প্রতিশ্রুতি দিয়েও ২ কোটি টাকা জমা না দেওয়ায় বলিউড অভিনেতা রাজপাল যাদবকে ভর্ৎসনা করল সুপ্রিম কোর্ট। একাধিক বার নির্দেশ দেওয়ার পরেও আদালতের নির্দেশ পালন না করায় ৫ অক্টোবর ক্ষোভপ্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। বিচারপতিদের এই প্রসঙ্গে কড়া মন্তব্য, “এই ঔদ্ধত্যকে সঠিক জায়গায় নিয়ে আসতে হবে।”
চেক বাউন্স সংক্রান্ত দীর্ঘদিনের মামলায় রাজপালকে ১৫ সেপ্টেম্বর শেষ বারের মতো সুযোগ দিয়েছিল আদালত। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, মোট ৫ কোটি টাকার মধ্যে অন্তত ২ কোটি টাকা আদালতের নির্দিষ্ট দফতরে জমা দিতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশও পালন করেননি অভিনেতা। সোমবার মামলাটি শুনানির সময়ে তাঁর আইনজীবীর বক্তব্যেও ক্ষুব্ধ হয় আদালত। রাজপালের আইনজীবী বলেন, “অভিযোগকারীরা তো গরিব নন।”
চলতি বছর গোড়ার দিকে গ্রেফতার হয়েছিলেন রাজপাল।
এই মন্তব্য শুনে ক্ষোভপ্রকাশ করেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী। তিনি বলেন, “ওঁরা হয়তো আপনার চেয়ে বেশি ধনী। কিন্তু আপনি যতটা টাকা তাঁদের কাছ থেকে নিয়েছেন, সেই অর্থের নিরিখে তাঁরা গরিব। এই ঔদ্ধত্য দেখানোর উপযুক্ত জায়গা এটা নয়। কখন মুখ খুলতে হয়, সেটাও আপনার জানা উচিত। আপনার আসল জায়গা জেলই।”
সোমবার রাজপালের আইনজীবী ৫০ লক্ষ টাকার একটি ব্যাঙ্ক খসড়ার প্রতিলিপি আদালতে জমা দেন। তাঁর দাবি, ব্যাঙ্কে ওই টাকা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এর পরেই অভিযোগকারীর আইনজীবী রাজপালের বিরুদ্ধে সরব হন। তাঁর অভিযোগ, “তিনি চলচ্চিত্রের অভিনেতা। এখানেও অভিনয় করছেন। এই প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার প্রতি তাঁর কোনও সম্মান নেই।” রাজপালকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত। ৭ অক্টোবর মামলাটির পরবর্তী শুনানি হবে।
আরও পড়ুন:
উল্লেখ্য, অভিযোগকারীর দাবি, একটি ছবির জন্য রাজপাল যাদবকে ৫ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। সেই টাকা মেটানোর জন্য ২০১০ সালে তিনি ১ কোটি ৫ লক্ষ টাকা করে মোট সাতটি চেক দেন। কিন্তু সেই চেকগুলি বাউন্স করে। এর পর ২০১২ সালে দুই পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। সেখানে ঠিক হয়েছিল, সুদ-সহ প্রায় ১১ কোটি টাকা ফেরত দেবেন রাজপাল, তাঁর স্ত্রী এবং তাঁদের সংস্থা। কিন্তু সেই টাকাও এখনও পুরোপুরি ফেরত দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। সেই জল গড়ায় অনেক দূর।
এই চেক বাউন্সের মামলাগুলির সূত্রেই চলতি বছরের গোড়ায় ১০ দিন তিহাড় জেলে ছিলেন রাজপাল যাদব। অভিযোগকারীর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা জমা দেওয়ার পর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়। কিন্তু মামলাটির পুরোপুরি নিষ্পত্তি এখনও হয়নি।