প্রতি বছর বাড়িতেই জগন্নাথপুজোর আয়োজন করেন ইন্দ্রাণী হালদার। মনের মতো করে জগন্নাথকে সাজান, ভক্তিভরে রীতি মেনে পুজো করেন অভিনেত্রী। বাড়িতে পুজো হলেও তার এলাহি আয়োজন। বুধবার রাত থেকেই তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে বাড়িতে। একদিকে যেমন জগন্নাথদেবকে সাজানো, অন্যদিকে তেমনই ভোগের প্রস্তুতি। নিজে হাতে রান্না করে জগন্নাথদেবকে ভোগ নিবেদন করবেন নায়িকা।
আনন্দবাজার ডট কম-কে ইন্দ্রাণী জানান, ‘‘বুধবার রাত থেকেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছি। রাতেই তৈরি করেছি পান্তা ভাত। জগন্নাথের পুজোয় এটি দিতেই হয়। পান্তা বানিয়ে তার মধ্যে গন্ধরাজ লেবু দিয়ে রাখি, এটাকে পকাল ভাত বলা হয়। আর ভোরে রান্না করব বাসন্তী পোলাও, অড়হড় ডাল, পনিরের ডালনা, খেজুর আমসত্ত্বের চাটনি। মিষ্টিতে দেওয়া হবে খাজা, মালপোয়া, রাবড়ি।’’
বাড়ির জগন্নাথপুজোয় ইন্দ্রাণী। ছবি: সংগৃহীত
জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রার জন্য তত্ত্বও সাজাচ্ছেন তিনি। বারো রকম ফল অর্পণ করবেন অভিনেত্রী। আর কী কী থাকছে এই বিশেষ তত্ত্বে? অভিনেত্রী বলেন, ‘‘বিদেশি চকোলেট দিয়ে একটি থালা তৈরি করেছি। আর নোনতা খাবারের মধ্যে চানাচুর, চিপস দিয়ে তৈরি করেছিন একটি বাক্স। এ ছাড়া আট রকমের জুস, ঠান্ডা পানীয় দিয়ে তৈরি করেছি একটি থালা। অন্য দুটি তত্ত্বের একটি চাল, ডাল, তেল, নুন দিয়ে, আর অন্যটি খই, মুড়কি, বাতাসা দিয়ে বানিয়েছি। এগুলো জগন্নাথকে অর্পণ করে তা মানুষের মধ্যে দান করে দেব। আর ভোগ অর্পণের জন্য কিনেছি তিনটি কাঁসার থালা, বাটি, গ্লাস।’’
আরও পড়ুন:
জগন্নাথ, বলরাম আর সুভদ্রার জন্য এসেছে পাঁচটি নতুন জামা। ইন্দ্রাণী যোগ করেন, ‘‘কাল রাতেই মূর্তি রং করেছি, সকালে সাজালাম। জগন্নাথের জন্য বিশেষ পোশাক কিনেছি, বেগনি রঙের ধুতির উপর মুক্তোর কাজ করা, সঙ্গে চাদর পরবেন জগন্নাথ। সোনার মুকুট ও কুড়িটা সোনার গয়না দিয়ে সাজাব জগদীশ্বরকে। আমি স্নানযাত্রার সময়ে পুরীতে গিয়ে একটি হলুদ বেনারসি কিনে এনেছি। তাতেই সাজব আমি।’’
প্রতি বছর স্নানযাত্রা হোক বা উল্টোরথ, পরিবার নিয়ে পুরীতে পৌঁছে যান ইন্দ্রাণী হালদার। এই বছর মায়ের শরীর খারাপ। তাই স্নানযাত্রায় পুরীতে গিয়ে জগন্নাথ দর্শন করলেও উল্টোরথে যেতে পারবেন কি না এখনও ঠিক নেই।