বক্সঅফিসে ছবির ব্যর্থতা নিয়ে অভিনেতাদের উদ্দেশে কটূক্তি করা ট্রোলারদের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন সলমন খান। ‘বিগ বস্ ২০’-এর সপ্তাহান্তের একটি পর্বে বলিউডে ‘পেড নেগেটিভ পিআর’ নিয়েও মুখ খোলেন তিনি। অভিযোগ, ইন্ডাস্ট্রির কিছু অভিনেতা নিজের সহকর্মীদের বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচার চালানোর জন্য টাকা খরচ করেন। এ বার সেই বিতর্কে মুখ খুললেন গায়ক, গীতিকার ও অভিনেতা পলাশ সেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তাঁর দাবি, এই সমস্যার অংশ সলমন নিজেও।
একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন পলাশ। তাঁর কথায়, প্রথম সারির এক অভিনেত্রীর ছবির প্রচার-ঝলক প্রকাশের পর ‘লাইক’-এর তুলনায় ‘ডিসলাইক’-এর সংখ্যা এতটাই বেড়ে গিয়েছিল যে ইউটিউব তাদের ‘ডিসলাইক’ ফিচারটি বন্ধ করে দেয়। তবে এই ধরনের প্রতিক্রিয়া স্বতঃস্ফূর্ত, না কি এর পিছনে টাকা খরচ করা হয়েছিল, তা বোঝা কঠিন বলে মনে করেন তিনি।
টাকা দিয়ে নেতিবাচক প্রচার প্রসঙ্গে সলমনের মন্তব্য শুনে পলাশ বলেন, “এই ব্যবস্থা শুরু করার পিছনে ওঁরও ভূমিকা রয়েছে। সেটা তো ভুলে গেলে চলবে না। সমস্যা কখনও ক্ষমতার কাঠামোর নীচের দিক থেকে শুরু হয় না, শুরু হয় উপর থেকে। আমি কারও দিকে আঙুল তুলছি না। কিন্তু কেউ যদি তরবারি নিয়ে বাঁচেন, তাঁকে সেই তরবারির আঘাতেই মরতে হতে পারে। চলচ্চিত্রজগতে যাঁরা বহু বছর ধরে নিজেদের জায়গা ধরে রেখেছেন, তাঁরা নিশ্চয়ই পিআর সংস্থার লোকজনের সঙ্গে কাজ করেছেন। আমরা সবাই সেটা জানি।”
তিনি আরও বলেন, “এক দিন আপনি অনেক কথা বলে নিজেকে সাধু বলে মনে করতেই পারেন। তবে সলমন যা বলেছেন, তা বলার জন্য যথেষ্ট সাহসের প্রয়োজন ছিল। আমি বলছি, উনিও এই সমস্যার অংশ ছিলেন। আমরা সবাই সেটা জানি। এমনকি ‘বিগ বস্ ২০’-এর এই অনুষ্ঠানে তিনি যে কথাগুলো বলেছেন, সেটাও ১০০ শতাংশ স্বতঃস্ফূর্ত ছিল কি না, তা আমরা জানি না। সব কিছু চিত্রনাট্য মেনে হয়েছিল, না কি সত্যিই স্বাভাবিক ভাবে ঘটেছে, তা বোঝা এখন আমাদের সকলের পক্ষেই কঠিন হয়ে উঠেছে।”
তবে নির্দিষ্ট ওই পর্বে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষের ধারার সমালোচনা করেছিলেন সলমন। সন্তানের জন্ম দেওয়ার পর ক্যাটরিনা কইফের ওজন বৃদ্ধি নিয়ে সমাজমাধ্যমে কটাক্ষ করা হলে তাঁর পাশেও দাঁড়ান অভিনেতা। একই সঙ্গে চলচ্চিত্রজগতের একাংশ এবং সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধেও সরব হন তিনি। সহকর্মীদের বিরুদ্ধে টাকার বিনিময়ে নেতিবাচক প্রচার চালানোর অভিযোগ নিয়েও কথা বলেন সলমন।
অন্য দিকে, পলাশ সঙ্গীতজগতে আসার আগে চিকিৎসক হওয়ার প্রশিক্ষণ নিয়েছিলেন। ১৯৯৮ সালে তিনি গড়ে তোলেন ব্যান্ড ‘ইউফোরিয়া’। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ এবং ২০০০-এর দশকের গোড়ায় ভারতের অন্যতম জনপ্রিয় স্বাধীন সঙ্গীতের দল হয়ে উঠেছিল এই ব্যান্ড। ‘ধুম পিচাক ধুম’, ‘মায়েরি’, ‘ফির ধুম’, ‘আনা মেরি গলি’ এবং ‘মেহফুজ়’-এর মতো গান তাঁদের জনপ্রিয়তা এনে দেয়।
সঙ্গীতের পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন পলাশ। ২০০২ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ফিলহাল’ ছবিতে তব্বূ ও সুস্মিতা সেনের সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন তিনি। ২০২৬ সালের অগস্টে প্রায় তিন দশকের সঙ্গীতযাত্রা উদ্যাপন করে ‘ইউফোরিয়া’ প্রকাশ করে তাদের অ্যালবাম ‘ধুম্সডে’।