়ে বিনিয়োগকারীদের সামনে এমন একটি ছবি তুলে ধরা হয়েছিল, যা বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মেলেনি।
অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, সেলেনা নিজে বিভিন্ন টেলিভিশন অনুষ্ঠান এবং সাক্ষাৎকারে এই সংস্থার হয়ে প্রচার করেছিলেন। প্রকাশ্যে,তাঁর সেই ভূমিকা দেখে বিনিয়োগকারীদের মনে হয়েছিল, সংস্থার সঙ্গে তিনি যথেষ্ট সক্রিয় ভাবে যুক্ত। সেই বিশ্বাস থেকেই তাঁরা ১০ লক্ষ ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেন বলে দাবি মামলাকারীদের। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরে সেলেনার সক্রিয়তা তেমন দেখা যায়নি, এমনই অভিযোগ তাঁদের।
অন্য দিকে, পিয়ারসনের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। মামলাকারীদের দাবি, নিজের আগের ব্যবসায়িক সাফল্য এবং ভবিষ্যতে বিনিয়োগ থেকে কী ধরনের লাভ আসতে পারে, সেই বিষয়ে পিয়ারসন এমন কিছু দাবি করেছিলেন যা পরে সত্যি বলে প্রমাণিত হয়নি।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন অবশ্য সংস্থার ভিতরের পরিস্থিতি নিয়ে। বিনিয়োগকারীদের দাবি, ওয়ান্ডারমাইন্ডের অবস্থা ক্রমশ খারাপ হতে থাকলেও তাঁদের তা জানানো হয়নি। অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, প্রায় তিন বছর ধরে সংস্থার ভিতরের সমস্যা বাড়লেও প্রতিষ্ঠাতা, আধিকারিক বা পরিচালকের কেউই বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেননি।
পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁরা পরে জানতে পারেন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ‘দ্য কাট’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের মাধ্যমে, এমনটাই দাবি মামলাকারীদের। ওই প্রতিবেদনে ওয়ান্ডারমাইন্ডের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা নিয়ে একাধিক অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। সংস্থার দৈনন্দিন কাজকর্ম, কর্মীদের বেতন এবং বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারীকে সময়মতো টাকা দেওয়া নিয়েও সমস্যা তৈরি হয়েছিল বলে সেখানে দাবি করা হয়েছিল।
আরও পড়ুন:
প্রতিবেদনে ম্যান্ডি টিফিকে ঘিরে কিছু ব্যক্তিগত অভিযোগও প্রকাশিত হয়। তবে সেই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন ম্যান্ডি। তাঁর বক্তব্য, কয়েক জন অসন্তুষ্ট প্রাক্তন কর্মী তাঁকে নিয়ে মিথ্যা কথা ছড়িয়েছেন এবং সংবাদমাধ্যমও তা যাচাই না করে গুরুত্ব দিয়েছে।
বিনিয়োগকারীদের দাবি, ‘দ্য কাট’-এর প্রতিবেদন প্রকাশের পর তাঁরা ম্যান্ডির কাছে বিষয়টি জানতে চান। তখন নাকি ম্যান্ডি সংস্থার পরিস্থিতির জন্য পিয়ারসনকে দায়ী করেন। উল্লেখযোগ্য ভাবে, তার আগেই পিয়ারসন ওয়ান্ডারমাইন্ড ছেড়ে দিয়েছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এই গোটা ঘটনাকে ঘিরে মামলাকারীরা ‘সিকিউরিটিজ় ফ্রড’ অর্থাৎ বিনিয়োগের ক্ষেত্রে প্রতারণামূলক বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়ার অভিযোগ এনেছেন। তাঁরা নিজেদের বিনিয়োগের টাকা ফেরত চাওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণও দাবি করেছেন।
তবে আপাতত সবটাই অভিযোগের পর্যায়ে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি, এবং সেলেনা বা মামলায় অভিযুক্ত অন্য কারও বিরুদ্ধে কোনও চূড়ান্ত রায় ঘোষণা হয়নি।