প্রায় এক মাস ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে ধর্নায় বসে ককরোচ জনতা পার্টি। এই পার্টির প্রতিষ্ঠা অভিজিৎ দীপকের ডাকে এই আন্দোলনের সঙ্গে জুড়তে থাকে দেশের বিভিন্ন রাজ্যের পড়ুয়ারা। ক্রমাগত নিট প্রশ্নপত্র ফাঁসে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি তোলেন দেশের পড়ুয়ারা। অনশনে বসেন শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। জ়েন জ়ি-রা রাস্তায় নামেন। ২০ জুলাই সংসদ অভিযানের সময় দিল্লি পুলিশের সঙ্গে পড়ুয়াদের খণ্ডযুদ্ধ বাধে। প্রতিবাদে আরও জ্বলে ওঠে দেশের জ়েন জ়ি-রা। দীর্ঘ টানাপড়েনের পরে ২৫ জুলাই পদত্যাগ করলেন। ককরোচ জনতা পার্টির এই আন্দোলন নিয়ে একটা লম্বা সময় নীরব ছিল বলিউডের একটা ব়ড় অংশ। কিন্তু সোনাক্ষী সিন্হা, শবানা আজ়মী, প্রকাশ রাজ, হুমা কুরেশি, নসীরুদ্দীন শাহের মতো তারকারা প্রথম থেকেই পড়ুয়াদের পাশে ছিলেন। দেশের শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফায় কেউ উল্লসিত, কেউ আবার আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছেন।
আরও পড়ুন:
এই আন্দোলনের প্রথম থেকে যে পড়ুয়াদের পাশে থেকেছেন তিনি সোনাক্ষী। প্রকাশ্যে জ়েন জ়ি-দের আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়েছেন। রিল বানিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফায় অভিজিৎ দীপকের প্রথম প্রতিক্রিয়ার ভিডিয়ো পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘‘ভাই, এটা কী করে ফেললে?’’
সোনাক্ষীর ইনস্টা পোস্ট
ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবিতে যখন দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদে বসেন পড়ুয়ারা, সেই সময় নীরব ছিলেন প্রিয়ঙ্কা চোপড়া। তবে শিক্ষামন্ত্রী ইস্তফা দিতেই শিক্ষামন্ত্রীর ছবি পোস্ট করে হাততালির সঙ্গে হৃদয়ের ইমোজি জুড়ে দিয়েছেন। যদিও গত একমাস ধরে নীরব থাকার জন্য নেটাগরিকদের প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় প্রিয়ঙ্কাকে।
প্রিয়ঙ্কার ইনস্টা পোস্ট।
অন্য দিকে, অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দরী প্রথম থেকেই এই আন্দোলনের পড়ুয়াদের পাশে ছিলেন। তিনি শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফার পরে জ়েন জ়ি-দের ধন্যবাদ জানিয়ে তাঁদের লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়ে লেখেন, ‘‘খুব ভাল লড়েছ তোমরা। তোমাদের এমন সৎ, অহিংস, বাকস্বাধীনতাকে কুর্নিশ। ভয়ের থেকে বেশি জোর হোক তোমাদের কণ্ঠে।’’
অদিতি রাও হায়দরীর পোস্ট।
মুম্বইয়ে ছাত্রদের দাবি দাওয়ার সপক্ষে প্রতিবাদ মিছিলে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হন অভিনেত্রী আয়শা খান। তাঁকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ভিডিয়ো নিমেষে ভাইরাল হয়। অনেকে আবার বলতে শুরু করেন আয়শার বলিউড কেরিয়ার এ বার শেষ। যদিও তাঁদের অবশ্য পাল্টা বলেন তিনি ‘‘শিরদাঁড়া বিক্রি করবেন তাতেই কেরিয়ার নষ্ট হলে হবে।’’ শিক্ষামন্ত্রীর ইস্তফায় তিনি বলেন, ‘‘একটা ভাল জিনিস হল। দেশের এই সময়টা সারাজীবন মনে থাকবে। এটাই শিখছি, ইচ্ছা থাকলে সব সম্ভব।’’
অভিনেতা প্রকাশ রাজ যিনি প্রথম থেকেই এই আন্দোলনের পাশে ছিলেন। সোনম ওয়াংচুক যখন অনশনে বসেন, সেই সময় থেকেই আন্দোলনরত পড়ুয়াদের পাশে ছিলেন। ধর্মেন্দ্র প্রধান চেয়ার ছাড়তেই সংবিধান হাতে ছবি দিয়ে লেখেন, ‘‘শুভেচ্ছা আমার ককরোচদের। শুভেচ্ছা সোনম স্যারকে। এবং তাঁদের প্রত্যেককে যাঁরা এই আন্দোলনকে সমর্থন করেছেন। এর দ্বারা আবারও প্রমাণিত হল, ইচ্ছা থাকলে যে কোনও শাসনক্ষমতার মাথা নত করানো সম্ভব।’’
প্রকাশ রাজের পোস্ট।
অভিনেতা ঈশান খট্টর জানান, এটা গণতন্ত্রের জয়। তিনি আরও বলেন, ‘‘আজ ভারত জিতে গেল। এত মানুষের সহমর্মিতা অনেকের ঘৃণাকে অভ্যাসকে হটিয়ে দিল। এটাই হল আমার ভারত যেখানে আমরা বড় হয়েছি।’’
বর্ষীয়ান অভিনেতা অমোল পালেকর জ়েন জ়ি-দের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, ‘‘তোমরা এমন একটা প্রজন্ম যারা চুপ থাকার বদলে সাহস দেখিয়েছ।’’
কৌতুকাভিনেতা বীর দাস অবশ্য ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফাতে প্রমাদ গুনছে আগামী দিনে কী হবে? বীর বলেন, ‘‘মনে হচ্ছে কিছু একটা হবে। তবে যা-ই হোক, আজকের দিনটা আনন্দ করে নিন।’’