টেকনিশিয়ান স্টুডিয়োয় চলছিল ‘প্রতিজ্ঞা’ ধারাবাহিকের শুটিং। বৃষ্টিমুখর দিনে শট দিচ্ছিলেন ধারাবাহিকের নায়ক-নায়িকা রণজয় বিষ্ণু ও অভিকা মালাকার। তাঁদের রসায়ন ক্যামেরাবন্দি করলেন পরিচালক। শটশেষে মেকআপ রুমে গিয়ে এক কাপ কফি নিয়ে আড্ডা জমালেন নায়ক।
বিভিন্ন ধারাবাহিকে নায়ক-নায়িকার রসায়ন নিয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়। রণজয়-অভিকা জুটির রসায়ন পছন্দ করেছেন দর্শক। জুটি তৈরি হওয়ার গল্প বলতে গিয়ে রণজয় বলেন, ‘‘আমার কাছে রসায়ন তৈরি করা খুবই সহজ। ‘গুড্ডি’ ধারাবাহিকে আমি আর শ্যামৌপ্তি কথাই বলতাম না। তার বিভিন্ন কারণ ছিল। কিন্তু দর্শক কখনও তা বুঝতে পারেননি, তাঁরা আমাদের জুটিকে ভালবেসেছেন। আমাকে কলাগাছের সঙ্গে প্রেম করতে বললেও আমি স্বচ্ছন্দ। খাট, টেবিল, চেয়ার সব সমান আমার কাছে। আমার কাজটা আমি নিষ্ঠাভরে করি। চিত্রনাট্য পড়ে আমি একজন অভিনেতার মনন বোঝার চেষ্টা করি।’’
এ প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই অভিনেতার মত, ‘‘একটা হিন্দি ছবি করেছিলাম ‘ভিদান’ বলে। একজন সমকামীর চরিত্রে অভিনয় করেছিলাম। অন্তর্বাস পরেও অভিনয় করতে হয়েছিল। আমার কাছে অভিনয়ের ক্ষেত্রে নিজেকে ভাঙা গুরুত্বপূর্ণ। আমার আক্ষেপ, অভিনেতারা এত অর্থ উপার্জন করেন যেখান থেকে, তার জন্য সময় দেন না। অভিনয় অনুশীলন করাও খুব প্রয়োজনীয়।’’
‘গুড্ডি’ ধারাবাহিকের সময় আমি আর শ্যামৌপ্তি কথা বলতাম না: রণজয়। ছবি: সংগৃহীত
ধারাবাহিকের অভিনেতাদের প্রতিদিন টানা শুটিং করতে হয়। যাঁরা মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন, তাঁদের শরীর খারাপ হোক বা মনখারাপ, শুটিংয়ে রোজ হাজির থাকতেই হয়। সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত জীবনের ঙপর প্রভাব পড়ে কি? রণজয় বলেন, ‘‘মাথা পরিষ্কার থাকলে অভিনয়ে সুবিধা হয় কাজ করতে। আমি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝেছি, আমি বহু সময় অন্ধকার দেখি। সংলাপ মনে রাখতে অসুবিধা হয়। মন খারাপ থাকলে কাজের ক্ষেত্রেও চাপ পড়ে। তবে নিজেকে ঠিক রাখতে হয়। কারণ পর্দায় তো সাবটাইটেল যাবে না যে, আমার মনখারাপ। তাই নিজেকে বোঝাতে হয়।’’
মনখারাপ থাকলে কাজের ক্ষেত্রেও চাপ পড়ে, সংলাপ মনে রাখতে অসুবিধা হয়। ছবি: সংগৃহীত
জীবনের বিভিন্ন স্তরে মানুষের মনখারাপ হয়। মনখারাপ হলেও যে তার চিকিৎসা করা যায়, সে বিষয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করতেই রণজয় বলেন, ‘‘সম্প্রতি রশ্মিকা মন্দানার একটা সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম। তিনি বলেছিলেন, সবার বাড়িতে গিয়ে দেখুন, সকলেই কম বেশি ডিপ্রেশনে আছেন। যার যেটা আছে, সে সেটা নিয়ে খুশি নয়। আমরা বলতে পারব না, এটাই সঠিক পন্থা। কেউ বলতে পারবে না যে, এটা করলে সে ভাল থাকবে। একটা সময় দীর্ঘদিন মনোবিদকে দেখিয়েছি। ওষুধ খেতাম একটা সময়। এখনও আমি চিকিৎসার মধ্যেই আছি। নিজের মন নিজেকেই ঠিক করতে হয়। কঠিন সময় নিজেকেই পেরোতে হয়। নিজেকে ভালটাই রাখা আসল। এর কোনও ফর্মুলা হয় না। যা-ই হয়ে যাক, বেঁচে থাকতে হবে, খাবার খেতে হবে। আমি এখনও একটা খারাপ সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছি।’’
গান, কবিতা মানুষের মনখারাপের সঙ্গী। রণজয় বিষ্ণুর পছন্দ কবিতা। তাই এই মুহূর্তে জীবনের সবচেয়ে পছন্দের শায়রী শুনতে চাইলে অভিনেতা বলে ওঠেন তাঁর পছন্দের এক শায়রী— ‘‘কৌন কহতা হ্যায় কে মরনে কে বাদ ইনসানকো জ্বলায়া নেহি জাতা, ও আয়ি মেরে জানাজ়ে পর আপনি মেহবুব কো লেকে।’’