Advertisement
E-Paper

কাঁধে ৫৬ কোটি টাকার ঋণ, বক্সঅফিসে একের পর এক ব্যর্থ ছবি, তার পরেও কী করে খুশি থাকতেন সনী?

২০০১ সালে ‘গদর’-এর পাশাপাশি মুক্তি পেয়েছিল ‘ইন্ডিয়ান’। সনীর দাবি, বক্সঅফিসে ‘ইন্ডিয়ান’ ছবিটি আমির খান অভিনীত ‘লগান’ ছবির তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ব্যবসা করেছিল। ‘গদর’-এর সাফল্য ছিল আরও বড়।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ অগস্ট ২০২৬ ১৩:৫১
খারাপ পরিস্থিতিতেও কী ভাবে আনন্দে ছিলেন সনী দেওল?

খারাপ পরিস্থিতিতেও কী ভাবে আনন্দে ছিলেন সনী দেওল? ছবি: সংগৃহীত।

একসময় পর পর হিট ছবি করেও ভাল চিত্রনাট্যের অপেক্ষায় দীর্ঘদিন বসে থাকতে হয়েছিল সনী দেওলকে। ‘গদর: এক প্রেম কথা’ এবং ‘ইন্ডিয়ান’-এর মতো ছবির সাফল্যের পরে বদলে গিয়েছিল তাঁর অভিনয়জীবনের গতি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই কঠিন সময়, আর্থিক চাপ এবং ঋণের বোঝা নিয়েও কী ভাবে নিজেকে ভাল রেখেছিলেন, সে কথা অকপটে জানিয়েছেন অভিনেতা।

২০০১ সালে ‘গদর’-এর পাশাপাশি মুক্তি পেয়েছিল ‘ইন্ডিয়ান’। সনীর দাবি, বক্সঅফিসে ‘ইন্ডিয়ান’ ছবিটি আমির খান অভিনীত ‘লগান’ ছবির তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ব্যবসা করেছিল। ‘গদর’-এর সাফল্য ছিল আরও বড়। কিন্তু সেই সাফল্যের পরেও তাঁর কাছে প্রত্যাশামতো কাজ আসেনি। অভিনেতার মতে, সেই সময়েই হিন্দি ছবির দুনিয়ায় বড় পরিবর্তন শুরু হয়। কর্পোরেট সংস্থার প্রবেশে বদলে যেতে থাকে ছবির ব্যবসা ও নির্মাণের ধরন।

প্রায় ৫৬ কোটি টাকার বোঝা ছিল অভিনেতার কাঁধে।

প্রায় ৫৬ কোটি টাকার বোঝা ছিল অভিনেতার কাঁধে। ছবি: সংগৃহীত।

এর পরেই ‘জো বলে সো নিহাল’ ঘিরে তৈরি হয় আর এক বিতর্ক। ছবির নাম ও বিষয়বস্তু নিয়ে শিখ সম্প্রদায়ের একাংশ আপত্তি করেছিল। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে দিল্লির একটি প্রেক্ষাগৃহে ছবির প্রদর্শনের সময় বিস্ফোরণের ঘটনায়। প্রাণ হারান এক জন, আহত হন বহু মানুষ। রাজনৈতিক চাপ এবং নিরাপত্তাজনিত আশঙ্কায় শেষপর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহ থেকে ছবিটি সরিয়ে নিতে হয়। সনীর অভিযোগ, রাজনীতির প্রভাব ক্রমশ ঢুকে পড়ছিল ছবির জগতে। তাঁর মতে, অভিনেতা-পরিচালকের কাজ বিনোদন দেওয়া— অযাচিত হস্তক্ষেপ ছাড়া তাঁদের সেই কাজ করতে দেওয়া উচিত।

পেশাগত অনিশ্চয়তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল আর্থিক চাপও। প্রযোজনা সংস্থা থেকে নিজের পরিচালিত ছবি— কোথাওই প্রত্যাশিত সাফল্য পাচ্ছিলেন না সনী। ‘দিল্লগি’, ‘ঘায়েল রিটার্নস’ কিংবা ‘পল পল দিল কে পাস’, কোনওটিই তেমন দারুণ ব্যবসা করতে পারেনি। ২০২৩ সালে প্রকাশ্যে আসে তাঁর আর্থিক সমস্যার খবর। জুহু অঞ্চলে তাঁর বাংলো নিলামে ওঠার খবর প্রকাশ্যে আসে। প্রায় ৫৬ কোটি টাকার ঋণ হয়ে গিয়েছিল তাঁর।

কোন মন্ত্রে আনন্দে থাকতেন সনী?

কোন মন্ত্রে আনন্দে থাকতেন সনী? ছবি: সংগৃহীত।

তবে অর্থের টানাপড়েনকে নিজের জীবনের আনন্দের পথে বাধা হতে দেননি সনী। তাঁর কথায়, ঋণে ডুবে থাকলেও, যথেষ্ট আনন্দে থাকতেন। তাঁর যুক্তি, সেই টাকা নিজের সম্পত্তি বিক্রি করেই মেটানোর উপায় ছিল তাঁর হাতে। ২০২৩-এ ‘গদর ২’-এর অভাবনীয় সাফল্য ফের বদলে দেয় তাঁর জীবন। দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে আলোচনায় আসেন অভিনেতা। তার পর ‘জাট’ ও ‘ইক্কা’য় কাজ করেছেন তিনি। সম্প্রতি রাজকুমার সন্তোষীর সঙ্গে ফের জুটি বেঁধেছেন ‘বঁটওয়ারা ১৯৪৭’-এ। ব্যর্থতা, ঋণ এবং দীর্ঘ অপেক্ষার পর সনীর কেরিয়ার যেন আবার নতুন অধ্যায়ের মুখে— আর সেই পথচলায় তাঁর নিজের কথাতেই সবচেয়ে বড় শিক্ষা, টাকা কমতে পারে, সাফল্য থমকে যেতে পারে, কিন্তু জীবনের আনন্দকে থামিয়ে রাখার কোনও কারণ নেই।

Bollywood Actor

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy