কয়েক বছর পরে অভিনেত্রী স্বরা ভাস্কর ফের ‘পদ্মাবত’ বিতর্ক উস্কে দিলেন। ছবিতে ছিল অন্যতম প্রধান চরিত্র পদ্মাবতীর আগুনে ঝাঁপ দেওয়ার একটি দৃশ্য। ছবির শেষের দিকের সেই দৃশ্যের সমালোচনা করে পরিচালক সঞ্জয় লীলা ভন্সালীকে একটি খোলা চিঠি লিখেছিলেন স্বরা। সেই বিতর্ক আরও এক বার আলোচনায়।
ছবির শেষের দিকে এই দৃশ্যটি দেখানো হয়েছিল। আলাউদ্দীন খিলজীর বাহিনী রাজপুতদের পরাজিত করার পরে রানি পদ্মাবতী এবং চিতোরের অন্যান্য মহিলাকে বন্দি হওয়ার বদলে গণআত্মাহুতির পথ বেছে নিতে দেখা গিয়েছিল। এই দৃশ্যের সমালোচনা করে স্বরা বলেছিলেন যে, এরকম ভাবে বিষয়টি দেখানো ঠিক হয়নি। ধর্ষণের শিকার যে মহিলারা, তাঁদের কাছে ভুল বার্তা গিয়েছে। তাঁর বক্তব্য ছিল, ছবিতে যেন বোঝানো হয়েছে যে যৌনহিংসার শিকার হয়ে বেঁচে থাকার চেয়ে মৃত্যুই শ্রেয়। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, ধর্ষণ কি কোনও মহিলার জীবনের শেষ হয়ে যাওয়া বোঝায়? ছবির বেশ কিছু বিষয়কে তিনি ‘সমস্যাজনক’ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
সম্প্রতি দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানে স্বরা বলেন, “আমি ছবিটা দেখছিলাম। সেখানে ৮০০ জন মহিলা আত্মাহুতির পথে যাচ্ছেন। সেটাই ছবির গল্প। দৃশ্যটা দেখতে দেখতে আমার মনে হচ্ছিল, আমি যদি ধর্ষণের শিকার হতাম, তা হলে এই ছবি আমাকে কী বার্তা দিত? আমার মনে হত, আমি ভীতু। কারণ নিজের ‘সম্মান’ বাঁচাতে আমি আত্মহত্যা করিনি।”
আরও পড়ুন:
স্বরা ভাস্করের এই মন্তব্য নিয়ে সমাজমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়। কেউ তাঁকে ‘সম্পূর্ণ বোকা’ বলে কটাক্ষ করেন। কেউ আবার তাঁর মন্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করেন।
এক নেটাগরিক লেখেন, “এই মহিলা একেবারেই নির্লজ্জ। ওঁকে একঘরে করে মানসিক হাসপাতালে পাঠানো উচিত।” অন্য আর এক জন লেখেন, “সম্পূর্ণ বোকা এক জন মহিলা।” তবে বিপরীত মতও রয়েছে। অনেকেই স্বরার মন্তব্যকে সমর্থনও করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘পদ্মাবত’। ছবিতে আলাউদ্দীন খিলজীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন রণবীর সিংহ, পদ্মাবতীর চরিত্রে দীপিকা পাড়ুকোন এবং পদ্মাবতীর স্বামীর চরিত্রে ছিলেন শাহিদ কপূর।