টাইগার শ্রফের উপর হামলার ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য! মুম্বইয়ের অপরাধদমন শাখার তদন্তে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। খবর, শুধু টাইগার নন, বলিউডের একাধিক প্রথম সারির অভিনেতাকে নিশানা করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। অমিতাভ বচ্চন, আমির খান, অক্ষয় কুমার এবং সলমন খানের বাড়ির আশপাশে নজরদারিও চালানো হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। জানা গিয়েছে, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিলেন আমির। কিন্তু শেষ মুহূর্তে বদলায় পরিকল্পনা। কেন?
আমিরের তৃতীয় বিয়ে, গৌরী স্প্র্যাটের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ককে কেন্দ্র করে লরেন্স বিশ্নোই গোষ্ঠী প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছিল বলে খবর। গোষ্ঠীর তরফে দাবি করা হয়েছিল, আমিরের মতো ব্যক্তিরা ‘লভ জিহাদ’-এর প্রচার করছেন, যা তাঁদের সংস্কৃতির পরিপন্থী। এই ধরনের কাজ তাঁরা কোনও ভাবেই মেনে নেবেন না এবং শীঘ্রই এর জবাব দেবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এর আগে জুলাই মাসেও হুমকি পেয়েছিলেন আমির।
শেষমেশ আমিরের বদলে টাইগারকে নিশানা করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে জানা যাচ্ছে তদন্তে। কারণ, আমির খুব একটা জনসমক্ষে আসেন না। অন্য দিকে, একাধিক বার প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছে টাইগারকে। এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, টাইসন বিশ্নোই এবং আরজু বিশ্নোইয়ের নামে তৈরি সমাজমাধ্যমের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে এই হুমকি পোস্ট করা হয়েছিল।
পোস্টে লেখা হয়, “আমরা, আরজু বিশ্নোই এবং টাইসন বিশ্নোই (লরেন্স বিশ্নোই গোষ্ঠী), আমির খানের মতো ব্যক্তিদের মাধ্যমে আমাদের দেশে আমাদের সংস্কৃতির বিরুদ্ধে ‘লভ জিহাদ’-এর নামে এই কাজের প্রচার হতে দেখছি। আমরা এ সব বরদাস্ত করব না এবং খুব শীঘ্রই এর উপযুক্ত জবাব দেব। এই কাজ আমাদের সনাতন ধর্ম এবং দেশের বিরুদ্ধে। আমাদের ভাই-বোন এবং দেশবাসীকে কথা দিচ্ছি, যারা এই ঘৃণ্য কাজের প্রচার করবে, তাদের নিজেদের মতো করে উপযুক্ত জবাব দেব। তারকাখ্যাতির আড়ালে যারা এই কাজের প্রচার করছে, তাদের দম বন্ধ করে দেব।”
এ দিকে, টাইগারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনায় শেষ গ্রেফতার হয়েছে শনিবার। ইন্দৌর থেকে ২২ বছর বয়সি এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গোটা ঘটনায় মোট ধৃত ১১।
আরও পড়ুন:
সূত্রের খবর, প্রাণঘাতী হামলার ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেননি অভিনেতা। সেই কারণে এখনও পর্যন্ত পুলিশের কাছে নিজের বয়ানও নথিভুক্ত করাননি তিনি। অভিনেতার বয়ান রেকর্ড করতে তাঁর বাড়িতে গিয়েছিল মুম্বই পুলিশের অপরাধদমন শাখার একটি দল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুলিশ আধিকারিকদের অভিনেতা বলেছেন, “আমি গোটা ঘটনায় প্রচণ্ড ধাক্কা খেয়েছি। এই মুহূর্তে কিছু বলার মতো অবস্থায় নেই। কে আমার উপর এমন প্রাণঘাতী হামলা করতে চাইবে, আর কেনই বা করবে?” তিনি আরও বলেন, “কারও সঙ্গে আমার কোনও শত্রুতা নেই। তা হলে আমার উপর হামলা চালানো হল কেন?” এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত অভিনেতার গাড়ির চালক ফিরদৌস বালোচ এবং ভ্লগার উমেশ চৌহানের বয়ান নথিভুক্ত করেছে পুলিশ।